img

স্বাধীন পরিচালনা পরিষদ গঠন ও প্রবাসী পরিচালক নিয়োগের দাবিতে ইসলামি ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৯:১৩, ১৯ জুলাই ২০২৬

স্বাধীন পরিচালনা পরিষদ গঠন ও প্রবাসী পরিচালক নিয়োগের দাবিতে ইসলামি ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে একাধিক দাবি উত্থাপন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ’। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকানা পুনর্বহাল, ব্যাংক খাতের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনা পর্ষদে একজন প্রবাসী প্রতিনিধিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ।

গত বৃহস্পতিবার, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে ইসলামি ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের আহবায়ক গোলাম মুর্তজা সিআইপি উপরোক্ত দাবী করেন। কমিটির মেম্বার সেক্রেটারী মাহমুদুর সুমনের পরিচালনায় এই সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কমিটির উপদেষ্ঠা ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, জয়েন্ট কনভেনর সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবু এবং জোবায়ের আহমদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জনাব কেএম আবু তাহের চৌধুরী, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জনাব আব্দাল চৌধুরী এবং হাসান জামান সহ বিভিন্ন ইলেকট্রিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিক বৃন্দ। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রেমিট্যান্স সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠান। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকসেবা প্রবাসীদের জীবনযাত্রার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। 

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকটির পরিচালনা ও মালিকানা নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাবের কারণে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সততা ও ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনিয়মের তদন্তে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রবাসীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা। 

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত রেখে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতিমালার আলোকে পরিচালনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তত একজন যোগ্য প্রবাসী পরিচালক নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। 

সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা ও ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের উদ্যোগে মরহুম মীর বেলাল শরীফের স্মরণে ভার্চুয়াল দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৩:৫৬, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:০৮, ২০ জুলাই ২০২৬

লন্ডন, ১৬ জুলাই ২০২৬: ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK)-এর উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার ১৬ই জুলাই সংগঠনের সম্মানিত সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মরহুম মীর বেলাল শরীফ-এর স্মরণে এক আবেগঘন ভার্চুয়াল দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

গত ৭ই জুলাই ২০২৬ তিনি ইন্তেকাল করেন, যা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই  ইস্ট লন্ডন মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে গার্ডেনস অব পিস মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে মরহুম মীর বেলাল শরীফ গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তাঁকে কুইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আল্লাহর অসীম রহমতে তিনি অচেতন অবস্থা থেকে ফিরে এলেও স্ট্রোকের কারণে  পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন, বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং স্মৃতিশক্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ প্রায় চার মাস অসুস্থতার সঙ্গে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করার পর ৭ই জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে DUAUK-এর সদস্যবৃন্দ, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে এই ভার্চুয়াল দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মরহুম মীর বেলাল শরীফ একজন সত্যিকারের আহলুল কুরআন হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দিয়ে আসছিলেন। গত তিন বছর তিনি রেডব্রিজ মসজিদে কুরআন শিক্ষা প্রদান করেন। কুরআনের খেদমতে তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও নিবেদন তাঁকে কমিউনিটির সর্বস্তরে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন DUAUK-এর সভাপতি জনাব সিরাজুল বাছিত চৌধুরী এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. কামরুল হাসান (এমকিউ হাসান)।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক  খালেদ ইয়াহিয়া-এর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে।

স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী মরহুম মীর বেলাল শরীফের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর সততা, প্রজ্ঞা, ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ‍্যা ইউকে এবং বৃহত্তর সমাজে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন।

সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. কামরুল হাসান (এমকিউ হাসান) শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং DUAUK-এর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশন (BLA) ইউকে এবং DUAUK-এর বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মরহুম মীর বেলাল শরীফের আন্তরিক সহযোগিতা ও অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মরহুমের জীবন ও কর্মের ওপর লিখিত জীবনী পাঠ করেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর। মরহুম মীর বেলাল সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে তাঁর শৈশব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন, যুক্তরাজ্যে তাঁর সফল আইনজীবী জীবন এবং ন্যায়বিচার, শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবায় তাঁর আজীবন অবদারের কথা তুলে ধরেন।

দোয়া পরিচালনা করেন গবেষণা ও শিক্ষা সম্পাদক জনাব মঈন উদ্দিন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

দোয়া মাহফিলে মরহুমের পরিবারের দুইজন ঘনিষ্ঠ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র রুম্মান তাঁর পিতাকে একজন স্নেহশীল, দায়িত্বশীল ও আদর্শ অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি DUAUK-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে, সংগঠনটি তাঁর পিতার স্মরণে এমন মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

মরহুমের স্ত্রীর ভগ্নি মিস রুমানা দীপ্তি, যিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, তাঁকে পরিবারের একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও অত্যন্ত স্নেহশীল মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম মীর বেলাল শরীফকে একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিনয়ী, জ্ঞানী, সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ এবং প্রকৃত আহলুল কুরআন হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, তাঁর সমগ্র জীবন ছিল ন্যায়, ঈমান, মানবসেবা এবং পবিত্র কুরআনের খেদমতে নিবেদিত।

স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন  সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নাজির উদ্দিন চৌধুরী, উপদেষ্টা জনাব এম. এ. রাকীব, উপদেষ্টা

 সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ইয়াহিয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য  সৈয়দ ইকবাল, ড. কামরুল হাসান ও মাহমুদা চৌধুরী।

বক্তারা মরহুমের আদর্শ, সততা, মানবিক গুণাবলি এবং সমাজের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার জন্য দোয়া করেন।

সম্মিলিত মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এতে উপস্থিত সকলেই মরহুমের রুহের মাগফিরাত, আল্লাহর রহমত এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।

মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুম মীর বেলাল শরীফের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য, শক্তি ও সবর দান করেন। আমিন।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কমিউনিটি এর আরও খবর