ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : অর্থ ফিরে পাওয়া যায়, সময় কখনো ফিরে আসেনা
শায়খ সৈয়দ আনিসুল হক
সময় হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত । অর্থ হারিয়ে গেলে আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু একবার চলে যাওয়া সময় কখনো ফিরে আসে না।
কথাগুলো বলেছেন, ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র ইমাম ও খতীব শায়খ আনিসুল হক।
২৪ জুলাই শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর খুতবার বিষয় ছিল— ‘যে নিয়ামত আমরা অবহেলায় নষ্ট করি’।
শায়খ আনিসুল হক বলেন, “আল্লাহ আমাদের এমন একটি নিয়ামত দিয়েছেন, যার কোনো মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। অথচ এটি দুনিয়ার সব সম্পদের চেয়েও মূল্যবান। সেই নিয়ামত হলো সময়।”
তিনি রাসুলুল্লাহ (সা:) এর একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, “এমন দুটি নিয়ামত রয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত । এর একটি সুস্থতা, দ্বিতীয়টি অবসর সময়।”
তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় সুস্থতা ও অবসর সময়ের মূল্য বুঝতে না পেরে তা নষ্ট করি । সাধারণত এগুলো হারিয়ে যাওয়ার পরই এর প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অনেকেই এমনভাবে জীবনযাপন করি, যেন সামনে অনেক সময় রয়েছে। আমরা তাওবা ও ভালো কাজ পিছিয়ে দিই এবং ভাবি—আগামীকাল, আগামী সপ্তাহ কিংবা আগামী বছর থেকে ইবাদতে আরও নিয়মিত হব।”
অর্থের সঙ্গে সময়ের তুলনা করে তিনি বলেন, “কয়েক পাউন্ড হারিয়ে গেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝতে পারি। কিন্তু প্রতিদিন আমাদের জীবন থেকে ২৪ ঘণ্টা চলে যাচ্ছে, অথচ আমরা অনেক সময় এ নিয়ে চিন্তাই করি না। অর্থ আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু সময় আর ফিরে পাওয়া যায় না।”
প্রখ্যাত তাবেঈ হাসান আল-বসরির উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হে আদমসন্তান, তুমি তো কেবল কয়েকটি দিনের সমষ্টি । যখনই একটি দিন চলে যায়, তোমার একটি অংশও চলে যায়।”
তিনি বলেন, “সময় শুধু একটি নিয়ামত নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে অর্পিত একটি আমানত । কিয়ামতের দিন আমরা জীবন, যৌবন, সম্পদ ও জ্ঞানের ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হব।”
সৎ নিয়তের গুরুত্ব তুলে ধরে শায়খ আনিসুল হক বলেন, “সঠিক নিয়ত থাকলে জীবনের সাধারণ কাজও ইবাদতে পরিণত হতে পারে। পরিবারকে সময় দেওয়া, সন্তানকে দোয়া বা ইসলামের শিক্ষা দেওয়া, হালাল উপার্জন করা এবং দায়িত্ব পালনের জন্য বিশ্রাম নেওয়াও সওয়াবের কাজ হতে পারে।”
গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সময় পরিবারের সঙ্গে বসুন, একসঙ্গে খাবার খান, সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং তাদের সঙ্গে সুন্দর স্মৃতি তৈরি করুন।”
তিনি বলেন, “এই সপ্তাহগুলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য ব্যবহার করুন। নামাজের প্রতি যত্নবান হোন, সুযোগ হলে মসজিদে যান, উপকারী জ্ঞান অর্জন করুন এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করুন।”
তিনি আরও বলেন, “আজ আমাদের ঘরে থাকা শিশুরা চিরদিন শিশু থাকবে না। একদিন তাদের নিজস্ব জীবন ও পরিবার হবে। তারা যেন এমন মা-বাবাকে স্মরণ করে, যারা তাদের সময় দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং সঠিক পথ দেখিয়েছেন।”
খুতবার শেষে তিনি দোয়া করে বলেন, “হে আল্লাহ, আমাদের সময়ের মধ্যে বরকত দান করুন। সুস্থতা ও অবসর সময় হারানোর আগেই এগুলোর মূল্য বোঝার তাওফিক দিন । উদাসীনতা, বিলম্ব ও বিভ্রান্তি থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং আমাদের ঘরে ভালোবাসা, ঈমান ও শান্তি দান করুন। আমিন।”


















