img

হাদি হত্যায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজনকে জড়িয়ে বড় ভাইয়ের বিস্ফোরক পোস্ট

প্রকাশিত :  ০৮:৩৭, ০৩ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৪০, ০৩ জুন ২০২৬

হাদি হত্যায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজনকে জড়িয়ে বড় ভাইয়ের বিস্ফোরক পোস্ট

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করা একটি পোস্ট দিয়েছেন তাঁর বড় ভাই শরীফ ওমর হাদি।

গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টগুলোতে তিনি দেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।

এর মধ্যে সর্বশেষ পোস্টে তিনি হাদি হত্যায় জামায়াত আমিরের এক পিএস জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন। আর আগেরটিতে অন্তর্বর্তী এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও এমপি-মন্ত্রী ‘সরাসরি জড়িত’ বলে দাবি করেন ওমর বিন হাদি। 

এই দুটি পোস্ট নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। 

এমনকি ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ওমর হাদির নিয়ন্ত্রণে আছে কি না তা নিয়েও সংশয় জানিয়েছেন কেউ কেউ।

প্রথম পোস্টে ওমর হাদি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। হাদি হত্যার বিচার না করলে আপনাকেও এরা হত্যা করবে। যেভাবে আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে।

হাদি হত্যার বিচার আপনি না করলে আপনাকে হত্যা করলেও কেউ বিচার করবে না। হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য রেড লাইন। হাদি হত্যার বিচার করুন।’

দ্বিতীয় পোস্টটিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জড়িত। হাদিকে ঢাকা-০৮ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রেসার দিছে আমাদের।’

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে কর্মরত (চুক্তিভিত্তিক) রয়েছেন ওমর বিন হাদি। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের পোস্ট দিতে পারেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। কেউ বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা তিনি মানেননি। 

গত বছরের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ব্যক্তিগত’ অথবা ‘পেশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’—এমন বিষয়ে ফেসবুকে ছবি দিতে ও লিখতে পারবেন না সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। শুধু উদ্ভাবনমূলক ও সরকারি কাজের ইতিবাচক দিক নিয়ে লিখতে ও শেয়ার করতে পারবেন কর্মকর্তারা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

মায়ের পচন ধরা লাশ: সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

প্রকাশিত :  ১৫:৪৭, ০৩ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই তার ছেলে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রত্যাহার হওয়া আনিসুর রহমান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ভিডিও ধারণ করে সিঅ্যান্ডএফকে ২ কাস্টম কর্মকর্তার হুমকি

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
আল জাজিরার অনুসন্ধান / দান করা মরদেহ ব্যবহৃত হচ্ছে ইসরায়েলের সামরিক প্রশিক্ষণে

এর আগে গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচন ধরে এবং তাতে পোকার উপস্থিতি দেখা যায়। নূর জাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। বাসাটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নূর জাহান বেগমের কক্ষসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর ও অবহেলিত।
মরদেহ উদ্ধারের সময়কার দৃশ্যও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবেশীরা বলছেন, একজন বৃদ্ধ নারী এমন অবস্থায় জীবন কাটিয়ে মৃত্যুবরণ করবেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জানা যায়, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন।
সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকলেও মায়ের এমন পরিণতি সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন।

আইনে প্রত্যেক সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালন করবেন বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর