img

সুনামগঞ্জের ডিসির বিরুদ্ধে জামায়াত ইসলামীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ০৫:৪৯, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 সুনামগঞ্জের ডিসির বিরুদ্ধে জামায়াত ইসলামীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী।

গত সোমবার​ (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগে তিনি এমন দাবি জানান। অভিযোগের অনুলিপি সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে নাছির চৌধুরী উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. মোহাম্মদ শিশির মনির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন রুমমেট এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ডিসি সুনামগঞ্জে জামায়াতের ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসনে’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

নাছির অভিযোগ করেন, ইতোপূর্বে ডিসি ইলিয়াস দুর্নীতির দায়ে দু\'বার বদলি হলেও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনিরের তদবিরে স্বপদে বহাল থাকেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ে জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক জেলার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছেন। দিরাই-শাল্লা এলাকায় বাঁধের কাজে মনিটরিং কমিটি ও পিআইসিতে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। জামায়াত প্রার্থীর গাইডলাইন অনুযায়ী কেবল তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা এই প্রকল্পের অর্থ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি প্রার্থী নাছির চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে জেলার সবকটি উপজেলায় জামায়াত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হলেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এছাড়া ‘জুলাই বিপ্লবের’ যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার নামে সরকারি অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে। এর আগে সুনামগঞ্জের জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা উক্ত ডিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলেও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

চলমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমেও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এতে নাছির চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দিরাই-শাল্লা উপজেলায় জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনিরের পছন্দের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন এবং এর বিনিময়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ম্যানেজ করার একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম কারচুপির পরিকল্পনা করেছেন।

অভিযোগে নাছির চৌধুরী আরও উল্লেখ করেছেন, \'সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনী আসনেই ধানের শীষের জোয়ার বইছে। এই বিতর্কিত কর্মকর্তার কারণে বিএনপির প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ইতোপূর্বে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতেও এই কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। যদি তাকে অবিলম্বে অপসারণ না করা হয়, তবে নির্বাচনের দিন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়ী থাকবেন।\'

অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বক্তব্য জানতে তার সরকারি মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোবাইল ও ওয়াটসআপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন সাড়া দেননি।

​উল্লেখ্য, এরআগে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ২ কোটিরও অধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ ও ফুচকা জব্দ

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ কোটি ২০ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষধ ও ফুচকা জব্দ করেছে।

আজ (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিজিবির হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর একটি চৌকস আভিযানিকদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।  আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি সন্দেহভাজন ট্রাক আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সংকেত দিয়ে ট্রাকটি থামায়। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করে দেখা যায় যে, ট্রাকটিতে বহনকৃত ইটের নিচে বস্তার ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ঔষধ এবং ফুচকা লুকানো রয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত এসব অবৈধ পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের সিজারমূল্য আনুমানিক ২ কোটি ২০ হাজার টাকা। 

জব্দকৃত ভারতীয় ওষুধ ও ফুচকাগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান দমনে বিজিবির কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশীয় ওষুধ শিল্প রক্ষা এবং  অর্থনীতিকে সুসংহত রাখা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

সিলেটের খবর এর আরও খবর