img

জিসিএসই পরীক্ষায়ও টাওয়ার হ্যামলেটসের শিক্ষার্থীদের সাফল্য অব্যাহত

প্রকাশিত :  ২০:২৭, ২১ আগষ্ট ২০২৬

জিসিএসই পরীক্ষায়ও টাওয়ার হ্যামলেটসের শিক্ষার্থীদের সাফল্য অব্যাহত

এ লেভেল পরীক্ষার পর জিসিএসই পরীক্ষায়ও অসাধারন ফলাফল বয়ে এনেছে টাওয়ার হ্যামলেটস বারার শিক্ষার্থীরা। তারা সার্বিকভাবে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন। ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণার পর স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে ।

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শুভেচ্ছা জানাতে এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে সোয়ানলি সেকেন্ডারী স্কুলে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস, কাউন্সিলার ফয়সাল আহমেদ।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান “জিসিএসই-তে অসামান্য ফলাফল অর্জনকারী সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন\" জানিয়ে বলেন, \"আমি জানি, এই অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি তাদের পরিবার, শিক্ষক এবং স্কুলের স্টাফদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।\"

মেয়র আরো বলেন, \" জিসিএসই-পরবর্তী জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের সামনে বহু সুযোগ অপেক্ষা করছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যে পথই বেছে নিক না কেন, আমি তাদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি। তাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থনে সবসময়ই পাশে থাকবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।”

কেবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস, কাউন্সিলার ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমাদের তরুণদের মেধা ও কঠোর অধ্যবসায় উদযাপনের দিন আজ। ফলাফলপ্রাপ্ত প্রত্যেককে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা চাই প্রতিটি তরুণ-তরুণী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ গ্রহন করুক। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে শিশু ও তরুণদের জন্য সর্বোত্তম সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সোয়ানলি স্কুলের এক্সিকিউটিভ হেড টিচার কবির মিয়া তাঁর স্কুলের সাফল্যে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা এ বছর স্কুলের ইতিহাসে সেরা রেজল্ট বয়ে এনেছে। আমাদের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী ৭ থেকে ৯ গ্রেড অর্জন করেছে, যা পূর্বের এ গ্রেডের সমতুল্য উচ্চ মানের ফলাফল। এছাড়া ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী স্ট্রং পাস (গ্রেড ৫ বা তার বেশি) এবং ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী সিকিউর পাস (গ্রেড ৪ বা তার বেশি) অর্জন করেছে।

“স্কুলের টিচার্স ও স্টাফদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অভিভাবকসুলভ সাপোর্ট স্টাফদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।

হেডটিচার আরো বলেন, “আজ স্কুলের জন্য বছরের সবচেয়ে সেরা দিন, আমরা শিক্ষার্থীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এই অসাধারণ সাফল্য উদযাপন করতে পেরেছি। টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি কমিউনিটি স্কুল হিসেবে তাদের এই যাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।”

উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তরুণদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এটি দেশের একমাত্র কাউন্সিল, যেখানে এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং অল্পসংখ্যক কাউন্সিলের মধ্যে একটি, যেখানে ইউনিভার্সিটি ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুদান অব্যাহত রয়েছে। কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর পর থেকে কাউন্সিল ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান বিতরণ করেছে এবং চলমান অর্থায়ন পর্বে আরও ২ মিলিয়ন পাউন্ড বিতরণ করা হবে।

এছাড়া, টাওয়ার হ্যামলেটস ছিল দেশের প্রথম লোকাল অথরিটি, যেখানে সকল প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বজনীন বিনামূল্যের স্কুল মিল চালু করে। একই সঙ্গে, এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন স্কুল ইউনিফর্ম অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

কাউন্সিলের ইয়ুথ সার্ভিস, ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটস স্কুল-সময়ের বাইরে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক, মানসিক ও শারীরিক দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সুযোগ প্রদান করে।

যেসব শিক্ষার্থী ফলাফল পাওয়ার পরও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে অনিশ্চিত, তারা এই সেবার মাধ্যমে সরাসরি, টেলিফোনে অথবা ভিডিও কলে ক্যারিয়ার পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। বিস্তারিত তথ্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডনে আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউকের উদ্যোগে ‘দ্য গ্র্যান্ড মিলাদুন্নবী মাহফিল ২০২৬অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১২:৫০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর পবিত্র জন্ম, তাঁর অনুপম চরিত্র, মানবতার প্রতি ভালোবাসা এবং উম্মতের প্রতি তাঁর অসীম মমত্ববোধ স্মরণে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘দ্য গ্র্যান্ড মিলাদুন্নবী মাহফিল ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার, ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লন্ডনের দ্য অ্যাট্রিয়াম-এ আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, শিক্ষক, কমিউনিটি নেতা, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আল ইসলাহ ইউকে\'র সদস্যবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সভাপতি ছাহেবজাদা হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউকের সভাপতি হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী এবং উপস্থাপনায় ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী ও প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি মাওলানা খায়রুল হুদা খান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের সভাপতি হাফিজ মাওলানা কয়েছ উজ জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর মহান চরিত্র এবং সীরত অনুসরণের গুরুত্বের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ভালোবাসা কোনো আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; এটি একজন মুমিনের অন্তরের গভীরতম অনুভূতি এবং ঈমানের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রকাশ। রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবন ছিল মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তাঁর কথা, কাজ, আচার-আচরণ, পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার, দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি মমতা এবং ন্যায়বিচার—সবকিছুই মানুষের জন্য অনুসরণীয়।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. ছিলেন সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, ধৈর্য, দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার সর্বোত্তম আদর্শ। যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের প্রতিও তিনি ক্ষমা ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতিম, মিসকিন, দুর্বল, প্রতিবেশী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি তাঁর যে মমত্ববোধ ছিল, তা মানবতার ইতিহাসে অনন্য।

আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, মিলাদুন্নবী সা.-এর মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত রাসুলুল্লাহ সা.-এর আগমনকে স্মরণ করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করা, তাঁর সীরাত আলোচনা করা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের জন্য নিজেদের নতুন করে প্রস্তুত করা। শুধু মাহফিলে অংশগ্রহণ বা প্রশংসা করাই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত রাসুলপ্রেম হলো তাঁর আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক ভালোবাসা ও নৈতিক উন্নতির জন্য রাসুলুল্লাহ সা.-এর সীরাতকে জীবনের পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবন ও চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের অন্তরে রাসুলপ্রেম জাগিয়ে তোলা অভিভাবক, আলেম ও সমাজের দায়িত্ব। মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকারী অন্যান্য আলেম-উলামারাও মহানবী সা.-এর পবিত্র জীবন, তাঁর নবুওয়তি দায়িত্ব, উম্মতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সাবেক সভাপতি হযরত আল্লামা আবদুল জলিল বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন মানবতার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত। তাঁর সীরাত শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য জীবন পরিচালনার পথনির্দেশ। তিনি মুসলমানদেরকে নবীজির চরিত্র নিজেদের জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।

লতিফিয়া উলামা সোসাইটির সভাপতি মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা শেহাব উদ্দিন বলেন, রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবন যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, তাঁর প্রতি ভালোবাসা তত গভীর হবে। তিনি বলেন, মিলাদুন্নবী সা.-এর মাহফিলের অন্যতম তাৎপর্য হলো সীরাত ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নবীজির আদর্শে জীবন গঠনের প্রেরণা সৃষ্টি করা।

লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি ইউকের সেক্রেটারি মুফতি আশরাফুর রহমান নবীজির ইরহাসাত তুলে ধরে বলেন, রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ তাঁর সুন্নাহকে ভালোবাসা ও অনুসরণ করা। তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর জীবনচরিত অধ্যয়নের প্রতি উৎসাহিত করেন।

অন্যান্য বক্তাগণও তাঁদের বক্তব্যে রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাহ অনুসরণ এবং মুসলিম সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম. এ. কাদির আল হাসান, দারুল হাদীস লতিফিয়াহর ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. আবদুল কাহহার, বায়তুল আমান মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালিক, লন্ডন ডিভিশনের সহ সভাপতি মাওলানা আবদুল জলিল-সহ আরও অনেকে।

মাহফিলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু আলেম, ইমাম-খতিব ও কমিউনিটি নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির সভাপতি মুফতি মাওলানা ইলিয়াস হুসাইন, আল ইসলাহ\'র সহসভাপতি মাওলানা সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী, উপদেষ্টা জনাব ইমদাদ হুসাইন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, ওয়েলশ ডিভিশনের সভাপতি হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ, সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সদস্য কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী, মাওলানা আবদুল আউয়াল হেলাল, মাওলানা মো. আবদুল কুদ্দুছ, জনাব বদরুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ হাজী আবদুস সালাম, জনাব সদরুল ইসলাম, মাওলানা মো. মুসলেহ উদ্দিন, দেওয়ান মনজুর আহমদ চৌধুরী, হাজী আবুল কাসেম, হাজি সিরাজ খান, জনাব মিজান খানসহ আরও অনেকে।

মাহফিলে পবিত্র কুরআন থেকে হৃদয়গ্রাহী কিরাত পরিবেশন করেন কারী হুসাইন আহমদ। এরপর মহানবী সা.-এর শানে নাশিদ পরিবেশন করেন মাওলানা সুলতান আহমদ, মামুন রশিদ, আহমদ নিয়াজ ও কবির হুসাইন। তাঁদের সুমধুর পরিবেশনা উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।

শেষ পর্বে দারুল হাদীস লতিফিয়াহর প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাওলানা আনহার আহমদ পবিত্র মিলাদ শরিফ পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই দরুদ ও সালাম পাঠে অংশ নেন এবং মহানবী সা.-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

মাহফিলের শেষ পর্যায়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মুসলমানদের জন্যও বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে সমগ্র মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর আগমনের স্মরণকে অর্থবহ করতে হলে তাঁর ভালোবাসাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে, তাঁর সীরাত অধ্যয়ন করতে হবে এবং তাঁর সুন্নাহ ও মহান চরিত্রকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মাহফিলের আয়োজক আনজুমানে আল ইসলাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, অতিথি এবং সর্বস্তরের মুসল্লিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিম সমাজ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সা.-এর ভালোবাসা, সীরাতচর্চা, সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইসলামী মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর