img

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

প্রকাশিত :  ১১:৩৪, ২৮ জুন ২০২৬

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন তারাতো বলে দেশে কোনো আওয়ামী লীগ নেই,তাহলে কিসের এতো ভয়। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কে এতো ভয় পেয়েছে যে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত ২৩শে জুন ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন।নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড.সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন,সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার,ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু,বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ফরিদা ইয়াসমিন,বিশিষ্ট সাংবাদিক শাবান মাহমুদ।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ,নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ,নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ও মহিলা আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ,শ্রমিক লীগ,কৃষক লীগ,ও ছাত্রলীগের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের শুভ সূচনা হয় নবান্ন পার্টি সেন্টারের বাহিরে উদ্বোধনী বেলুন উড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পূর্বেই বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে মিছিল সহকারে পার্টি সেন্টারে নেতাকর্মীদের আগমনের ফলে হলরুম কানায় কানায় ভর্তি হয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে হলরুম।

জনাকীর্ণ মিছিল নিয়ে হলের বাইরে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করেন।মিছিলের সাড়ি লম্বা হওয়ায় জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।এই সময় জরুরি পুলিশের ভ্রাম্যমাণ গাড়ি এসে মিছিল কারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে ফুটপাথে নিয়ে আসলে যান চলাচলের পথ খুলে যায়।মিছিল পদক্ষিন করে নবান্ন সেন্টারে এসে সমাপ্তি হয়।

মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ সহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন শেষে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।তারপর কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা কারী মঈনুদ্দীন।

বড় আকারের ডিজিটাল ব্যানার লাগানো হয় এবং মঞ্চে কোনো বসার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রধান আকর্ষণ ছিল দলীয় সভাপতির ভার্চুয়াল বক্তৃতা।শেখ হাসিনা প্রবাসী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই দেশের অসহায় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

তিনি বলেন ইউনুস লুটপাট করে টাকা উপার্জন করে বসে আছে।১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করে দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি হয়েছে শুধু ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে।আগের মতই খুন নির্যাতন চলছে।

আজ দেশের গরিব জনগণ খেতে পারছে না।আমার সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা প্রদান করেছিলাম কিন্তু আজ সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি সরকারের আহবান জানিয়ে বলেন অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।

সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা মাসুদুল হাসান,নিউইর্য়ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল,নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক,সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী,প্রচার সম্পাদক শেখ শফিকুর রহমান,স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন,সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামান,মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজ,যুবলীগের সভাপতি সেবুল মিয়া,সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী,ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান মাহমুদ,সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়া প্রমুখ।

সবশেষে বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইতালিতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ২৭ জুন ২০২৬

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বসুরহাটের বাসিন্দা কামাল, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে। হামলায় তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চাইতে যান পরিবারের ১৮ বছর বয়সী ছেলে। কিন্তু হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ইতালির কারাবিনিয়েরি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পরে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরেও ছুরির আঘাত ছিল। তবে সেই আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না। 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে- সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও এজিআই জানিয়েছে, তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে ছুরির আঘাত ছিল এবং সেই আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পুরোপুরি অজানা। এতে তদন্তকারীরা দ্বন্দ্বে পড়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

এদিকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। তদন্তের স্বার্থে ফ্ল্যাটটি ঘিরে রাখা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

রোম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরোর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করছে যে ঘটনায় পরিবারের পরিচিত কেউ বা কোনো পারিবারিক বন্ধু জড়িত থাকতে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, এটি এখনো নিশ্চিত নয়, শুধু তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক। আর হত্যাকারী এখনো ধরা পড়েনি বলে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।


কমিউনিটি এর আরও খবর