কুলাউড়ার সন্তান থেকে দেশের শীর্ষ শিল্পপতি: আজম জে. চৌধুরীর অনন্য যাত্রা
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের এক কিশোরের স্বপ্ন একদিন ছড়িয়ে পড়বে দেশের শিল্প, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও আর্থিক খাতে—এ কথা হয়তো তখন কেউ ভাবেননি। কিন্তু মেধা, সততা, অধ্যবসায় ও দূরদর্শিতাকে পুঁজি করে সেই কিশোরই আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি আজম জে. চৌধুরী।
১৯৫৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুলাউড়া উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। শৈশব ও বেড়ে ওঠা কেটেছে কুলাউড়ার সবুজ-শ্যামল পরিবেশে। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি আজও কুলাউড়ার গর্ব, যাঁর সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।
শিক্ষাজীবনের শুরু কুলাউড়াতেই। তিনি নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে তিনি চাকরির নিরাপদ পথ বেছে নেননি। ১৯৭৭ সালে একটি ছোট তেল-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান দিয়ে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেন। সেই উদ্যোগই সময়ের পরিক্রমায় রূপ নেয় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ইস্ট কোস্ট গ্রুপে (East Coast Group)। বর্তমানে এ গ্রুপের কার্যক্রম জ্বালানি, শিপিং, ব্যাংকিং, বীমা, চা, লজিস্টিকসসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিস্তৃত।
আজম জে. চৌধুরী বর্তমানে এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি (MJL Bangladesh PLC)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশের শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি প্রাইম ব্যাংক পিএলসি (Prime Bank PLC)-এর সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, ব্যবসায়িক প্রজ্ঞা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের করপোরেট অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
দেশের শিল্পোন্নয়ন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১৯ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার–ডিএইচএল বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা লাভ করেন। এই পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ইস্ট কোস্ট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের জ্বালানি খাতের বিকাশ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।
কুলাউড়ার সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর গল্প আজম জে. চৌধুরীকে অনন্য করে তুলেছে। তাঁর জীবন যেন একটি বার্তা—গ্রামের মাটি থেকে উঠে এসেও কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মানুষ তাই গর্ব করেই বলেন, আজম জে. চৌধুরী শুধু একজন সফল শিল্পপতি নন; তিনি কুলাউড়ার স্বপ্ন, বাংলাদেশের শিল্পায়নের এক উজ্জ্বল পথিকৃৎ।



















