টাওয়ার হ্যামলেটসের কোনো শিশু- কিশোর এখন আর কারাগারে নেই
টাওয়ার হ্যামলেটস এবং সিটি অব লন্ডন ইয়ুথ জাস্টিস সার্ভিসের যৌথ পরিচালিত একটি যুগান্তকারী অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগের ফলে টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশুদের প্রথমবারের মতো অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশের হার ৫০ শতাংশ কমে এসেছে। শিশু ও তরুণদের উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ এবং ২২ সালে প্রতি এক লাখে ২৬১ জন শিশু প্রথমবার অপরাধে জড়ালেও ২০২৫ এবং ২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। এই হার লন্ডনের গড় ১৮৩ এবং ইংল্যান্ডের গড় ১৪৫-এর তুলনায় অনেক কম।
বাস্তব সংখ্যার দিক থেকেও ২০২১ এবং ২০২২ সালে যেখানে ৭২ জন শিশু প্রথমবার অপরাধের রেকর্ড পেয়েছিল, সেখানে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬ জনে।
১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩০ হাজারের বেশি শিশুকে নিয়ে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, শিশুদের প্রাথমিক ভুলের কারণে আজীবন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তাদের মধ্যে থাকা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা। আশার কথা হচ্ছে, বর্তমানে টাওয়ার হ্যামলেটসের কোনো শিশু বা কিশোর এখন আর কারাগারে নেই। এই উদ্যোগের ফলে অপরাধের রেকর্ড এড়াতে পারায় শিশু ও তরুণরা সহজে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “শিশুদের অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা একটি অসাধারণ অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, একসঙ্গে কাজ করলে আমরা আমাদের তরুণদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
“প্রতিটি শিশুরই ভুল থেকে শেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সেই ভুলের কারণে সারাজীবন যেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শুধুমাত্র শাস্তি নয়, বরং প্রাথমিক পর্যায়ে সহায়তা, হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করছি।”
টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে বাস্তব জীবনে পরিবর্তনের গল্প। একটি অপরাধের রেকর্ড একজন শিশুর ভবিষ্যৎকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এই অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
“পুলিশ, ইয়ুথ জাস্টিস, হেলথ, এডুকেশন এন্ড সোশ্যাল কেয়ারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে শিশুদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।”
এই সাফল্যের মূল ভিত্তি একটি সমন্বিত ও প্রাথমিক হস্তক্ষেপভিত্তিক মডেল। ছোটখাটো অপরাধ, যেমন সামান্য ভাঙচুর বা গাঁজা রাখার ক্ষেত্রে কমবয়সীদের সরাসরি অপরাধী না বানিয়ে অংশিধারিত্বমূলক বিকল্প সহায়তা কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে তারা সরাসরি অপরাধের রেকর্ড না পায়।
পুলিশ, হেলথ, এডুকেশন, চিলড্রেন সোশ্যাল কেয়ার এন্ড ইয়ুথ ওয়ার্কের সমন্বয়ে ইয়ুথ জাস্টিস সার্ভিসের নেতৃত্বে প্রতিটি শিশুর জন্য উপযুক্ত হস্তক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়। শিশুদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি প্রদান করা হয়।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং সিটি অব লন্ডন ইয়ুথ জাস্টিস সার্ভিস যৌথভাবে ‘আউটকাম ২২’ নামে একটি বিলম্বিত বিচার কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করে। লন্ডনের প্রথম বারা হিসেবে এটি চালু হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধী না করেই তাদের আচরণ সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। সফল পাইলটের পর এখন এই পদ্ধতি লন্ডনজুড়ে চালু করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল হচ্ছে, দেশের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ন এলাকাগুলোর একটি।এই বারা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ন বহন করে। টাওয়ার অব লন্ডন ও ভিরিক্টোয়া পার্ক থেকে শুরু করে ক্যানারি ওয়ার্ফ এবং স্পিটালফিল্ডস পর্যন্ত বিস্তত আকর্ষণের মাধ্যমে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা এবং লন্ডনের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলোর একটি।



















