ইতালিতে ট্রিপল মার্ডার

img

মা-বাবা ও বোনকে হত্যার পর আমিরের অপেক্ষায় ছিল ঘাতক

প্রকাশিত :  ০৭:০২, ০৩ জুলাই ২০২৬

মা-বাবা ও বোনকে হত্যার পর আমিরের অপেক্ষায় ছিল ঘাতক

ইতালির রোমে বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার পর আলামত মুছে বড় ছেলেকেও খুনের অপেক্ষায় ছিল ঘাতক। কাজ শেষে বাসায় ফিরে খাটের নিচে মা ও বোনের লাশ দেখতে পান একমাত্র জীবিত সদস্য আমির উদ্দিন অয়ন (২০)। এরপরই লুকিয়ে থাকা ঘাতক তার ওপর হামলা চালায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া আমিরের এমন চাঞ্চল্যকর জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে ইতালীয় পুলিশ।

রোমের ভিয়া মন্টিগ্লিও এলাকার ৩৫ নম্বর ভবনে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমির তদন্তকারীদের জানান, ঘটনার দিন কাজ শেষে তিনি বাসায় ফেরেন। প্রথম দেখায় ঘরটি সম্পূর্ণ গোছানো মনে হয়েছিল। কিন্তু মা-বাবার কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ খাটের নিচ থেকে ছোট বোন আরাওয়ার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন তিনি। পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে বুঝতে পারার পরপরই আগে থেকে ওত পেতে থাকা শাহাদাত একটি চাপাতি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রাণপণ ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঘর থেকে ছিটকে বেরিয়ে কোনোমতে নিজের জীবন রক্ষা করেন আমির।

রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ভবনের সামনে থেকে আমিরকে উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। তার মাথা ও পায়ে গভীর ক্ষত ছিল। ওই সময় প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার ফাঁকে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে উদ্ধারকারীদের বলেন, ‘সে আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে। বাসায় ফিরে আমি এই দৃশ্য দেখেছি।’

তদন্তকারীদের ধারণা, তিনজনকে হত্যার পর ঘাতক শাহাদাত কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো বাসা পরিষ্কার করে এবং রক্তের দাগ মুছে ফেলে। এরপর নিহত বাবা কামাল উদ্দিনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানের সরু জায়গায় এবং মা জাহানারা ও ছোট বোন আরাওয়ার মৃতদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। মূলত আমিরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই সে আলামত গোপন করে সেখানে অপেক্ষা করছিল।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে আমির পুলিশকে জানান, শাহাদাতের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাবা কামাল উদ্দিন তাকে নিজেদের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চেয়েছিলেন। এ ছাড়া গত সপ্তাহে কোনো একটি বিষয় নিয়ে শাহাদাতের সঙ্গে আমিরের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল এবং পরিবারের সঙ্গেও তার বিরোধ চলছিল।

এদিকে, আমিরের মা ও শাহাদাতের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিলকে স্বাগত জানিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ১৩:৫৩, ০৩ জুলাই ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট (Vagrancy Act) বাতিল হওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, এই সিদ্ধান্ত গৃহহীনতা মোকাবিলায় আরও মানবিক, ন্যায্য এবং কার্যকর পদ্ধতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্টের আওতায় রাস্তায় বসবাসকারী বা নিরাপদ আশ্রয়বিহীন মানুষদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আইনটি বাতিলের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপদে বসবাসের কোনো স্থান না থাকার কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

কাউন্সিলের মতে, এই আইন বাতিল হওয়া এমন একটি ব্যবস্থা থেকে সরে আসার প্রতীক, যা রাস্তায় বসবাসের (rough sleeping) মূল কারণগুলো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গৃহহীনতা প্রতিরোধ, সময়মতো সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করার ওপর।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং অ্যান্ড রিজেনারেশন বিভাগের কর্পোরেট ডিরেক্টর ডেভিড জয়েস (David Joyce) বলেন, “গৃহহীনতার ক্ষেত্রে আরও ন্যায্য ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। টাওয়ার হ্যামলেটসে আমাদের ‘হোমলেসনেস অ্যান্ড রাফ স্লিপিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৪–২০২৯’-এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের সঙ্গে আগেভাগে কাজ করে গৃহহীনতা প্রতিরোধ করা, উন্নতমানের আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং যখন প্রয়োজন তখন সঠিক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করা।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় রাত কাটানোর ঘটনা যেন বিরল হয়, স্বল্পস্থায়ী হয় এবং পুনরায় না ঘটে – সেব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তিকে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করেই সেবা প্রদান করতে চাই। ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিল হওয়া আমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই আরও শক্তিশালী করেছে, যেখানে প্রতিরোধ ও সহায়তাকে আমাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।”

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হোমলেসনেস অ্যান্ড রাফ স্লিপিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৪–২০২৯ গৃহহীনতা প্রতিরোধে প্রাথমিক হস্তক্ষেপ, নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দেয়। কাউন্সিল বিভিন্ন অংশীদার সংস্থা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কমিউনিটিগুলির সঙ্গে কাজ করে গৃহহীনতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিলের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বিশ্বাস করে তা গৃহহীন ব্যক্তি ও ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য আরও সহায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

কাউন্সিলের লক্ষ্য হলো এমন একটি কমিউনিটি গড়ে তোলা, যেখানে কেউ গৃহহীনতার কারণে পিছিয়ে পড়বে না এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর