img

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ, নতুন ১০% শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৫:২৩, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৩৮, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ, নতুন ১০% শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেটাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।  

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানান, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন কোনো ক্ষমতা প্রদান করে না। 

আদালতের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জনই এই শুল্কের বিপক্ষে মত দেন। তবে আদালতের এই রায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে বিশ্বের সকল দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবস্থাটি বাতিল হয়ে গেল। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প একে ‘জাতির জন্য অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বিচারপতিরা ‘বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা’ করছেন বলে দাবি করে তাঁদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। 

উল্লেখ্য যে, গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নজিরবিহীনভাবে শুল্কারোপ শুরু করেন। বাংলাদেশের জন্য এটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ সে সময় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রেকর্ড ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ দরকষাকষির পর চলতি মাসের শুরুতে হওয়া এক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এই শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল।

আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কের হিসেবে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। পূর্বে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ নিয়মিত শুল্কের সাথে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক মিলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছিল ৩৪ শতাংশে। আদালতের রায়ে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বাতিল হলেও ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে মোট হার কত দাঁড়াবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ভারতের মতো কিছু দেশের সাথে করা বিশেষ বাণিজ্য চুক্তিগুলো বহাল থাকতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন এবং ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন ব্যবহার করে তিনি আরও কঠোরভাবে শুল্ক আদায়ের পথে হাঁটবেন।

মার্কিন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকোর মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক হার সাময়িকভাবে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে। তবে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার প্রেক্ষিতে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। 

ট্রাম্পের ‘শুল্ক কূটনীতি’ বিশ্ববাণিজ্যে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার মাধ্যমে আরও ঘনীভূত হলো। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি খাতের জন্য এই অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এএফপি ও সিএনএন

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

হরমুজ দিয়ে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত ইরানের

প্রকাশিত :  ০৬:২৩, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের সীমা নির্ধারণ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো ১০ দফা প্রস্তাবের একটি হিসেবে এ শর্তের কথা জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস।

পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালির একদিকে ইরান, অপর দিকে ওমান। ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন যে সরবরাহ আসে, তার এক পঞ্চমাংশ আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দেয়, যা এখনও চলছে।

হরমুজ প্রণালি শুধু তেলেরই নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারেরও গুরুত্বপূর্ণ রুট। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বাঁধার পর এসব পণ্যের বাজারেও অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বিরতির এই সময়সীমায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি শর্তের শান্তি প্রস্তাব এবং ইরানের ১০টি শর্তের শান্তিপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।

তাস এর প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজিই হয়েছে দিনে অনধিক ১৫টি জাহাজের শর্ত দিয়ে। বলা হয়েছে, এই ১৫টি জাহাজের গতিবিধিও ইরানের কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রিত হবে। জাহাজ পরিবহন পর্যালোচনা করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক ররেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। উপসাগরীয় অন্য দেশগুলিকেও এই শর্তের ব্যাপারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাস-কে এ ব্যাপারে বলেছেন, “হরমুজ দিয়ে যে কোনো বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখন থেকে কঠোরভাবে ইরানের অনুমোদন এবং একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল কার্যকর করার ওপর নির্ভর করবে। আমাদের এই নতুন সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

সূত্র : তাস, ইন্ডিয়া টুডে

অর্থনীতি এর আরও খবর