img

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

প্রকাশিত :  ০৭:৩০, ০৬ জুন ২০২৬

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সেরা দল নির্ধারণের মহারণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের এই ফাইনাল শুধু একটি ট্রফির জন্য নয়; এটি মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইতিহাস রচনার লড়াইও। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অনন্য এক অর্জনের সুযোগ। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিততে পারলে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের সেরা দল হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে স্বাগতিক ভারত মাঠে নামছে হারানো শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়ে।

ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্বে ভারত বাংলাদেশের অপরাজেয় পথচলায় ধাক্কা দেয় ৩-০ গোলের জয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া দেখালেও সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পিটার বাটলারের দল। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসাবে। তার বিশ্বাস, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই কৌশল রপ্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য আগেও দেখিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভারতেরও লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।

একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষা। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা শেষ বাঁশির। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি। কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৯:৩৮, ০৫ জুন ২০২৬

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপেরই কোনো দলের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তপু-হামজাদের দল।

শুক্রবার (৬ জুন) রাতে সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ইতিহাস গড়ার দিনে কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সান মারিনোর (২১১) চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের (১৮১) শুরুর একাদশে ছিলেন না শমিত সোম ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। তবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই রেখেছিল দাপট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে ১৯ মিনিটেই জালে জড়ায় বল। শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে উড়ন্ত হেডে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।

তবে লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি। ৩১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জিকোপেত্তি। ৩৭ মিনিটে বড় সুযোগ পেয়েও দলকে এগিয়ে দিতে পারেননি সাদ উদ্দিন।

সমতায় রেখে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ আক্রমণের ধার বাড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। তিন পরিবর্তন নিয়ে লাল-সবুজের দল বলও রাখে পায়ে। গোল আসে ম্যাচের শেষদিকে। ৮৬ মিনিটে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা হন তপু বর্মন। তার দৃষ্টিনন্দন গোলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২-১ গোলের।

বাকি সময়ে সান মারিনো পারেনি গোল শোধ দিতে। তাতেই ইউরোপের মাটিতে আসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকেরা মেতে ওঠেন ইতিহাস গড়া জয়ের আনন্দে।