img

ইস্ট লন্ডন মস্ক ট্রাস্টের ৬৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৯:৫৫, ২০ জুলাই ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মস্ক ট্রাস্টের ৬৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

লন্ডন, ২০ জুলাই ২০২৬ : ইস্ট লন্ডন মসজিদ ট্রাস্ট-এর ৬৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা ১১ জুলাই শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে । সভায় ট্রাস্টের সদস্য, ট্রাস্টি, সিনিয়র নেতৃত্ব এবং কর্মকর্তারা ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং আগামী দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমেদ মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও অর্জনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নারী ও যুব কার্যক্রম, নতুন মুসলিমদের সহায়তা, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, কমিউনিকেশন এবং সাংগঠনিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন সেবার অগ্রগতি সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করেন।

সভায় জানানো হয়, ইস্ট লন্ডন মসজিদ ট্রাস্ট শিক্ষা, সেবা ও অনুপ্রেরণার লক্ষ্যে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল, ডিসকভার ওয়ান নিউ মুসলিম হাব প্রতিষ্ঠা, ধারাবাহিক উন্নয়ন, নারী ও যুবসেবা বৃদ্ধি, রিফিউজি ও প্রবীণদের সহায়তা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মসজিদের চেয়ারম্যান ড. আবদুল-হাই মুর্শেদ বলেন, বর্তমানে ব্রিটেনে মুসলিম কমিউনিটি নানামুখি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি । মুসলিম ও এথনিক মাইনোরিটির বিরুদ্ধে জনসম্মুখে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বৈরী আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সংলাপ ও অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং সমাজ ও দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ট্রাস্টের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমেদ সভায় ইস্ট লন্ডন মস্ক ট্রাস্টের পরিকল্পনা-২০৩০ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ও কৌশলগত অগ্রাধিকারসমূহ ধাপে ধাপে সব বিভাগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সভা শেষে ট্রাস্টের ট্রাস্টি, সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, মুসল্লি এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাদের নিষ্ঠা ও অব্যাহত সহযোগিতার কারণেই ইস্ট লন্ডন মসজিদ ট্রাস্ট কমিউনিটির চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈমান, সেবা ও উৎকর্ষের আদর্শকে ধারণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইস্ট লন্ডন মসজিদে আদমশুমারির তথ্য নিয়ে আলোচনা: ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখ

প্রকাশিত :  ২০:০০, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২১:২০, ২০ জুলাই ২০২৬

লন্ডন, ২০ জুলাই ২০২৬ :  ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের আদমশুমারির তথ্যের আলোকে ব্রিটিশ মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন- এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। আলোচনায় ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখে উন্নীত হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।  

১৪ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভায় “সংখ্যায় ব্রিটিশ মুসলিম : কমিউনিটির উন্নয়নে নেতৃত্বদানকারীদের জন্য আদমশুমারির তথ্য” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় । এতে গত দুই দশকে ব্রিটিশ মুসলিম সমাজের জনসংখ্যাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  আলোচনা সভাটি ইস্ট লন্ডন মসজিদের 'ইএলএম কনেক্স' প্রজেক্টের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনের রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন কমিটির দুই গবেষক ড. জামিল শরীফ এবং ফাতেমা সুন্দারজি।

প্রথম পর্বে ড. জামিল শরীফ ব্রিটেনের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তন তুলে ধরেন । তিনি জানান, এক দশকে ব্রিটেনে মুসলমানের সংখ্যা ২৮ লাখ থেকে বেড়ে ৪০ লাখে পৌঁছেছে । দশ বছরে বেড়েছে ১২ লাখ মুসলিম।

ড. শরীফ জামিল মুসলিম কমিউনিটির বয়স কাঠামো ও সামাজিক অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও পেশাজীবী পদে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ২০০১ সালে ছিলো ৬.৬ শতাংশ। কিন্তু এটা বেড়ে ২০২১ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তিনি মুসলমানদের সম্পর্কে প্রচলিত কিছু উগ্র ডানপন্থী প্রচারণারও তথ্যভিত্তিক জবাব দেন । উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মুসলিম। আবার মুসলমানরা ইংরেজি বলতে পারেন না—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। আদমশুমারী অনুযায়ী, ৯১ শতাংশ মুসলমানের ইংরেজি ভালো বা খুব ভালোভাবে বলতে পারেন, যেখানে জাতীয় গড় ৯৮ শতাংশ।

ফাতেমা সুন্দারজি টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যার বিস্তার এবং ইনডেক্স অব মাল্টিপল ডিপ্রাইভেশন-এর (বহুমাত্রিক বঞ্চনা সূচক) সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যা ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে । এসব এলাকায় মুসলিমদের প্রধান সমস্যা আবাসন । তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের সমস্যাগুলো কি শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী কমিউনিটির সঙ্গেও মিল রয়েছে?

ফাতেমা সুন্দারজি জানান, মুসলিম পরিবারের ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বিবাহিত দম্পতি ও নির্ভরশীল সন্তান নিয়ে গঠিত, যা যুক্তরাজ্যের সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং জাতীয় গড়ের আড়াই গুণ। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান একাকী বসবাস করেন, যা মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

চারটি বরোতে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ৫৬.৮ শতাংশ মুসলিম, যেখানে পুরো যুক্তরাজ্যে এ হার মাত্র প্রতি দশজনে একজন।

শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম তরুণদের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে। ২০০১ সালে সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও ২০২১ সালে তারা সেই অবস্থান অতিক্রম করেছে। বর্তমানে তরুণ মুসলিম নারীরা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মুসলিম পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন । টাওয়ার হ্যামলেটসে মুসলিম নারীদের ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী, যা ইংল্যান্ডের প্রধান মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রবীণ মুসলিমদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। টাওয়ার হ্যামলেটসে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলিম নারীদের ৪০.৫ শতাংশ নিজেদের স্বাস্থ্যকে খারাপ বা খুব খারাপ বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে একই বয়সী সব নারীর ক্ষেত্রে এ হার ২৬.৮ শতাংশ।

এছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলমান ইংরেজি বলতে পারেন না, যাদের অধিকাংশই নারী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আগামী দুই দশকে প্রবীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে—সেই বাস্তবতার জন্য কমিউনিটি কতটা প্রস্তুত?

সমাপনী উপস্থাপনায় ড. জামিল শরীফ ২০২৯ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়; বরং ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনী ইশতেহার বিশ্লেষণ এবং প্রার্থীদের জন্য জবাবদিহিমূলক প্রশ্নমালা তৈরির মাধ্যমে সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে।


কমিউনিটি এর আরও খবর