img

সংবাদ সম্মেলনে লন্ডনপ্রবাসী আকিক মিয়ার অভিযোগ: মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা

প্রকাশিত :  ০৬:৫৮, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৩, ০২ জুলাই ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে লন্ডনপ্রবাসী আকিক মিয়ার অভিযোগ: মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পূর্ব বুধরাইল গ্রামের লন্ডন প্রবাসী আকিক মিয়া অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি এবং পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার মাধ্যমে নির্যাতন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকিক মিয়া বলেন, ২০১৯ সালে তার বাবা মরহুম ছাবরু মিয়ার মৃত্যুর পর তিনি পরিবারসহ বাংলাদেশে আসেন। সে সময় পৈতৃক সম্পত্তি বুঝে নিতে গেলে তার চাচাতো ভাই আলতা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা স্বজনদেরও বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি একজন আত্মীয়ের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

আকিক মিয়ার দাবি, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা চুরি করা হয় এবং পরবর্তী মাসে বাড়িতে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তিনি জগন্নাথপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়েকজন আত্মীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনের মাধ্যমে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুমের হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের অর্থায়ন ও প্ররোচনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

আকিক মিয়া জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে যাওয়ার আগে তিনি বিষয়টি লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। হাইকমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দেশে ফিরে তিনি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও প্রবাসী কল্যাণ সেলের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে অবস্থানকালে পরিকল্পিতভাবে কয়েকজনকে আহত করে তাকে একটি হত্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআইতে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আকিক মিয়া বলেন, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পিবিআইয়ের মাধ্যমে মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

বৃটিশ-বাংলাদেশীদের ৫০ বছরের জীবন-সংগ্রাম নিয়ে বিশেষ নাটক “উই স্টেইড” মঞ্চায়ন হবে শনিবার

প্রকাশিত :  ১২:০৭, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫২, ০২ জুলাই ২০২৬

লন্ডন ২ জুলাই ২০২৬ : কমিউনিটি সংগঠন ইস্টএন্ড কানেকশন-এর উদ্যোগে আগামী ৪ জুলাই শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় পূর্ব লন্ডনের টয়েনবী হলে মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে বিশেষ নাটক “উই স্টেইড”। ড. মোহাম্মদ আহমদ উল্লাহ রচিত একটি গল্পে নাট্যরূপ দিয়েছেন ড. ক্যানান সালিহ । এই নাটকে বৃটিশ-বাংলাদেশীদের ৫০ বছরের (১৯৫০-২০০০) জীবন-সংগ্রাম স্বপ্ন ও সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে ।

মূলত: কমিউনিটি সংগঠন ইস্টএন্ড কানেকশন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল লটারি ফান্ডের অর্থায়নে বৃটিশ-বাংলাদেশীদের ৫০ বছরের জীবন সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে ‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ -শীর্ষক একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করে । এই প্রজেক্টের অধীনে শনিবার ‘উই স্টেইড” নাটকটি মঞ্চায়ন হবে । এছাড়া একই প্রজেক্টের অধীনে বৃটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির আন্দোলন-সংগ্রাম, বর্ণবাদ-বিরোধী লড়াই এবং কমিউনিটি গঠনের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য একটি ইতিহাসগ্রন্থ প্রকাশিত করবে । ৭শ’ পৃষ্ঠার বইটি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।

প্রকাশিতব্য গ্রন্থের জন্য তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ১২ জন নারি-পুরুষকে নিয়োগ করা হয়েছে । তাদেরকে মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ, গবেষণা, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক তথ্য উপস্থাপনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে । তাঁরা প্রবীণ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগ্রামে সহায়তাকারী অ-বাংলাদেশি ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণে কাজ করছেন ।

ইস্ট এন্ড কানেকশন-এর সেক্রেটারি বদরুল আলম বলেন, ৭০ ও ৮০-এর দশকে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশিরা ভয়াবহ বর্ণবাদী হামলা, দারিদ্র্য, নিম্নমানের আবাসন, শিক্ষাবঞ্চনা ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন । এসব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংগঠিত আন্দোলন, সামাজিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বর্তমানের বহুসাংস্কৃতিক টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন । কিন্তু সেই ইতিহাসের বড় অংশ এখনও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে । ফলে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ সংরক্ষণের জন্য আমরা এই প্রজেক্ট গ্রহণ করেছি।

ইস্ট এন্ড কানেকশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “হেরিটেজ ফান্ডের অনুদান পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত । এই ব্যতিক্রমধর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে গৃহিত প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি । তিনি বলেন, “ইস্ট এন্ড কানেকশন একটি তৃণমূলভিত্তিক কমিউনিটি সংগঠন । আমরা স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন, অনুপ্রেরণা এবং সামাজিকভাবে এগিয়ে নিতে কাজ করি । এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার জন্য হেরিটেজ ফান্ড এবং ন্যাশনাল লটারির প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।




কমিউনিটি এর আরও খবর