img

ইংল্যান্ডকে আটকাতে কুসংস্কারের আশ্রয় নিচ্ছেন আর্জেন্টাইনরা

প্রকাশিত :  ১০:৩৪, ১৫ জুলাই ২০২৬

ইংল্যান্ডকে আটকাতে কুসংস্কারের আশ্রয় নিচ্ছেন আর্জেন্টাইনরা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে কুসংস্কার ও সৌভাগ্যের নানা আচার-অনুষ্ঠানে ভরসা রাখছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। কেউ ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের নাম লেখা কাগজ ফ্রিজারে রেখে ‘অশুভ শক্তি’ আটকে রাখার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ বহুদিনের বিশ্বাসে আঁকড়ে ধরে পালন করছেন এমন সব রীতি, যেগুলো তাদের ধারণায় জাতীয় দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।

আর্জেন্টিনায় এসব বিশ্বাস ও আচারকে বলা হয় ‘কাবালা’। সমর্থকদের ধারণা, এসব কুসংস্কার বা নির্দিষ্ট রীতিনীতি দলের ভাগ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খবর রয়টার্স।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যখন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন অনেক সমর্থক অতীতের সাফল্য এনে দেওয়া সেই রীতিনীতিগুলোই আবার অনুসরণ করছেন।

অনেকেই প্রতিপক্ষের নাম উচ্চারণ করতে চান না। কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই জার্সি পরেন, যদিও সেটি ধোয়া হয়নি। কেউ একই আসনে বসেন, আবার কেউ একই খাবার খান। তাদের বিশ্বাস, এসবের কোনো পরিবর্তন হলে দলের সৌভাগ্য নষ্ট হতে পারে।

১৩ বছর বয়সী সমর্থক ইনেস মুত্রি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের একটা নিজস্ব রীতি আছে। আমরা প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড় ও গোলরক্ষকের নাম একই কাগজে লিখে ফ্রিজারের ভেতরে রেখে দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমরা হ্যারি কেইনের নাম ফ্রিজে রাখব, কারণ সে তাদের সর্বোচ্চ গোলদাতা।’

যে দেশে ফুটবল প্রায় ধর্মের মতো আবেগের বিষয়, সেখানে সমর্থকদের মতে, এসব রীতি অন্তত এমন একটি ম্যাচের আগে মানসিক নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দেয়, যার ফল আসলে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ কার্লোস বিলার্দো নানা ধরনের কুসংস্কারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। মাঠে নামার সময় কে কোন ক্রমে মাঠে প্রবেশ করবেন, সেটিও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন। তার সময় থেকেই ‘কাবালা’ আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের একটি ব্যক্তিগত রীতির কথা স্বীকার করেছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে তিনি বলেন, ‘আমি ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করি এবং এরপর ক্রুশচিহ্ন আঁকি।’

সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু রীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এবারের বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এমন অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বরফের ব্লকের মধ্যে আটকে থাকতে দেখা যায়। এর প্রতীকী অর্থ হলো, তারা যেন দৌড়াতে, গোল করতে বা গোল বাঁচাতে না পারেন।

এই ধারণা বাস্তব জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হুয়ান পাবলো কালভো বলেন, তিনি জুড বেলিংহামের নামও ফ্রিজে রাখবেন, কারণ তার মতে ইংলিশ মিডফিল্ডার ‘অসাধারণ একজন খেলোয়াড়’। তবে এরপরও তিনি আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচ আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে দুই দলের একাধিক স্মরণীয় নকআউট লড়াই—সবই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ।

সেমিফাইনাল উপলক্ষে কালভো পরবেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা যে ধরনের জার্সি পরেছিলেন, সেই নকশার একটি জার্সি।

তিনি বলেন, ‘মেসি প্রায় সব শিরোপাই জিতেছে। কিন্তু এই ম্যাচটি বিশেষ, কারণ এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে, সে আগে কখনও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়নি।’

অনেক সমর্থকের মতে, ‘কাবালা’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একই কাজ বারবার করা। আর্জেন্টিনা একটি ম্যাচ জিতলে পরের ম্যাচেও দিনের প্রতিটি বিষয় একইভাবে পুনরাবৃত্তি করতে হবে—একই মানুষ, একই আসন, একই জার্সি, এমনকি সম্ভব হলে একই খাবারও।

ইনেস মুত্রি জানান, তিনি আরও আট বন্ধুর সঙ্গে ম্যাচটি দেখবেন। তারা প্রত্যেক ম্যাচেই একই টুপি পরেন এবং একই জায়গায় বসেন।

তার ভাষায়, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা অন্য সব ম্যাচের মতোই খুব স্নায়ুচাপের হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ম্যাচটা ভালো হবে। দারুণ উপভোগ্য হবে।’


খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর

প্রকাশিত :  ১৩:১৬, ১৫ জুলাই ২০২৬

চলমান বিশ্বকাপে ম্যাচ অফিশিয়াল ও রেফারিদের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতমূলক সুবিধা দেওয়া হয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। এ দাবিতে চালু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশনে ইতোমধ্যে ৯৮ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার এই পিটিশন ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তবে সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার দাবি, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই, বরং এগুলো সবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রটনা। 

\'আর্জেন্টিনা আউট ডটকম\' (argentinaout.com)—এ নামক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, ফিফা এবং ম্যাচ কর্মকর্তারা টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছেন। 

পিটিশনে বলা হয়, ‘বিজয়ী যদি আগেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে অন্য দলগুলো কেন প্রতিযোগিতা করবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে সবাইকে সমান সুযোগ দিন।’

এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত শেষ ষোলোর (রাউন্ড অফ সিক্সটিন) আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে মেসির পেনাল্টি মিস এবং ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ ১৩ মিনিটে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩টি গোল করে নাটকীয় জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

তবে ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিশর। তাদের অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর মাধ্যমে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হলেও, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া ফাউলটি ভিএআর-এ পর্যালোচনা করা হয়নি। মিশরের দাবি, আর্জেন্টিনার সেই গোলটি বাতিল করে উল্টো তাদেরকে পেনাল্টি দেওয়া উচিত ছিল।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি ফিফার সমালোচনা করেন, ‘আমি পরিণতির কথা না ভেবেই বলছি—এটি সাজানো ম্যাচ। যদি আর্জেন্টিনাকেই জেতাতে হয়, তাহলে অন্য দলগুলোকে বিশ্বকাপে আনার দরকার কী? ফিফা শুধু মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চায়। তারা \'ফেয়ার প্লে\'র কথা বলে, কিন্তু আমরা মাঠে তার কোনো প্রমাণ দেখিনি।‘

তবে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে আগে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সব অভিযোগ নাকচ করে তিনি তার যুক্তিতে বলেন, বর্তমান আধুনিক ফুটবলে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির যুগে কোনো নির্দিষ্ট দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে রেফারি বা ফিফা কর্তৃক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

ইতিহাসের টান টেনে স্কালোনি আরও যোগ করেন, ১৯৮৬ সালেও (যখন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল) বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের জন্য এসব সমালোচনা একেবারেই নতুন কিছু।

খেলাধূলা এর আরও খবর