img

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট জব্দ

প্রকাশিত :  ০৬:৫৪, ৩১ জুলাই ২০২৬

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট জব্দ

ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট জব্দ

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঝিপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে বিজিবির মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অত্র ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন সীমান্ত সড়কের মাঝিপাড়া এলাকা দিয়ে ইয়াবা ও বিদেশি সিগারেটের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ প্রেক্ষিতে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ এর নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ বিজিবির একটি আভিযানিকদল সীমান্ত সড়কের মাঝিপাড়া ১৬ কিলোমিটার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে হাতে ব্যাগ নিয়ে উক্ত এলাকায় প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় তারা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি

৭.৬২ মি.মি. বিদেশি (চায়না) পিস্তল, ৭ রাউন্ড 

তাজা গুলি এবং ১০ কার্টুন বিদেশি Patron সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সিগারেটের ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)-এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে মারিশ্যা জোন নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক টহল পরিচালনা করে আসছে। চোরাকারবারীরা বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে চোরাচালানের চেষ্টা করলেও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তা প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবির গোয়েন্দা ও আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

‘সবাই মিলেমিশে খাই’ বলা সেই খাদ্য কর্মকর্তাসহ ৩ জন বরখাস্ত

প্রকাশিত :  ১১:৩১, ৩১ জুলাই ২০২৬

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির (ওএমএস) জন্য বরাদ্দ করা আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য পরিদর্শক ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন-কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।

এর আগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার গোপনে ধারণ করা একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় ওএমএস চাল-আটা বিক্রির জন্য প্রতিদিন ২ টন চাল ও ২ টন আটা বরাদ্দ থাকে। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা পেতেন না। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।

ভুক্তভোগী সাবেরা বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরে বলা হতো আটা শেষ, কিন্তু চাল পাওয়া যেত। পরে জানতে পারি, বরাদ্দ অনুযায়ী আটা বিক্রিই করা হচ্ছিল না। গরিব মানুষের হক এভাবে লুটপাট হবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

‎এ বিষয়ে জানতে খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।” ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর