মৌলভীবাজারে প্রেস কার্ড তৈরীর হিড়িক—কার স্বার্থে?
সংগ্রাম দত্ত: দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী মৌলভীবাজার জেলা শহরে সম্প্রতি সাংবাদিক পরিচয়পত্র তৈরিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে শহরের কয়েকটি দোকানে ব্যস্ততার সঙ্গে হাজারো পরিচয়পত্র ছাপানো হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—এসব কার্ড কি সত্যিই পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য, নাকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে?
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তথাকথিত সাংবাদিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নামমাত্র পত্রপত্রিকা বা ‘প্রেস’ লেখা কার্ড ব্যবহার করে অনেকে সমাজে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এদের মধ্যে রিকশাচালক, মোটর ড্রাইভার, মুদি দোকানদার, মাছ বিক্রেতা, ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতাই যাদের সর্বোচ্চ—এমনকি অনেকে বাংলায় সঠিকভাবে দুই লাইন লিখতেও অক্ষম—তারাও সাংবাদিক পরিচয়ে সক্রিয়। ফলে সাংবাদিকতা পেশার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার জেলা শহরের এনটিভির প্রতিনিধি উমেদ আলী তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ ‘ভুয়া’ আইডি কার্ড ছাপানো হচ্ছে, যা নির্বাচনের দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একইভাবে গণমাধ্যমকর্মী সালাউদ্দিন শুভ তাঁর ফেসবুক পোস্টে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক বা প্রেস কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতার নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়ম পেশাটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ—প্রেস কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভুঁইফোড় ও নামধারী তথাকথিত সাংবাদিকরা কোনোভাবেই বৈধ স্বীকৃতি না পায়। সাংবাদিকতার মর্যাদা ও গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এখনই কঠোর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।



















