img

বেকেনহ্যামে এম নাসের রহমানের সঙ্গে রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের আলোচনা সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:২৩, ১৯ জুলাই ২০২৬

বেকেনহ্যামে এম নাসের রহমানের সঙ্গে রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের আলোচনা সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজনগরবাসীর উদ্যোগে রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে লন্ডনের বেকেনহ্যামস্থ কারি ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউকে বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান তপন, একাটুনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওদুদ আলম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আহমেদ, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আব্দুল হান্নান তরফদার, মৌলভীবাজার জেলার সাবেক ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী, রাজনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল ইসলাম দুদু, ময়না মিয়া, মাকিনুর রশিদ, রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউ কের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোয়ালিন করিম চৌধুরী,সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মহসিন আলী মিন্টু, সহ-সভাপতি ময়নুল ইসলাম বুধু ও জগলু চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম নাসের রহমান যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজনগরবাসীর আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও অব্যাহত সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জনগণ আমাকে যে আস্থা ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই আমার অঙ্গীকার। রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনগর ও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। টেংরা ও কামারচাক এলাকায় আধুনিক ‘ফেলাড সেন্টার’ (Field Centre) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে এলাকার মানুষের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, “দেশের অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। আপনাদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ রাজনগর এবং মৌলভীবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

রাজনগর জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকের নেতারা বলেন, দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতেই এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সুশাসন, প্রবাসীদের ভূমিকা এবং রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণমানুষের কল্যাণ এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জগলু চৌধুরী, ময়নুল ইসলাম বুধু, দেলওয়ার হোসেন, জাভেদ আহমেদ, আজিম উদ্দিন, শাহজাহান চৌধুরী, পিন্টু চৌধুরী, জাকির হোসেন জিতু, রাজনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকিনুর রশিদ, কমরু খান, সৈয়দ রুয়েজ হোসেন, মানিক মিয়া, মুজিবুর রহমান, তবজু খান, রেজাউল ইসলাম মিঠু ও বাবুল আক্তার।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুস শহীদ, গুলজার আহম্মেদ এবং কেন্টের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মেকদাদ খানসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত রাজনগরবাসী, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক শুভানুধ্যায়ী।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এ সময় অতিথিরা প্রবাসীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মিলনমেলা ও আলোচনা সভার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্টারফেইথ ফোরাম (টিএইচআইএফএফ) -এর বৈঠকে সম্প্রীতি ও অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

প্রকাশিত :  ১০:৪১, ১৮ জুলাই ২০২৬

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্টারফেইথ ফোরাম (টিএইচআইএফএফ) -এর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘মিট দ্য ডেপুটি মেয়র’ শীর্ষক এই অধিবেশনে ডেপুটি মেয়র ও ট্যাকলিং ইনইক্যুয়েলিটি এন্ড দ্যা কস্ট-অব লিভিং বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার, বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং কাউন্সিলের কেবিনেট সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকটি ছিল আন্তরিক ও গঠনমূলক, যেখানে বরো জুড়ে সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বমূলক কাজকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় টিএইচআইএফএফ -এর গত এক বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরা হয়। এতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় ধর্মীয় কমিউনিটিগুলোর অবদানের ওপর, বিশেষ করে কমিউনিটি উত্তেজনার সময় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন অ-ধর্মীয় সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার তার বক্তব্যে ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসের শক্তি আমাদের বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত। আমাদের ধর্মীয় ও বিশ্বাসী কমিউনিটিগুলো শুধু আধ্যাত্মিক দিক থেকেই নয়, বরং সামাজিক সংহতি গড়ে তোলা, সংকটের সময় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ানো এবং কমিউনিটির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।\"\"

তিনি বলেন, \"আমরা চাই এই অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হোক। কাউন্সিল হিসেবে আমরা ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে আমরা একসঙ্গে এমন একটি বরো গড়ে তুলতে পারি যেখানে সবাই নিজেকে অন্তর্ভুক্ত ও সম্মানিত মনে করে।”

বৈঠকে উপস্থিত বাসিন্দারা সরাসরি ডেপুটি মেয়রের কাছে তাদের প্রশ্ন উপস্থাপনের সুযোগ পান। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি সেক্টরের অংশীদাররা তাদের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য প্রদান করেন। আলোচনা শেষে কাউন্সিল ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের পর নতুন কেবিনেট সদস্যরা কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে আগ্রহী। সেই ধারাবাহিকতায় এই ফোরাম বৈঠকটি ধর্মীয় নেতাদের মতামত, উদ্বেগ এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসে ধর্মীয় কমিউনিটিগুলো সামাজিক সংহতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। টিএইচআইএফএফ সেই কণ্ঠকে একত্রিত করে, বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং তাদের ইতিবাচক কাজগুলোকে সামনে নিয়ে আসে। 

কমিউনিটি এর আরও খবর