img

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১২:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

নাহিদ রানার অসাধারণ বোলিংয়ের পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং নৈপূণ্যে ৬ উইকেটের দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায় খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের সামনে। এমন \'বাঁচা-মরার\' লড়াইয়ে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে দাপুটে ক্রিকেটই উপহার দিল মিরাজের দল। নাহিদ রানার ফাইফারের পর ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৮৭ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল স্বাগতিকরা। আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি তাই রূপ নিয়েছে অলিখিত ফাইনালে।

শান্ত রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতাটুকু সারেন তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। অন্যদিকে ৩১ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন হৃদয়।

ফিফটির দেখা পেয়েই রিটায়ার্ড হার্ট শান্ত

অবশেষে ওয়ানডে ক্রিকেটে হাফ সেঞ্চুরির খরা কাটালেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টানা ১৩ ইনিংস পর দেখা পেলেন কাঙ্ক্ষিত ফিফটির। তবে মাইলফলক ছোঁয়ার পরপরই ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছেড়েছেন শান্ত। ৭১ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে মাঠ ছাড়ায় ক্রিজে নতুন ব্যাটার মিরাজ। ২৮.১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬৭ রান। 

শততম ম‍্যাচে ব‍্যাট হাতে ব‍্যর্থ লিটন

নিজের শততম ওয়ানডে ব‍্যাট হাতে রাঙাতে পারলেন না লিটন দাস। লেনক্সের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফক্সক্রফটের ক‍্যাচ হয়ে ফেরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১১ বলে ৭ রান করেন লিটন। ২৫ ওভারে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ১৫৫। ক্রিজে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গী তাওহিদ হৃদয়।

তানজিদের বিদায়ে ভাঙল জুটি

দ্রুত দুই উইকেট হারালেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তানজিদ তামিম। এরপর সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তবে ব্যক্তিগত ৭৬ রানে ডাউন দ্যা উইকেটে খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে শান্তর সঙ্গে ১২০ রানের জুটি।

তানজিদ-শান্ত জুটিতে সেঞ্চুরি

শুরুর ধাক্কা সামলে শতরানের জুটি গড়েছেন তানজিদ-শান্ত। ক্লার্কসনকে স্ট্রেইট ড্রাইভে চার মেরে ৯৯ বলে নিজেদের জুটির সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ।

ছক্কায় তানজিদের ঝড়ো ফিফটি

ইনিংসের শুরুতে দ্রুত সাইফ-সৌম্যকে হারিয়ে চাপ সামাল দেন তানজিদ ও শান্ত। তাদের ব্যাটে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৭ রান তোলে বাংলাদেশ। আগ্রাসী ব্যাটিং বজায় রেখে দুর্দান্ত এক স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৩ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ।

শান্ত-তানজিদ জুটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

সাইফ-সৌম্যকে হারানোর ধাক্কা সামলে দারুণ জুটিতে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। প্রতি ওভারে বাউন্ডারি আদায় করে রানের চাকা সচল রেখেছেন তারা। ব্লেয়ার টিকনারের করা সপ্তম ওভারের শেষ বলে তানজিদের দারুণ এক বাউন্ডারিতে দলীয় ফিফটিও পূর্ণ করে ফেলেছে স্বাগতিকরা। ৭ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫১ রান। 

অহেতুক শটে টিকলেন না সৌম্য

সাইফ হাসানের পর সৌম‍্য সরকারকেও হারাল বাংলাদেশ। উইলিয়াম ও’রোকের বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। কিন্তু একই ওভারের শেষ বলে অহেতুক \'পেরিস্কোপ\' শট খেলতে গিয়ে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১১ বলে ৮ রান করেন সৌম্য। মাত্র ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

প্রথম ওভারেই সাইফের বিদায়

সিরিজ বাঁচানোর ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে দারুণ বোলিং উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।  নাহিদ রানার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফারে সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। তবে ১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানের উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

নাথান স্মিথের করা প্রথম ওভারের প্রথম পাঁচ বলে দুটি চার মেরে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাইফ। তবে ওভারের শেষ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১২ রান। ক্রিজে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গী হিসেবে আছেন একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। শুরুতেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কিউই ব্যাটারদের চেপে ধরেন নাহিদ-শরিফুলরা। অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসেই জোড়া আঘাতে হেনরি নিকোলস (১৩) ও উইল ইয়াংকে (৭) ফেরান নাহিদ রানা। অধিনায়ক টম ল্যাথামকে (১৪) ফেরান সৌম্য সরকার।

চতুর্থ উইকেটে ওপেনার নিক কেলির সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি গড়েন মুহাম্মদ আব্বাস (১৯)। তবে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে আব্বাসকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভাঙেন রানা। একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির পথে ছুটতে থাকা কেলিকে ৮৩ রানে থামান শরিফুল ইসলাম। সেট ব্যাটার কেলির বিদায়ের পর কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

বোলিংয়ে আগুন ঝরানো নাহিদ রানা নিজের শেষ ওভারে জেইডেন লেনক্সকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন। ২৩ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। রানার ৫ উইকেটের পাশাপাশি শরিফুল নেন ২টি উইকেট। এ ছাড়া তাসকিন, সৌম্য ও রিশাদ পান একটি করে উইকেট।


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৯:৩৮, ০৫ জুন ২০২৬

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপেরই কোনো দলের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তপু-হামজাদের দল।

শুক্রবার (৬ জুন) রাতে সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ইতিহাস গড়ার দিনে কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সান মারিনোর (২১১) চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের (১৮১) শুরুর একাদশে ছিলেন না শমিত সোম ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। তবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই রেখেছিল দাপট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে ১৯ মিনিটেই জালে জড়ায় বল। শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে উড়ন্ত হেডে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।

তবে লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি। ৩১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জিকোপেত্তি। ৩৭ মিনিটে বড় সুযোগ পেয়েও দলকে এগিয়ে দিতে পারেননি সাদ উদ্দিন।

সমতায় রেখে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ আক্রমণের ধার বাড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। তিন পরিবর্তন নিয়ে লাল-সবুজের দল বলও রাখে পায়ে। গোল আসে ম্যাচের শেষদিকে। ৮৬ মিনিটে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা হন তপু বর্মন। তার দৃষ্টিনন্দন গোলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২-১ গোলের।

বাকি সময়ে সান মারিনো পারেনি গোল শোধ দিতে। তাতেই ইউরোপের মাটিতে আসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকেরা মেতে ওঠেন ইতিহাস গড়া জয়ের আনন্দে।