২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নতুন ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে গোল করে তিনি কেবল আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেননি, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিখিয়েছেন নতুন নতুন সব রেকর্ড।
আজ বুধবার (১৭ জুন) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অংশ নিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার অভিযানের শুরুতেই আসে এই অনন্য অর্জন।
এরপর গোল করে আরও একটি বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি পাঁচটি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করা ফুটবলারদের তালিকায় জায়গা করে নেন। এই কৃতিত্ব এর আগে অর্জন করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
মেসি ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল করেছেন। কেবল ২০১০ বিশ্বকাপেই তিনি গোলের দেখা পাননি।
এছাড়া এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন মেসি। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলার বিরল ক্লাবে যোগ দেন তিনি। এর আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা রোনালদো এবং বাদের আল-মুতাওয়া। তাদের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এই অর্জন নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
প্রকাশিত :
০৬:৪২, ১৭ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২১, ১৭ জুন ২০২৬
কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র এনে দিলেও ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি । ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে দলের ০-০ গোলের ড্র নিশ্চিত করেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন। তবে শেষ বাঁশি বাজার পর তাকে দেখা যায় অশ্রুসিক্ত চোখে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ম্যাচ শেষে ভোজিনহা জানান, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাশে ছিলেন না তার মা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারেননি তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কেপ ভার্দেকে সেইসব দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যাদের নাগরিকদের ভিসা ফি ছাড়াও সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হয়। অতিরিক্ত এই আর্থিক চাপের কারণে সময়মতো ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি ভোজিনহার মা।
আবেগঘন কণ্ঠে ভোজিনহা বলেন, ‘আমি কেঁদেছি কারণ আমি আমার দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। তারা আমার জীবনের সবকিছু ছিলেন। আর আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি। ভিসার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।’
আমি সারাজীবন এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৪০ বছর। ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করি। মাঝপথে খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম, কিন্তু স্বপ্নের জন্য লড়ে গেছি। আজকের অর্জন শুধু আমার নয়, পুরো দলের।’
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ভোজিনহা সাংবাদিকদের জানান, তার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং ভ্রমণের খরচ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। অর্থসংকটের কারণেই শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে থেকেই ছেলের খেলা দেখতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া সেই আবেগঘন বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তার গল্পে মুগ্ধ হন। অনেকেই মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপ শুধু গোল আর জয়-পরাজয়ের গল্প নয়; এটি মানুষের জীবনসংগ্রাম ও পারিবারিক সম্পর্কের গল্পও।
এদিকে এ ঘটনার পর নতুন এক ইতিবাচক খবর সামনে এসেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়ে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় ভিসা সহায়তা ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে যাতে তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।
জানা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। যদিও এখনও তার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে বা তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছেন এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম চলছে।
এখন দেখার বিষয়, কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচগুলোর কোনো একটিতে মা-ছেলের সেই বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলন ঘটে কি না।