img

বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে শাস্তি পেলেন ক্রিকেটারসহ ৫ জন, চারজনের নাম প্রকাশ

প্রকাশিত :  ১৪:০৮, ০৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৫, ০৭ মে ২০২৬

বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে শাস্তি পেলেন ক্রিকেটারসহ ৫ জন, চারজনের নাম প্রকাশ

২০২৫ সালের বিপিএলে একজন ক্রিকেটারসহ অন্তত চারজনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাশাপাশি, ভিন্ন এক আসরে দুর্নীতির অভিযোগে আরও একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

বহুল সমালোচিত ২০২৫ বিপিএল আসরটি নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত শেষে এবার শাস্তির পথে হাঁটল বিসিবি। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএল ২০২৫ ফিক্সিং কাণ্ডে তদন্ত শেষে শাস্তি পাচ্ছেন ক্রিকেটারসহ ৪ জন। এর মধ্যে ক্রিকেটার হিসেবে শাস্তি পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। এ ছাড়া টিম ম্যানেজার লাবলুর রহমান, ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ। 

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালা) এর অধীনে একটি 'এক্সক্লুশন অর্ডার' বা বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। নোটিশ পাওয়ার পর জনাব রহমান তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী কোড বা বিধিমালার (দ্য ‘কোড’) বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, দলের কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি (বিপিএল টি-টোয়েন্টি) এর ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তের প্রেক্ষিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বেটিং বা জুয়ায় সম্পৃক্ততা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগগুলো মূলত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে জারি করা নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তার (ড্যাকো) সাথে সহযোগিতা না করার সাথে সম্পর্কিত। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন:

মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার):

অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: কোনো জোরালো কারণ ছাড়াই ড্যাকোর (DACO) তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার বা ব্যর্থ হওয়া (অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে নোটিশ পালনে ব্যর্থতাসহ)।

অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি বা বিলম্ব করা (তথ্য ও যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রমাণ গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করাসহ)।

মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক):

অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: তদন্তে ড্যাকোকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার বা ব্যর্থ হওয়া।

অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্ত কাজে বাধা প্রদান বা বিলম্ব করা এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংস করা।

অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার):

অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যেকোনো বিষয়ে বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণ করা।

রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার):

অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল বা খেলার যেকোনো পরিস্থিতির ওপর বাজি ধরা বা বাজিতে অংশ নেওয়া।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর কমিটি বিসিবির কাছে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিশাল তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট এরপর তুলে দেওয়া হয় বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে। এরপর যাচাই বাছাই করে  ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ পান। 

সবশেষ বিপিএলের নিলামে ছিলেন না এনামুল হক বিজয়-মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ আরো বেশ কিছু ক্রিকেটার। মূলত বিপিএলের ২০২৫ মৌসুম আসরে ফিক্সিং সন্দেহের কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে খেলতে দেয়া হয়নি এবারের বিপিএলে। যদিও বিসিবির চূড়ান্ত রিপোর্টে তাদের নাম নেই। 

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন যারা

প্রকাশিত :  ০৫:৩৯, ১৮ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে ৬৮ বছর পর বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ফুটবল বিশ্ব, যেখানে একদিনে অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচই ড্রয়ে শেষ হয়। তবে পরদিনই বদলে যায় সেই চিত্র। গোলশূন্যতা ও সমতার ধারার পরিবর্তে মাঠে দেখা যায় আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক, আর একের পর এক ম্যাচে বয়ে যায় গোলের বন্যা।
ফুটবল বিশ্বের বর্তমান তিন মহাতারকা—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের পর জোড়া গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। চার তারকাই নিজেদের দলকে জয় এনে দিয়েছেন। এদের মধ্যে একমাত্র মেসি হ্যাটট্রিক করেছেন।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে ম্যাচের নায়ক হন কেইন। ২০১৮ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গিয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে গ্যারি লিনেকারের পাশে নাম লেখান। ৩১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনি কতটা কার্যকর।

দিনের সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখান এই তারকা।

৩৯তম জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডও গড়েন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।

দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের হয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছেন আর্লিং হালান্ড। ইরাকের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই জোড়া গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ৫৭তম গোল করে হালান্ড জানিয়ে দিলেন, নরওয়ে এবার শুধু অংশগ্রহণ করতেই আসেনি, শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুত।

গ্রুপ ‘আই’-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফ্রান্সকে জয় এনে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা প্রথম ম্যাচেই দেখিয়েছেন নিজের পরিচিত ধার। দুরন্ত গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভেঙে দিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

কাগজে কলমে বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি। তার ঝুলিতে রয়েছে তিন গোল। আর দুই গোল করে এই তালিকায় মেসির পরেই আছেন ফোলারিন বালোগান, কাই হাভার্টজ, ইয়াসিন আয়রি, হ্যারি কেইন, এলিজাহ জাস্ট, আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট প্রদান করা হয়। একাধিক খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্টের সংখ্যা। এরপরও সমতা থাকলে টুর্নামেন্টে কে কম সময় মাঠে ছিলেন, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হয় চূড়ান্ত অবস্থান।