img

দেশজুড়ে ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল অব্যাহত, গ্রাহকের প্রশ্ন ‘চুরি না ডাকাতি’

প্রকাশিত :  ১৫:২২, ০১ আগষ্ট ২০২৬

দেশজুড়ে ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল অব্যাহত, গ্রাহকের প্রশ্ন ‘চুরি না ডাকাতি’

প্রতি বছরের মতো এবারও জুন-জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দেশজুড়ে অভিযোগের ঝড় উঠেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও জুন মাসে বিল কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। একই অভিযোগ এসেছে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড—উভয় ধরনের মিটারের গ্রাহকদের কাছ থেকেই।

গ্রাহকদের দাবি, বাসায় নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি, বরং লোডশেডিংও ছিল। তারপরও  বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা তারা পাচ্ছেন না। ক্ষোভে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এটা কি চুরি না ডাকাতি?

দেশে বর্তমানে প্রায় পাঁচ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এর বড় অংশ এখনো পোস্টপেইড মিটার ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হয় না। কোথাও অনুমাননির্ভর বিল করা হয়, আবার কোথাও কয়েক মাসের ইউনিট একসঙ্গে হিসাব করে বিল দেওয়া হয়। ফলে অনেক গ্রাহক উচ্চতর ট্যারিফ স্ল্যাবে চলে গিয়ে অতিরিক্ত বিলের মুখে পড়ছেন।

বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মিটার রিডিংয়ে অনিয়ম, বিলিং ত্রুটি এবং কয়েক মাসের ইউনিট একসঙ্গে যোগ হওয়ার মতো কারণে অনেক সময় বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তবে খাতসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, অর্থবছরের শেষে রাজস্ব আয় বা সিস্টেম লসের হিসাব নিয়েও কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন রয়েছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় একই চিত্র

আদাবরের এক বাসিন্দার মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত দেড় হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও জুনে তার বিল আসে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। পরে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে জানা যায়, মিটার রিডিংয়ে একটি ডিজিট ভুল হওয়ায় এমন বিল হয়েছিল। সংশোধনের পর বিল নেমে আসে ১ হাজার ৪৬০ টাকায়।

নিকেতনের এক গ্রাহকের মে মাসে বিল ছিল প্রায় ৬ হাজার ৮৪২ টাকা। জুনে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৯০৯ টাকা। নারায়ণগঞ্জের এক গ্রাহকের বিল ৬ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের ১ হাজার ৭০০ টাকার বিল বেড়ে প্রায় ৪ হাজার টাকা হয়েছে, আরেকজনের ৬ হাজার টাকার বিল হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসি ছাড়াই এক গ্রাহকের বিল ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৭৬৬ টাকা হয়েছে। কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি ফ্যান ও একটি বাল্ব ব্যবহারের পরও এক গ্রাহকের হাতে এসেছে ৭ হাজার ২০০ টাকার বিল।

হবিগঞ্জে আবার এক নারী গ্রাহকের নামে ভুলবশত ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল ইস্যু হয়। পরে কর্তৃপক্ষ সেটিকে কম্পিউটারজনিত ত্রুটি বলে সংশোধন করে।

প্রিপেইড মিটারেও অভিযোগ

শুধু পোস্টপেইড নয়, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার সূত্রাপুর থানার প্যারিদাস রোডের গ্রাহক ইসমাইল হোসেন জানান, মাত্র ১৫ দিনে প্রায় ৬ হাজার টাকার রিচার্জ করতে হয়েছে, যেখানে অন্য মাসে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় পুরো মাস চলে যেত।

আরেক গ্রাহক সোহেল আহমদ অভিযোগ, কয়েক দিনের ব্যবধানে মিটার থেকে বারবার বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, যদিও বাসায় কেবল ফ্যান, লাইট ও ফ্রিজ ব্যবহার করা হয়। নেসকোর এক গ্রাহকের দাবি, এক হাজার টাকা রিচার্জ করার তিন দিনের মধ্যেই প্রায় ৩৫০ টাকা কমে যায়।

ক্ষু্ব্ধ গ্রাহকদের মন্তব্য

সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের এই অনিয়ম, অবহেলাকে চুরি-ডাকাতির সাথে তুলনা করে অনেক গ্রাহক সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের দোষারোপ করেন। তারা বলতে চান, বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ডিমান্ড চার্জ ১০০ টাকা উঠিয়ে নেয়া হল, জনগণকে এটা আর পরিশোধ করতে হবে না; কিন্তু এখনো প্রতিমাসে ঠিকই ডিমান্ড চার্জ কেটে নেয়া হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী কি এটা জানেন, না জেনেও চুপ করে আছেন? দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তির ওয়াদাও যদি এভাবে খেলাপ হয় তাহলে জনগণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

উল্লেখ্য, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ব্যাপক অভিযোগের পর গত ২ জুলাই বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সব বিতরণ কোম্পানিকে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত, বিলিং বা কারিগরি ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিক সংশোধন এবং অসদুপায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, রাজশাহীতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ভূতুড়ে বিল বাতিল, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে নতুন বিল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিল সমন্বয় এবং বিশেষ অভিযোগ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। মিটার রিডিং ও বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এমন সমস্যা চলতেই থাকবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ সেল চালু করা হয়েছে। সেখানে যোগাযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


img

‘ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী’

প্রকাশিত :  ১৪:২১, ০১ আগষ্ট ২০২৬

আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসছে। শনিবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ যেন বাড়ে, তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্থানীয় প্রায় ২৫টি শিল্প এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন ওনাদের সাথে তারা ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেও তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
এর আগে সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সাক্ষাতের বিষয়বস্তু তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরত এসেছে। একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বহমান রয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে নীতিগুলো নিয়েছেন সেটিকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়, বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে সুসম্পর্ক রয়েছে…বহুমাত্রিক এবং বহুপক্ষীয়, সেই সম্পর্কটাকে একটা ‘ডিপ অ্যান্ড ইকোনমিক টাইজের’ মাধ্যমে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বলেছে, এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, বাণিজ্য বাড়ানো যায়, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখে এবং বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে কীভাবে নীতি সহায়তা দেওয়া যায়-এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, রপ্তানি ও আমদানি কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেগুলো নিয়েও যেমন বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তেমনি সামনের দিনগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ যেন বাড়ে, তার একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ২৫টি শিল্প এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর এবং তার নেতৃত্বের ওপর বিশ্বব্যাপী আস্থার প্রতিফলন হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশে তার নাগরিকদের ভ্রমণ সর্তকতা শিথিল করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ মার্কিন বিনিয়োগকারী এবং সবার জন্য উন্মুক্ত, এ কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সবাই যেন এখানে আসেন এবং এদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রায় কীভাবে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারছে, সেটি যেন সবাই খুঁজে দেখেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটি একটি ভিন্ন মাত্রায় যাবে এবং তার ওপর ভিত্তি করে আমরা আরো বেশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এখানে আকৃষ্ট করব। বাংলাদেশে ইনশাল্লাহ আরো বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমাদের যে ‘মাল্টি ফ্যাসিলিটেড অ্যাটাচমেন্ট’ রয়েছে, যে ‘অপরচুনিটি’ রয়েছে, একটা পার্টনারশিপের মাধ্যমে এটাকে ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক এ পথযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে ছিল, বাংলাদেশের সাথে থাকবে, পাশে থাকবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা ওনারা প্রদর্শন করেছেন, যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন সেটার জন্য আমরা সাধুবাদ জানাই।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সহকারি প্রেস সচিব নাজমুল হক।