img

ছয় গোল, হ্যাটট্রিক, দুই লাল কার্ড, পা ভাঙল কানাডার মিডফিল্ডারের! নাটকীয় ম্যাচে কাতারের হার

প্রকাশিত :  ০৭:৪৮, ১৯ জুন ২০২৬

ছয় গোল, হ্যাটট্রিক, দুই লাল কার্ড, পা ভাঙল কানাডার মিডফিল্ডারের! নাটকীয় ম্যাচে কাতারের হার

স্বাগতিক কানাডা ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে । জোনাথন ডেভিডের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকের এই ম্যাচে জোড়া লাল কার্ড দেখেছে কাতার। তবে একচেটিয়া আধিপত্য ও বড় জয়ের দিনটিতেও স্বাগতিক শিবিরে বিষাদ নামিয়ে এনেছে মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের পা ভাঙার মর্মান্তিক ঘটনা।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম স্থানে থাকা কানাডার বিপক্ষে ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের লড়াইয়ে মাঠে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট ছিল শুরু থেকেই। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কাইল লারিনের গোলে লিড নেয় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকাননকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বিপক্ষে ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন জোনাথন ডেভিড।

ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। এতে কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে যায়। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কানাডার কোচ জেসে মার্চকে কাঁদতে দেখা যায়। ফাউলের জন্য মাদিবোকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেওয়া হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। অনুতপ্ত মাদিবোকে এ সময় সতীর্থদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। চোটের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

কোনের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন নাথান সালিবা। গোল উদযাপনের সময় তিনি আহত সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে মাঠে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন। এরপর ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে কানাডা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন জোনাথন ডেভিড। সব মিলিয়ে তিনি এই তালিকার ষষ্ঠ খেলোয়াড়। এছাড়া ১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইতালির ৭-১, ১৯৫০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয়ের পর, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে কানাডা।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কাতারই প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল হজম করার লজ্জার রেকর্ড গড়েছে।

এই জয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কানাডা। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানো সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও সমান ৪ হলেও, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে ইরানের অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৪:৩৭, ১৯ জুন ২০২৬

নিজ দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে অংশ নিতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছে দেশটির জাতীয় ফুটবল দল।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন এক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অবস্থানসংক্রান্ত বিধিনিষেধকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের দুই দিন আগে আয়োজক দেশে পৌঁছে অনুশীলন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চেয়েছিল ইরান। ম্যাচ শেষে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে পরে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরানের এই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। এর ফলে ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে দলটি এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই তাদের শহর ত্যাগ করতে হবে।

তেহরানের কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা এসব শর্ত দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের মতে, এই বিধিনিষেধের কারণে দলের কোচিং স্টাফ ও কারিগরি দলের পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও কৌশল বাস্তবায়নে গুরুতর বিঘ্ন ঘটছে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখন ফিফার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হবে।