img

টাওয়ার হ্যামলেটসের কোনো শিশু- কিশোর এখন আর কারাগারে নেই

প্রকাশিত :  ১৩:৩৭, ০৩ জুলাই ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের কোনো শিশু- কিশোর এখন আর কারাগারে নেই

টাওয়ার হ্যামলেটস এবং সিটি অব লন্ডন ইয়ুথ জাস্টিস সার্ভিসের যৌথ পরিচালিত একটি যুগান্তকারী অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগের ফলে টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশুদের প্রথমবারের মতো অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশের হার ৫০ শতাংশ কমে এসেছে। শিশু ও তরুণদের উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ এবং ২২ সালে প্রতি এক লাখে ২৬১ জন শিশু প্রথমবার অপরাধে জড়ালেও ২০২৫ এবং ২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। এই হার লন্ডনের গড় ১৮৩ এবং ইংল্যান্ডের গড় ১৪৫-এর তুলনায়  অনেক কম।

বাস্তব সংখ্যার দিক থেকেও ২০২১ এবং ২০২২ সালে যেখানে ৭২ জন শিশু প্রথমবার অপরাধের রেকর্ড পেয়েছিল, সেখানে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬ জনে।

১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩০ হাজারের বেশি শিশুকে নিয়ে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, শিশুদের প্রাথমিক ভুলের কারণে আজীবন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তাদের মধ্যে থাকা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা। আশার কথা হচ্ছে, বর্তমানে টাওয়ার হ্যামলেটসের কোনো শিশু বা কিশোর এখন আর কারাগারে নেই। এই উদ্যোগের ফলে অপরাধের রেকর্ড এড়াতে পারায় শিশু ও তরুণরা সহজে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “শিশুদের অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা একটি অসাধারণ অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, একসঙ্গে কাজ করলে আমরা আমাদের তরুণদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

“প্রতিটি শিশুরই ভুল থেকে শেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সেই ভুলের কারণে সারাজীবন যেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শুধুমাত্র শাস্তি নয়, বরং প্রাথমিক পর্যায়ে সহায়তা, হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করছি।”

টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে বাস্তব জীবনে পরিবর্তনের গল্প। একটি অপরাধের রেকর্ড একজন শিশুর ভবিষ্যৎকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এই অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

 “পুলিশ, ইয়ুথ জাস্টিস, হেলথ, এডুকেশন এন্ড সোশ্যাল কেয়ারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে শিশুদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।”

এই সাফল্যের মূল ভিত্তি একটি সমন্বিত ও প্রাথমিক হস্তক্ষেপভিত্তিক মডেল। ছোটখাটো অপরাধ, যেমন সামান্য ভাঙচুর বা গাঁজা রাখার ক্ষেত্রে কমবয়সীদের সরাসরি অপরাধী না বানিয়ে অংশিধারিত্বমূলক বিকল্প সহায়তা কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে তারা সরাসরি অপরাধের রেকর্ড না পায়।

পুলিশ, হেলথ, এডুকেশন, চিলড্রেন সোশ্যাল কেয়ার এন্ড ইয়ুথ ওয়ার্কের সমন্বয়ে ইয়ুথ জাস্টিস সার্ভিসের নেতৃত্বে প্রতিটি শিশুর জন্য উপযুক্ত হস্তক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়। শিশুদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি প্রদান করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং সিটি অব লন্ডন ইয়ুথ জাস্টিস সার্ভিস যৌথভাবে ‘আউটকাম ২২’ নামে একটি বিলম্বিত বিচার কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করে। লন্ডনের প্রথম বারা হিসেবে এটি চালু হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধী না করেই তাদের আচরণ সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। সফল পাইলটের পর এখন এই পদ্ধতি লন্ডনজুড়ে চালু করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল হচ্ছে, দেশের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ন এলাকাগুলোর একটি।এই বারা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ন বহন করে। টাওয়ার অব লন্ডন ও ভিরিক্টোয়া পার্ক থেকে শুরু করে ক্যানারি ওয়ার্ফ এবং স্পিটালফিল্ডস পর্যন্ত বিস্তত আকর্ষণের মাধ্যমে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা এবং লন্ডনের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলোর একটি।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিলকে স্বাগত জানিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ১৩:৫৩, ০৩ জুলাই ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট (Vagrancy Act) বাতিল হওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, এই সিদ্ধান্ত গৃহহীনতা মোকাবিলায় আরও মানবিক, ন্যায্য এবং কার্যকর পদ্ধতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্টের আওতায় রাস্তায় বসবাসকারী বা নিরাপদ আশ্রয়বিহীন মানুষদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আইনটি বাতিলের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপদে বসবাসের কোনো স্থান না থাকার কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

কাউন্সিলের মতে, এই আইন বাতিল হওয়া এমন একটি ব্যবস্থা থেকে সরে আসার প্রতীক, যা রাস্তায় বসবাসের (rough sleeping) মূল কারণগুলো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গৃহহীনতা প্রতিরোধ, সময়মতো সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করার ওপর।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং অ্যান্ড রিজেনারেশন বিভাগের কর্পোরেট ডিরেক্টর ডেভিড জয়েস (David Joyce) বলেন, “গৃহহীনতার ক্ষেত্রে আরও ন্যায্য ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। টাওয়ার হ্যামলেটসে আমাদের ‘হোমলেসনেস অ্যান্ড রাফ স্লিপিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৪–২০২৯’-এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের সঙ্গে আগেভাগে কাজ করে গৃহহীনতা প্রতিরোধ করা, উন্নতমানের আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং যখন প্রয়োজন তখন সঠিক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করা।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় রাত কাটানোর ঘটনা যেন বিরল হয়, স্বল্পস্থায়ী হয় এবং পুনরায় না ঘটে – সেব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তিকে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করেই সেবা প্রদান করতে চাই। ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিল হওয়া আমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই আরও শক্তিশালী করেছে, যেখানে প্রতিরোধ ও সহায়তাকে আমাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।”

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হোমলেসনেস অ্যান্ড রাফ স্লিপিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৪–২০২৯ গৃহহীনতা প্রতিরোধে প্রাথমিক হস্তক্ষেপ, নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দেয়। কাউন্সিল বিভিন্ন অংশীদার সংস্থা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কমিউনিটিগুলির সঙ্গে কাজ করে গৃহহীনতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিলের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বিশ্বাস করে তা গৃহহীন ব্যক্তি ও ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য আরও সহায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

কাউন্সিলের লক্ষ্য হলো এমন একটি কমিউনিটি গড়ে তোলা, যেখানে কেউ গৃহহীনতার কারণে পিছিয়ে পড়বে না এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর