img

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ফুটবলকে বিদায় জাপান অধিনায়কের

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ১২ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ফুটবলকে বিদায় জাপান অধিনায়কের

বিশ্বকাপ যাত্রা শুরুর মাত্র তিন দিন আগে বড় ধাক্কা খেল জাপান। দলের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার পায়ের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। ফলে তাকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে জাপানের দলে সুযোগ পেয়েছেন বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ফরোয়ার্ড শুতো মাচিনো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এন্দো বলেন, ‘আমি খেলতে না পারায় অবশ্যই হতাশ। তবে আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসবেই যখন জাপান বিশ্বকাপ জিতবে। তাই আসুন, আমরা সেই বিশ্বাস ধরে রাখি এবং দলকে সমর্থন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টেই যেন সেই মুহূর্ত আসে, সে জন্য জাপানের শক্তিকে একত্রিত করি।’

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে এন্দো লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আমি আরেকজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে জাপানকে সমর্থন করব।’

গত ফেব্রুয়ারিতে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পান এন্দো। ওই চোটে তার মৌসুম শেষ হয়ে যায়। পরে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি জাতীয় দলে ফেরেন। সেই ম্যাচে জাপান ১-০ গোলে জেতে।

তবে ওই ম্যাচে বিরতির পর আর মাঠে নামেননি তিনি। এরপর মেক্সিকোতে জাপানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পেও অস্বস্তি অনুভব করেন। পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি।

সোমবার জাপান দলের বিশ্বকাপ ঘাঁটি ন্যাশভিলে পৌঁছানোর পর অনুশীলনে যোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো ফিট হতে পারেননি এন্দো।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চোট পাওয়ার পর থেকে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাই আমার কোনো আক্ষেপ নেই। অবশ্যই আমি হতাশ যে এই বিশ্বকাপে খেলতে পারছি না।’

‘তবে তার চেয়েও বেশি গর্বের বিষয় হলো, কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে আমি এই দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং দলকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি, যেখানে বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্যকে স্বাভাবিকভাবে বলা যায়।’

২০১৫ সালে জাপানের হয়ে অভিষেক হয়েছিল এন্দোর। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং চারটি গোল করেছেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের হয়ে খেলেছেন। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জাপানের স্মরণীয় জয়ের ম্যাচেও মাঠে ছিলেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।

আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেন।


img

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৭:০৯, ১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪২, ১১ জুন ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দেশের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে পরাজিত করল টাইগাররা।

টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটে বলের দারুণ পারফরম্যান্সে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ।

ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানে জয় লাভ করে বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে মেহেদি হাসান মিরাজরা।

এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ওয়ানডেতে হারায় বাংলাদেশ। ২১ বছর পর চলতি সিরিজে দীর্ঘদিনের সেই খরা কাটানোর পাশাপাশি সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

আজ বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। 

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের টার্গেট তাড়ায় ৩৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

দলের জয়ে ৪২ রান করে করেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪০ ও ২২ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া করে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মার্নাস লাবুশেন। তিনি ৮৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৮ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন জেভিয়ার বার্টলেট।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। ২ উইকেট নেন তানভির ইসলাম।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর দলের হাল ধরেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৮৬ রানে আউট হয়ে ফেরেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা সৌম্য সরকার। তিনি ৪৭ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৪২ রান করে আউট হন।

সৌম্য আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন দাস। তার সঙ্গে জুটি গড়ার আগেই আউট হয়ে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি দলীয় ৯৮ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন। তার আগে ৫৩ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৪২ রান।

দলীয় ১২২ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন লিটন কুমার দাস। তিনি ১৮ বলে ২১ রান করে আউট হন। দলীয় ১৪৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন আগের ম্যাচে ম্যাচসেরা হওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ১৪ বলে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। 

ষষ্ঠ উইকেটে ৪৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দলের জয়ে ৫৫ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ৪০ রান করেন হৃদয়। ২২ বলে এক চার আর এক ছক্কায় ২২ রান করেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।