img

ব্রঙ্কসে কুনু-ফিরোজ পরিষদের বিশাল সমাবেশে প্রচারনার সুচনা।

প্রকাশিত :  ০৭:৪৯, ১৪ আগষ্ট ২০২৬

ব্রঙ্কসে কুনু-ফিরোজ পরিষদের বিশাল সমাবেশে প্রচারনার সুচনা।

বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এমএ আজিজ বলেছেন বর্তমান কমিটি কবরস্থানের ক্রয়ের টাকা দিয়ে কবর না কিনে টাকা ফেরত নিয়ে বর্ষ পূর্তির নামে নাচ গান করে টাকা খরচ করেছেন যা বাংলাদেশ সোসাইটির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তারা প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে যা বাংলাদেশ সোসাইটির জন্য কোনো ভালো কাজ করতে পারেনি।তিনি ব্রঙ্কসে আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

গত ১১ই আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজারের গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা করেছে আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদ ব্রঙ্কস ব্যরো কমিটি।বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব বীরমুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জামিল আনসারীর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এমএ আজিজ।বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী,বাবুল চৌধুরী,ফারুক চৌধুরী,আনোয়ার হোসাইন,রফিকুল ইসলাম ডালিম,জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম,সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজ,অধ্যাপক শাহজাহান,কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী খসরু।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল কাসেম ইয়াহিয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মোঃ ফুল মিয়া।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নুরুল আলম জিকু,আলতাফ হোসেন,জগলুল চৌধুরী মন্জুর,জাবেদ উদ্দিন,লেইছ চৌধুরী,বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের প্রচার সম্পাদক শেখ শফিকুর রহমান,সাংবাদিক এম ইদ্রিছ আলী,গোল্ডেন প্যালেসের কর্ণধার বেলাল ইসলাম,আখতারুজ্জামান হ্যাপি,মোজাফ্‌ফর হোসেন,অধ্যাপক আব্দুল করিম,মোশাহিদ চৌধুরী,মোস্তাকুর রহমান লিটন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে তার পরিষদের প্রার্থীদের সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দেন প্রার্থীরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি দুলাল মেহেদু,সহ-সভাপতি আবুল কালাম,সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নওশাদ হোসেন,কয়েস আহমেদ,আব্দুল বাসির,ইঞ্জিনিয়ার আলম,আবুল বাশার,মুর্শেদ আলম এবং ব্রঙ্কস থেকে চারজন প্রার্থীরা হলেন সৈয়দ গৌছুল হোসেন,জামিল আনসারি,মাইনুদ্দিন নটু এবং কাজী হাসান।

অনুষ্ঠানে ব্রঙ্কস ব্যরো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।নির্বাচন পরিচালনা চেয়ারম্যান সুলায়মান ভূঁইয়া,প্রধান উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী,আহ্বায়ক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী খসরু,সদস্য সচিব কৃষিবিদ সুলায়মান এবং প্রধান সমন্বয়কারী লেইছ চৌধুরী চেয়ারম্যান।পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

এমএ আজিজ বলেন আজকে বাংলাদেশ সোসাইটি যেভাবে চলছে তাতে একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।তাই আমি সংগঠনের স্বার্থে সাবেক সফল সভাপতি আজমল হোসেন কুনু-ফিরোজ পরিষদকে সমর্থন দিয়েছি।

সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু বলেন আমাকে নির্বাচিত করলে আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না আমার পরিষদ সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব অক্ষরে অক্ষরে ইনশাআল্লাহ।

সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ বলেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি যেভাবে এগিয়ে যাবার কথা কিন্তু নেতৃত্বের দক্ষতার অভাবে সেভাবে অগ্রগতি হয়নি।আমরা নির্বাচিত হলে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সকল সেবা মূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

নিউইয়র্কে দ্বিতীয় বৃহত্তর বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা ব্রঙ্কসে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রবাসীদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভাটি বিশাল সমাবেশের রুপ ধারণ করে।মিলনায়তনের ভেতরে বসার জায়গা অবশিষ্ট ছিল না।অনেক কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।আর

সবশেষে উপস্থিত সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ঘৃণা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসে সামার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৭:৫৩, ১৪ আগষ্ট ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে ৩০টিরও বেশি কমিউনিটি সংগঠনের প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধির অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হলো  সামার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং। টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, উগ্র ডানপন্থী তৎপরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে গত ২১ জুলাই টাউন হলে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হলো। 

এতে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্টারফেইথ ফোরামের সদস্য, কাউন্সিল কর্মকর্তা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সামাজিক সম্প্রীতি এবং ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রস্তুতি ও অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

ব্রিটেনের অন্যতম বৈচিত্র্যময় এলাকা হিসেবে পরিচিত টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে স্বাগত জানাচ্ছে বারাটি। একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও সুনাম রয়েছে। এক জরিপ অনুযায়ী, বারার ৯১ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, মানুষ এখানে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করেন। দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ স্থানীয় কাউন্সিল এলাকা হওয়ায় এই অর্জন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

স্থানীয়ভাবে দৃঢ় সামাজিক সম্প্রীতি থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, শত্রুতাপূর্ণ মন্তব্য এবং বহিরাগত গোষ্ঠীর বিভাজন ও উত্তেজনা সৃষ্টির প্রচেষ্টা নিয়ে কমিউনিটিগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক কর্মসূচি ও তৎপরতা এসব উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বিভাজনের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের অনেক অতীত আছে। এ বছর ঐতিহাসিক ‘ব্যাটল অব কেবল স্ট্রিট’-এর ৯০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে, যেখানে ১৯৩৬ সালে স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, ধর্মীয় সংগঠন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা একত্রিত হয়ে স্যার অসওয়াল্ড মসলি ও ব্রিটিশ ইউনিয়ন অব ফ্যাসিস্টসের ইস্ট এন্ডে মিছিল ঠেকিয়ে দেন। এই বার্ষিকী ঐক্য, অন্তর্ভুক্তি এবং ঘৃণার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রতি বারার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী স্মারক হিসেবে কাজ করছে।

সামার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিংয়ের প্যানেল সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কাউন্সিলের হেড অব পাবলিক প্রোটেকশন সাইমন স্মিথ, মেট্রোপলিটন পুলিশের টাওয়ার হ্যামলেটস নেইবারহুড পুলিসিংয়ের চিফ ইন্সপেক্টর ক্রিস ব্রাউন এবং ইন্সপেক্টর বেন হিউজেস। তারা সকলেই ঘৃণাজনিত ঘটনা ও কমিউনিটিতে উদ্ভূত উত্তেজনা মোকাবিলায় পুলিসিং কার্যক্রম এবং অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চিলড্রেন, ইয়ং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার  কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এ ধরনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সকলের মধ্যে অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে এবং আমাদের কমিউনিটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলায় সহায়তা করে। আপনাদের উপস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ঘৃণা ও বিভাজনের মুখে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। ৯০ বছর আগে ব্যাটল অব কেবল স্ট্রিটে যে সংহতি ও ঐক্যের চেতনা প্রকাশ পেয়েছিল, তা আজও সমানভাবে শক্তিশালী ও অটুট রয়েছে।”

তিনি বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসে লন্ডনের সবচেয়ে তরুণ জনগোষ্ঠী বসবাস করে, যেখানে গড় বয়স মাত্র ৩০ বছর।তরুণরা এসব বিষয়ে বিপুল উদ্দীপনা, শক্তি ও অঙ্গীকার নিয়ে আসে। তাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত আলোচনায় কাউন্সিল, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারীরা বারার বাইরের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর নেতিবাচক প্রচারণা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা টাওয়ার হ্যামলেটসের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং কমিউনিটির আস্থা দুর্বল করতে পারে।

স্ট্যামফোর্ড হিলের শোমরিমের প্রেসিডেন্ট এবং মুসলিম-ইহুদি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাব্বি হার্শেল গ্লাক ওবিই বলেন, “অতীতে ইহুদিদের বলির পাঁঠা বানানো, উসকানি দেওয়া এবং বিশেষভাবে টার্গেট করার ঘটনা তাদেরকে নির্বাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। বর্তমানে মুসলিমরাও একইভাবে দোষারোপ, উসকানি ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং বিভাজন ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”

তিনি “টাওয়ার হ্যামলেটসকে নিজের সেকেন্ড হোম” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “কমিউনিটিতে  শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যারা বিভিন্ন কমিউনিটিকে উসকানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রতিহত করাও অপরিহার্য।”

কমিউনিটি এর আরও খবর