img

ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে গেল সংযুক্ত আরব আমিরাত

প্রকাশিত :  ১৫:৫৫, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০২, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে গেল সংযুক্ত আরব আমিরাত

বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, জোটটির অন্যতম প্রভাবশালী নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরবের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমিরাতের সরে দাঁড়ানো ওপেক জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ওপেক ও ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো সাধারণত ঐক্য বজায় রেখেছে। তবে আমিরাতের এই পদক্ষেপ জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কৌশলগতভাবে ইতিবাচক হতে পারে। অতীতে ট্রাম্প ওপেকের বিরুদ্ধে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অভিযোগ এনে সমালোচনা করেছিলেন।

এদিকে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সময় আমিরাত অভিযোগ তোলে যে, ইরানের হামলার মুখে পড়লেও আরব মিত্রদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি তারা। এই অসন্তোষও জোট থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এর আগে সোমবার এক সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, লজিস্টিক সহায়তা থাকলেও রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, আরব লীগের কাছ থেকে দুর্বল প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত হলেও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর অবস্থান তাকে বিস্মিত করেছে।

সামগ্রিকভাবে, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

প্রকাশিত :  ১০:২৭, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি গ্যাস ও পেট্রোলজাত গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৮ লিটার) গ্যাস-গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস-গ্যাসোলিনের এই দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে দেশটিতে গ্যাসের দাম ৪ ডলারের বেশি উঠেছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। সেবার প্রতি গ্যালন গ্যাস বিক্রি হয়েছিল ৪ দশমিক ১৫ ডলারে।

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাস-গ্যাসোলিন বিক্রি হয়েছে ৩ দশমকি ১৫ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে অবশ্য গ্যাসের দাম সমান নয়। যেসব রাজ্যে তেল কিংবা গ্যাসের খনি আছে, যেমন টেক্সাস— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাস বা গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৮ ডলার। আবার যেসব রাজ্যে খনি নেই— যেমন ক্যালিফোর্নিয়া— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিন ৫ দশমিক ৯৬ ডলারেও বিক্রি হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত; কিন্তু ইরানি অবরোধের জেরে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে গড়ে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, গাল্ফ নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর