img

রাবিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ

প্রকাশিত :  ০৬:২১, ২৭ আগষ্ট ২০২৬

রাবিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছন ও দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং ওই দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাতেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাবি মেডিকেল সেন্টারের এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে পেয়েছি। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা একটু আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে আমরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’

শিক্ষার্থীরা জানান, টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি। একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।

পরে এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একাডেমিক ভবন ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবন’-এ হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা জবাব হিসেবে রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন ‘জাবির ইবনে হাইয়ান ভবন’-এ হামলা ও ভাঙচুর চালান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমরা বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা তদন্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা দোষী, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্থ জানালা। ছবি: সংগৃহীতরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্থ জানালা। ছবি: সংগৃহীত

উপ-উপাচার্য এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্যরা হলেন- দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

চুয়েটে শাটডাউন: ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই দপ্তরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য। ফটকে তিনি কেবল ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকে দেওয়া তালা ভেঙে তিনি নিজের দপ্তরে যান।

সরেজমিন সকালে উপাচার্য ভবনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে রয়েছেন। তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন রয়েছেন। জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একসাথেই ভেতরে প্রবেশ করেছি।’

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে তাকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এর প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

এরই অংশ হিসেবে উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে ওই দিন থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। এ কারণে ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে এত দিন চুয়েট ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন তিনি।


 

শিক্ষা এর আরও খবর