img

লন্ডনে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ফান্ডরেইজিং, ৫০ হাজার পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ২৭ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৯, ২৭ আগষ্ট ২০২৬

লন্ডনে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ফান্ডরেইজিং, ৫০ হাজার পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি

বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের এক ফান্ডরেইজিং ইভেন্ট রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডনের নিউবেরি পার্কস্থ অ্যাল্ডারবোরো সাউথের ফোর্ড স্পোর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল ক্লাবে  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের অন্যতম ফাউন্ডার ট্রাস্টি, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারের পার্মানেন্ট মেম্বার এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার আলহাজ মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন। সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোমের ফাউন্ডার এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিছবাহ জামাল ও ইয়াং ট্যালেন্ট প্রেজেন্টার তামান্না মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং পিস হোমের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

উল্লেখ্য, সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটির কয়েকজন সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৫ সাল থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করা হয়।ইতিপূর্বে লন্ডনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং চ্যানেল এসের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ২৪ মে ২০২৬ লন্ডনের গ্র্যান্ড মেরিডিয়ানে লাইফ মেম্বারদের সম্মানে একটি অনুষ্ঠান ও ফান্ডরেইজিং আয়োজন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় রেডব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় নতুন লাইফ মেম্বার সংগ্রহের লক্ষ্যে ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন নিজ উদ্যোগে এ ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বারা অব রেডব্রিজ কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর বার্ট জন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল এস ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান, সেক্রেটারি সলিসিটর নাসির উদ্দীন, হাসপাতালের ফাউন্ডার ট্রাস্টি ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল শফিক এবং ডেপুটি ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মনজুর উস সামাদ চৌধুরী মামুন।

অনুষ্ঠান সফল করতে বিশেষ সহযোগিতা করেন মার্কেটিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং হাসপাতালের ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন এবং হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান।

পরে ডা. ওমর মোহাম্মদ শাফির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মেডিকেল টিমের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আবদেল রহমান আল আশকার, শিয়েনা মার্টিন, মরগান ইগরেমন্ট, ডিনা রায়, আবরার আইমান, আচেলা আগাডা, মারকমল মিরজারাকিমভ, ওমর হামিদ, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের নাতনি পারিহান ওসমান এবং ভাগ্নে ইসরাহ হালিম।

পরবর্তীতে ফান্ডরেইজিং পর্ব শুরু হলে অতিথিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এ সময় মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের সহধর্মিণী সুফিয়া খানম উদ্দিনের নাম নতুন ট্রাস্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে নতুন লাইফ মেম্বার হিসেবে নাম ঘোষণা করেন সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের ফাউন্ডার মিছবাহ জামাল ও নাহিদা মিছবাহ, ওসমান মোহাম্মদ রাব্বি, ডা. মোহাম্মদ ওমর শাফি পিএইচডি, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা নঈম উদ্দিন রিয়াজ, ফেরদৌসী জান্নাত আখতার, আতাউর খান, মাহবুবা জান্নাত মোহিনী, বিলকিস পারভিন, হিসমা বেগম, সাজনা খান, রওশন আহমেদ, গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট আফসার হোসেন এনাম, কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, জাবেদুর রহমান, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের পেট্রন মোহাম্মদ ওয়ারিছ আলী, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কবির আহমেদ, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহিন চৌধুরী, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ট্রেজারার এনামুল হক এনাম, গ্রেটার চারখাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জয়নুল চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরী, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভির প্রেজেন্টার সুজিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ সেন্টারের লাইফ মেম্বার ফখরুল আম্বিয়া, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক উদ্দিন, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, পেট্রন প্রফেসর মিসবাহ কামাল এবং পেট্রন নাজমুল হুদা।

এছাড়া সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের কয়েকজন পেট্রনও হাসপাতাল ফান্ডে অনুদান প্রদান করেন।

মাসিক জাকাত ফান্ডে স্ট্যান্ডিং অর্ডারের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন ও মিসেস সুফিয়া উদ্দিন, ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, মিসেস মাহবুবা আহমেদ, শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মতিউর রহমান খোকন, নাবিল চৌধুরী, ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি, এলিন চৌধুরী, আমিনা বেগম, মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, ফারুক উদ্দিন ও সুজিয়া চৌধুরী।

ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশ নেন বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ট্রাস্টি ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার ইকবাল হোসেন বুলবুল, ডা. সৈয়দ মাসুক আহমদ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্টের জয়েন্ট সেক্রেটারি নিয়াজ চৌধুরী সুভন, মাহবুবা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান কোরেশি, পারভেজ আহমেদ, আতিকুর রহমান লিটন, আবদাল হোসেন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, আলফিন শাহরিন, ডেইভ, ডা. আলী খিজির, আব্দুল হালিম, মোহাম্মদ আনজাম চৌধুরী, ইউকে গ্রেটার দেওলগ্রামের মোহাম্মদ সুলতান আহমদ, শাহিনা খানম, নাবিল চৌধুরী, জুবের খান, মিছবাহ উদ্দিন, ট্রাস্টি ও ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল সামাদ, চ্যানেল এসের চিফ রিপোর্টার রেজাউল করিম মৃধা, সিনিয়র টিভি রিপোর্টার কামরুল আই রাসেল, এটিএন বাংলা ইউকের তানভির তারেক, টিএস চ্যানেলের শওকাত ইসলাম ফরাজি ও তানিয়া ফরাজি, মিসেস হাসনা বেগম, শাহাদাত মনির, নাঈম আহমেদ জয়সহ আরও অনেকে।

বক্তারা বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও ফান্ডরেইজিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্পনসর ও সহযোগিতা প্রদান করে স্টেটাম রিয়েল এস্টেট, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোম, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট, কুশিস হোমমেইড নাগা পিকলস, আপেল রিয়েল এস্টেট, সাপোর্টিং কেয়ার রেডব্রিজ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্ট ইউকে, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, গ্রেটার দেওলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, গ্রেটার চারখাই ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা, ব্রিটিশ বাংলাদেশি সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ এবং চ্যানেল টিএস।

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত অতিথি, দাতা, লাইফ মেম্বার, ট্রাস্টি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্পনসরদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডনে আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউকের উদ্যোগে ‘দ্য গ্র্যান্ড মিলাদুন্নবী মাহফিল ২০২৬অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১২:৫০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর পবিত্র জন্ম, তাঁর অনুপম চরিত্র, মানবতার প্রতি ভালোবাসা এবং উম্মতের প্রতি তাঁর অসীম মমত্ববোধ স্মরণে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘দ্য গ্র্যান্ড মিলাদুন্নবী মাহফিল ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার, ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লন্ডনের দ্য অ্যাট্রিয়াম-এ আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, শিক্ষক, কমিউনিটি নেতা, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আল ইসলাহ ইউকে\'র সদস্যবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সভাপতি ছাহেবজাদা হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউকের সভাপতি হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী এবং উপস্থাপনায় ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী ও প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি মাওলানা খায়রুল হুদা খান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের সভাপতি হাফিজ মাওলানা কয়েছ উজ জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর মহান চরিত্র এবং সীরত অনুসরণের গুরুত্বের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ভালোবাসা কোনো আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; এটি একজন মুমিনের অন্তরের গভীরতম অনুভূতি এবং ঈমানের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রকাশ। রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবন ছিল মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তাঁর কথা, কাজ, আচার-আচরণ, পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার, দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি মমতা এবং ন্যায়বিচার—সবকিছুই মানুষের জন্য অনুসরণীয়।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. ছিলেন সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, ধৈর্য, দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার সর্বোত্তম আদর্শ। যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের প্রতিও তিনি ক্ষমা ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতিম, মিসকিন, দুর্বল, প্রতিবেশী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি তাঁর যে মমত্ববোধ ছিল, তা মানবতার ইতিহাসে অনন্য।

আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, মিলাদুন্নবী সা.-এর মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত রাসুলুল্লাহ সা.-এর আগমনকে স্মরণ করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করা, তাঁর সীরাত আলোচনা করা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের জন্য নিজেদের নতুন করে প্রস্তুত করা। শুধু মাহফিলে অংশগ্রহণ বা প্রশংসা করাই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত রাসুলপ্রেম হলো তাঁর আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক ভালোবাসা ও নৈতিক উন্নতির জন্য রাসুলুল্লাহ সা.-এর সীরাতকে জীবনের পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবন ও চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের অন্তরে রাসুলপ্রেম জাগিয়ে তোলা অভিভাবক, আলেম ও সমাজের দায়িত্ব। মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকারী অন্যান্য আলেম-উলামারাও মহানবী সা.-এর পবিত্র জীবন, তাঁর নবুওয়তি দায়িত্ব, উম্মতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সাবেক সভাপতি হযরত আল্লামা আবদুল জলিল বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন মানবতার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত। তাঁর সীরাত শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য জীবন পরিচালনার পথনির্দেশ। তিনি মুসলমানদেরকে নবীজির চরিত্র নিজেদের জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।

লতিফিয়া উলামা সোসাইটির সভাপতি মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা শেহাব উদ্দিন বলেন, রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবন যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, তাঁর প্রতি ভালোবাসা তত গভীর হবে। তিনি বলেন, মিলাদুন্নবী সা.-এর মাহফিলের অন্যতম তাৎপর্য হলো সীরাত ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নবীজির আদর্শে জীবন গঠনের প্রেরণা সৃষ্টি করা।

লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি ইউকের সেক্রেটারি মুফতি আশরাফুর রহমান নবীজির ইরহাসাত তুলে ধরে বলেন, রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ তাঁর সুন্নাহকে ভালোবাসা ও অনুসরণ করা। তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবনচরিত অধ্যয়নের প্রতি উৎসাহিত করেন।

অন্যান্য বক্তাগণও তাঁদের বক্তব্যে রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহ অনুসরণ এবং মুসলিম সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম. এ. কাদির আল হাসান, দারুল হাদীস লতিফিয়াহর ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. আবদুল কাহহার, বায়তুল আমান মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালিক, লন্ডন ডিভিশনের সহ সভাপতি মাওলানা আবদুল জলিল-সহ আরও অনেকে।

মাহফিলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু আলেম, ইমাম-খতিব ও কমিউনিটি নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির সভাপতি মুফতি মাওলানা ইলিয়াস হুসাইন, আল ইসলাহ\'র সহসভাপতি মাওলানা সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী, উপদেষ্টা জনাব ইমদাদ হুসাইন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, ওয়েলশ ডিভিশনের সভাপতি হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ, সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সদস্য কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী, মাওলানা আবদুল আউয়াল হেলাল, মাওলানা মো. আবদুল কুদ্দুছ, জনাব বদরুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ হাজী আবদুস সালাম, জনাব সদরুল ইসলাম, মাওলানা মো. মুসলেহ উদ্দিন, দেওয়ান মনজুর আহমদ চৌধুরী, হাজী আবুল কাসেম, হাজি সিরাজ খান, জনাব মিজান খানসহ আরও অনেকে।

মাহফিলে পবিত্র কুরআন থেকে হৃদয়গ্রাহী কিরাত পরিবেশন করেন কারী হুসাইন আহমদ। এরপর মহানবী সা.-এর শানে নাশিদ পরিবেশন করেন মাওলানা সুলতান আহমদ, মামুন রশিদ, আহমদ নিয়াজ ও কবির হুসাইন। তাঁদের সুমধুর পরিবেশনা উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।

শেষ পর্বে দারুল হাদীস লতিফিয়াহর প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাওলানা আনহার আহমদ পবিত্র মিলাদ শরিফ পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই দরুদ ও সালাম পাঠে অংশ নেন এবং মহানবী সা.-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

মাহফিলের শেষ পর্যায়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মুসলমানদের জন্যও বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে সমগ্র মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর আগমনের স্মরণকে অর্থবহ করতে হলে তাঁর ভালোবাসাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে, তাঁর সীরাত অধ্যয়ন করতে হবে এবং তাঁর সুন্নাহ ও মহান চরিত্রকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মাহফিলের আয়োজক আনজুমানে আল ইসলাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, অতিথি এবং সর্বস্তরের মুসল্লিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিম সমাজ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সা.-এর ভালোবাসা, সীরাতচর্চা, সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইসলামী মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর