img

হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে মঞ্চস্থ হলো ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জীবন-সংগ্রামের নাটক ‘উই স্টেইড’

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ০৬ জুলাই ২০২৬

হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে মঞ্চস্থ হলো ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জীবন-সংগ্রামের নাটক ‘উই স্টেইড’

লন্ডন, ৫ জুলাই ২০২৬:  হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ৫০ বছরের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন ও সাফল্যের কাহিনি নিয়ে নির্মিত নাটক ‘উই স্টেইড’ মঞ্চস্থ হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের টয়েনবি হলে মঞ্চস্থ এ নাটক দেখতে দুই শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

ড. মুহাম্মদ আহমদ উল্লাহ রচিত গল্পের নাট্যরূপ দিয়েছেন ড. ক্যানান সালিহ। কমিউনিটি সংগঠন ইস্ট এন্ড কানেকশনের উদ্যোগে নাটকটি প্রযোজনা ও মঞ্চস্থ করা হয়।

নাটকের কাহিনিতে ষাটের দশকে যুক্তরাজ্যে আসা এক সিলেটি বাংলাদেশির পরিবারের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে আনার পর ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, আবাসন সংকট, বর্ণবাদ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পরিবারটি ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলে। এই পরিবারের গল্পের মধ্য দিয়ে শত শত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অভিবাসীর সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ফুটে ওঠে।

আজকের নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না, তাদের দাদা-নানা কিংবা বাবা-মায়েরা কীভাবে এই দেশে এসে কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুলেছিলেন।

‘উই স্টেইড’-এর অর্থ শুধু ‘আমরা থেকে গেছি’ নয় । এর অর্থ—কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা থেমে থাকিনি, ভয় পাইনি, হার মানিনি । বর্ণবাদ, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অসংখ্য বাধা অতিক্রম করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা নিজেদের অধিকার ও অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা শুধু টিকে থাকিনি; মর্যাদা, সততা ও আত্মসম্মানের সঙ্গে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছি। তাই ‘উই স্টেইড’ শুধু একটি নাটক নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা।

নাটকে বাবা চরিত্রে অভিনয় করেন জিয়াউর রহমান সাকলাইন এবং মায়ের চরিত্রে তাহিয়া। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন হাফসা ইসলাম, নাজিম, রুবায়াত, আয়ান, তাসমিয়া, তারিফ, হেলেন, এনি, এন্থনি, ইভ, আলভান, আমির, আসমাত, জারাসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইস্ট এন্ড কানেকশনের সেক্রেটারি বদরুল আলম। নাটক শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অধ্যাপক শহীদুর রহমান, সাবেক মেয়র দরছ উল্লাহসহ আরও অনেকে। এ সময় নাটকের রচয়িতা ড. মুহাম্মদ আহমদ উল্লাহ নাটকটির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র সয়ফুল আলম, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনমত সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদ, সাংবাদিক সুয়েজ মিয়া এবং সাবেক কাউন্সিলর আইয়ুব করম আলীসহ বিশিষ্টজন ।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল লটারি ফান্ডের অর্থায়নে ইস্ট এন্ড কানেকশন ‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় ‘উই স্টেইড’ নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়েছে। একই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের আন্দোলন-সংগ্রাম, বর্ণবাদবিরোধী লড়াই এবং কমিউনিটি গঠনের ইতিহাস নিয়ে প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

নিউইয়র্ক সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:১১, ০৬ জুলাই ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম অব বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউরসেলের গ্লেন আইল্যান্ড পার্কে গত ২১ জুন   এ ভোনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বীর মক্তিযোদ্ধা মোঃ লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইউ.এস.এ ইনক্—এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ডা: ইনামলু হক এমডি। বনভোজন ২০২৬—এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন আমেরিকান বোর্ড অফ ইন্টারনাল মেডিসিনের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডাঃ রোমানা সি সবর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজী রবিউজ্জামান ও কাজী কিং জাকির। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংগঠনের বিশেষ ম্যাগাজিন ‘আলোকিত ব্রঙ্কস’—এর মোড়ক উন্মোচন এবং বিশ্ব বাবাদিবস উপলক্ষে ‘হ্যাপি ফাদারস ডে’ লেখা কেক কাটা।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে আসন অলংকৃত করেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইউ.এস.এ ইনক্—এর সভাপতি জনাব আতাউর রহমান সেলিম, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ ইয়াছমিন এমডি, স্থানীয় অ্যাসেম্বলি মেম্বার কারিনেস রেইস, হাসান আলী,  লোকমান হোসেন লকু এবং জাকির চৌধুরী সিপিএ। আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) মনজুর আহমেদ বীর প্রতীক, বীর মক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম মন্সী ু , বাংলাবাজার জামে মসজিদের সভাপতি আব্দুস সবুর এবং বীর মক্তিযোদ্ধা মনজুর আহমেদ।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,মধ্যাহ্নভোজ এবং র‌্যাফেল ড্র—এর ব্যবস্থা ছিল। পরিশেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এই মিলনমেলার সফল সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহিম বাদশা, আব্দুস শহীদ, সিরাজ উদ্দীন সোহাগ, মনসুর আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমীন,কবি জুলি রহমান, হাবিবুর রহমান,রেজোয়ানা রাজ্জাক সেতু,সাহানা আক্তার,মুন্সী বশীর উদ্দীন,জাহাঙ্গীর আলম সরদার, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, ডিটেকটিভ মাসুদ রহমান, আক্তারুজ্জামান হ্যাাপি, ডলি আক্তার, জমিরুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, লস্কর রহমান, আবুল খায়ের, জহিরুল ইসলাম, ইমরান আলী টিপু, মেহের কবির চৌধুরী, শেখ শফিকুর রহমান ও রায়হান পারভেজ।

সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম অফ বাংলাদেশী কমিউনিটি ইনক্ বনভোজন ২০২৬ উযাপন কমিটি: আহ্বায়ক বিজয় কৃষ্ণ সাহা, সদস্য সচিব আতিকুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক: হাসান আলী, কামাল উদ্দিন, প্রধান সমন্বয়কারী: খবির উদ্দিন ভূঁইয়া, সমন্বয়কারী: জামাল উদ্দিন আহমেদ কাউসার, নাসির উদ্দিন চিনু, এম এ নাসির (ক্রিড়া), সুধাংশু কুমার মন্ডল, কোষাধ্যক্ষ: আবু তাহের চৌধুরী, কর্পোরাল (অব:) আব্দুল মতিন।

ক্রীড়ায় পুরস্কার বিজয়ী: আম কুড়াঁনো: নাবিল, জাহিয়ান সাদ, আরশ। সেরা দৌড়বিদ (বালিকা): মুনজিরাত আরিশ, আলিয়া, রিশিকা। সেরা দৌড়বিদ (বালিকা): সরফরাজ, সাইকান, ইশাম। সেরা হাড়িঁ ভাঙা (নারী): আইরিন, বি মেহের চৌধুরী, সুলতানা। বালিশ খেলা (নারী): সাবিকুন, জাবিন তাসনিম, তাহমিনা। সেরা বল নিক্ষেপ (পুরুষ): আবু তাহের চৌধুরী, গৌছুল, সাহাদত। সেরা হাঁড়ি ভাঙ্গা (পুরুষ): এমদাদ, চন্দন, জাকির চৌধুরী সিপিএ।


কমিউনিটি এর আরও খবর