img

ভয়াবহ খরায় পুড়ছে ইউরোপ, শুকিয়ে যাচ্ছে ধানক্ষেত

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ০৫ জুলাই ২০২৬

ভয়াবহ খরায় পুড়ছে ইউরোপ, শুকিয়ে যাচ্ছে ধানক্ষেত

ইউরোপের অন্যতম ধান উৎপাদন অঞ্চল ইতালির উত্তরাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির অভাবে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে। পানির সংকটে ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও আগাছায় ভরে যাচ্ছে জমি। ফলে এ বছরের ধান উৎপাদন নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

ইতালির পাভিয়া প্রদেশের কৃষক শারন আঙ্গোলি বলেন, আমার একটি ধানক্ষেত ইতোমধ্যে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এখন আর সেটি থেকে ভালো ফলনের আশা নেই। তিনি জানান, এখন প্রচুর বৃষ্টি হলেও সেই ফসল আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

কৃষক কার্লো আঙ্গোলি বলেন, ফসল বাঁচাতে অন্তত ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি প্রয়োজন। তবে শিলাবৃষ্টি হলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে সেপ্টেম্বরে কাটার কথা থাকা ধানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

পাভিয়া ইতালির সবচেয়ে বড় ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি। কিন্তু বসন্তে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুশি তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ জাতের ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া না যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে খরার প্রভাব পড়েছে উত্তর ইতালির গুরুত্বপূর্ণ পো নদী ও এর শাখা-নদীগুলোতেও। নদীগুলোর পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় হ্রদ থেকে পানি ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান হারে পানি ব্যবহার চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পানির সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে বিরোধও বাড়ছে। এক অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, অন্য অঞ্চলে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করায় তাদের জমিতে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনে ইউরোপজুড়ে যে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব। পরিবেশবিদদের মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ, উন্নত সেচব্যবস্থা এবং কৃষি অবকাঠামোয় পরিবর্তন আনা জরুরি।

কৃষকদের আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ইতালির ধান উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

গরমে ইস্ট লন্ডন মসজিদের দরজা উন্মুক্ত: বিনামূল্যে পানি ও স্লাশ পানীয় বিতরণ

প্রকাশিত :  ১৫:৪৮, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৫৪, ০৪ জুলাই ২০২৬

লন্ডন, ৩ জুলাই ২০২৬।। যুক্তরাজ্যে চলমান তাপপ্রবাহে মুসল্লি, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে যে কেউ এখানে এসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিশ্রাম নিতে, ঠান্ডা পানি পান করতে এবং বিনামূল্যে স্লাশ পানীয় গ্রহণ করতে পারছেন।

জুনের শেষ সপ্তাহে লন্ডনে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ২৫ জুন থেকে এ সেবা চালু করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, জুমার নামাজ শেষে লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মূল প্রবেশ এলাকায় মুসল্লিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শরবত বিতরণ করা হচ্ছে । টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সাারিসারি পানীয় ও গ্লাস। নামাজ শেষে অনেক মুসল্লি হাতে পানীয় নিয়ে বের হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বসে শরবত পান করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন।

এর আগে ২৬ জুন মসজিদ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মারিয়াম সেন্টারের সামনে ফিল্ডগেইট স্ট্রিটে বিশেষ মেশিনে স্লাশ তৈরি করে পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া লন্ডন মুসলিম সেন্টারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রিসেপশন এলাকায় বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে । সেখানে স্থাপিত পানির ফিল্টার থেকে অনেকে ঠান্ডা পানি পান করছেন, আবার কেউ গরম থেকে স্বস্তি পেতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন।

একজন পথচারী এই প্রতিবেদককে বলেন, “দুপুরে মসজিদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়েছিলো। মসজিদের দেয়ালে বিনামূল্যে পানীয় সরবরাহের পোস্টার দেখে ভেতরে ঢুকি। ঠান্ডা পানি পান করার পাশাপাশি কিছুক্ষণ বিশ্রামও নিই। দেখলাম, আমার মতো আরও অনেকেই সেখানে বসে আছেন। বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে। এই মসজিদের সেবা শুধু নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তীব্র গরমে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অনুকরণীয়।”

ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুনায়েদ আহমদ বলেন, “প্রচণ্ড গরমে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই আমরা ঠান্ডা পানীয় সরবরাহের পাশাপাশি বিশ্রামের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থান উন্মুক্ত রেখেছি । এটি শুধু মুসল্লিদের জন্য নয়; মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে পুরো কমিউনিটির জন্যই এই সুবিধা উন্মুক্ত। সবাইকে এ সেবা গ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাই।”

ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র ফান্ডরেইজিং ম্যানেজার তজম্মুল আলী বলেন, “প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সেবা গ্রহণ করছেন । ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে এসে ঠান্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং পানীয় গ্রহণ করছেন । বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের দিন মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি থাকে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই সেবা চালু রয়েছে। গ্রীষ্মে যতদিন তাপপ্রবাহ থাকবে, ততদিন এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টার ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক কমপ্লেক্স। এখানে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ পৃথক ব্যবস্থায় নামাজ আদায় করতে পারেন। সারা বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে এই প্রতিষ্ঠান। নামাজের পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব উন্নয়নসহ নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে মসজিদটি।

কমিউনিটি এর আরও খবর