img

বিশ্বকাপের রঙিন সূচনা: তিন দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, থাকছে যেসব চমক

প্রকাশিত :  ০৯:১২, ১১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের রঙিন সূচনা: তিন দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, থাকছে যেসব চমক

এবারই প্রথম বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—এই তিন আয়োজক দেশের তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

একসময় একটি দেশ, একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান—এটাই ছিল বিশ্বকাপের প্রচলিত রীতি। ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আয়োজন করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল কেবল সিউলে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ধারারও পরিবর্তন এসেছে। তিন আয়োজক দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আলাদা আলাদা আয়োজন করেছে।

মেক্সিকোতে প্রথম পর্দা উঠছে

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি, আর তার ৯০ মিনিট আগে রাত ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো এই আয়োজনে থাকবে আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনা, লোকসংগীত এবং ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পের প্রদর্শনী। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’ পরিবেশন করবেন কলম্বিয়ান তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ার বার্না বয়।

এ ছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পীদের মধ্যে আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার টাইলা মঞ্চে পারফর্ম করবেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধন উপলক্ষে মেক্সিকো সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। স্কুল বন্ধ, সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ এবং বিশেষ ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

কানাডার আয়োজনে নোরা ফাতেহি

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে টরন্টো স্টেডিয়ামে, যেখানে স্বাগতিক কানাডা খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠান, আর ম্যাচ শুরু হবে রাত ১টায়।

কানাডার ইতিহাস ও গৌরবময় মুহূর্তগুলোকে তুলে ধরতে একটি বিশেষ কাউন্টডাউনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়, ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্সসহ আরও অনেকে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে তারকাদের ঝলক

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান এবং সকাল ৭টায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে।

বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও গল্পভিত্তিক মঞ্চায়নের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা ও টাইলারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

এক থিমে তিন আয়োজন

মেক্সিকো, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেস—তিন শহরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও উপস্থাপনা আলাদা হলেও মূল বার্তা একটাই। সংস্কৃতি, সংগীত ও ফুটবলের মাধ্যমে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বিভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতোয় গাঁথার শক্তিকেই তুলে ধরা হবে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে।

বিশ্বকাপের তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রযোজনার দায়িত্বে আছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযোজক মার্কো বালিচ। এর আগে তিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিটি শো আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করলেও সবগুলোই ফুটবলের ঐক্যের বার্তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।


img

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৭:০৯, ১১ জুন ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দেশের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে পরাজিত করল টাইগাররা।

টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটে বলের দারুণ পারফরম্যান্সে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ।

ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানে জয় লাভ করে বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে মেহেদি হাসান মিরাজরা।

এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ওয়ানডেতে হারায় বাংলাদেশ। ২১ বছর পর চলতি সিরিজে দীর্ঘদিনের সেই খরা কাটানোর পাশাপাশি সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

আজ বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। 

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের টার্গেট তাড়ায় ৩৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

দলের জয়ে ৪২ রান করে করেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪০ ও ২২ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া করে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মার্নাস লাবুশেন। তিনি ৮৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৮ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন জেভিয়ার বার্টলেট।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। ২ উইকেট নেন তানভির ইসলাম।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর দলের হাল ধরেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৮৬ রানে আউট হয়ে ফেরেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা সৌম্য সরকার। তিনি ৪৭ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৪২ রান করে আউট হন।

সৌম্য আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন দাস। তার সঙ্গে জুটি গড়ার আগেই আউট হয়ে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি দলীয় ৯৮ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন। তার আগে ৫৩ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৪২ রান।

দলীয় ১২২ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন লিটন কুমার দাস। তিনি ১৮ বলে ২১ রান করে আউট হন। দলীয় ১৪৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন আগের ম্যাচে ম্যাচসেরা হওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ১৪ বলে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। 

ষষ্ঠ উইকেটে ৪৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দলের জয়ে ৫৫ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ৪০ রান করেন হৃদয়। ২২ বলে এক চার আর এক ছক্কায় ২২ রান করেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।