img

ভিক্টোরিয়া পার্কে আবারও ফিরছে চার দিন ব্যাপি “ইন দ্য নেইবারহুড” কমিউনিটি উৎসব

প্রকাশিত :  ১৯:৪৯, ২০ জুলাই ২০২৬

ভিক্টোরিয়া পার্কে আবারও ফিরছে চার দিন ব্যাপি “ইন দ্য নেইবারহুড” কমিউনিটি উৎসব

সোমবার ২৪ আগস্ট - বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট

সোমবার ২৪ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে প্রবেশ শুরু, অন্যান্য দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে

সব বয়সের জন্য চার দিনব্যাপী সম্পূর্ণ বিনামূল্যের কার্যক্রম

লাইভ মিউজিক থেকে শুরু করে খেলাধুলা ও ফিটনেস সেশন, পারিবারিক থিয়েটার শো থেকে অফিস-পরবর্তী খাবার ও পানীয় - সবই থাকছে এই আয়োজনে।

এই বছরের আকর্ষণ গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ ডিজে ইয়োদা’স নাইন্টিজ মিক্সটেপ লাইভ, ট্রোজান সাউন্ড সিস্টেম, ক্যাফে ১০০১ স্টেজ টেকওভার, ডিজে কিজিজি (বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ক), বিনামূল্যের সিনেমা, ওয়েস্ট হ্যাম এফসি ফাউন্ডেশন, রিচ মিক্স স্টেজ টেকওভার, গ্র্যান্ড ইউনিয়ন অর্কেস্ট্রা, হাউস অব ভোগা, মুভ স্টুডিও লন্ডন এবং আরও অনেক কিছু।

ফিটনেস সেশনগুলোর মধ্যে থাকবে, আওয়ার পার্কস ফিটনেস সেশনস, গার্লস অ্যালাউড স্পোর্টস ডে, স্যাম প্রিন ফিটনেস, অ্যাডোর ড্যান্স, জেস ওয়েন যোগা, ওপেনম্যাট পিলাটিস এবং বি ওয়েল লেজার সার্ভিসেস (টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পরিচালিত)।

পরিবার ও শিশুদের জন্য থাকছে হাফ মুন থিয়েটার-এর লাইভ থিয়েটার, বেবি সেন্সরি হ্যাকনি সেশন, এবং দ্য বিগ ড্র, যেখানে আঁকার মাধ্যমে সৃজনশীলতা ও মানসিক সুস্থতা উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়া হয়।

সংগীত প্রেমীদের জন্য থাকবে অর্কেস্ট্রা অব অবজেক্টস এবং স্কুল অব নয়েজ, যেখানে নিজের বাদ্যযন্ত্র তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

কমিউনিটি কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কুইন অব শেবা সোমালি পোয়েট্রি অ্যান্ড ড্যান্স, টামারিন্ড থিয়েটার, অফ দ্য চেস্ট পোয়েট্রি, কমিউনিটি অব ভিয়েতনাম, বাইকওয়ার্কস, সানি জার ইকো হাব, র‍্যাপ এ হাগ এবং আরও অনেক কিছু।

এছাড়াও থাকবে বিনামূল্যের সিনেমা প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক থিয়েটার শো ও কর্মশালা।

ওয়েস্ট হ্যাম এফসি ফাউন্ডেশন-এর তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে ফুটবল সেশন সহ বিভিন্ন মাল্টি-স্পোর্টস কার্যক্রম থাকবে, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সহায়ক। এছাড়াও লাইমহাউজ বক্সিং এবং টাওয়ার হ্যামলেটস হকি অংশ নেবে।

এই আয়োজনটি অল পয়েন্টস ইস্ট উৎসবের অংশ, যা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল-এর সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। সপ্তাহান্তের মিউজিক ফেস্টিভালের মাঝামাঝি সময়ে এই ফ্রি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের লেজার, কালচার এন্ড ট্যুরিজম বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর মিনারা খাতুন বলেন, “এই গ্রীষ্মে আমাদের পুরস্কারপ্রাপ্ত ভিক্টোরিয়া পার্কে আবার ফিরে আসছে ‘ইন দ্য নেইবারহুড’, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই ফ্রি উৎসবটি বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের একত্রিত হওয়ার, রোদ উপভোগ করার এবং লাভ টাওয়ার হ্যামলেটস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তুলে ধরা আমাদের এলাকার বৈচিত্র্য, সৃজনশীলতা ও কমিউনিটি স্পিরিট অনুভব করার একটি চমৎকার সুযোগ।\"\"

তিনি আরও বলেন, \"সব বয়সের মানুষের জন্য কিছু না কিছু রয়েছে - পরিবার, বন্ধু এবং আনন্দপ্রিয় সবার জন্য এটি একটি আদর্শ দিন। আমাদের বারার প্রাণচাঞ্চল্য, সংস্কৃতি এবং কমিউনিটির শক্তি উদযাপনে হাজারো মানুষের সঙ্গে যোগ দিন।”

আরও তথ্যের জন্য অল পয়েন্টস ইস্ট-এর “ইন দ্য নেইবারহুড” ওয়েবসাইট https://www.allpointseastfestival.com/in-the-neighbourhood/ ভিজিট করুন।

উল্লেখ্য, অল পয়েন্টস ইস্ট উৎসবে আরও থাকছেঃ জর্জা স্মিথ ও টেমস (শুক্রবার ২১ আগস্ট), লর্ড (শনিবার ২২ আগস্ট), ডেফটোনস আউটব্রেক ফেস্ট (রবিবার ২৩ আগস্ট), টাইলার, দ্য ক্রিয়েটর (শুক্রবার ২৮ আগস্ট ও শনিবার ২৯ আগস্ট), এবং টুয়েন্টি ওয়ান পাইলটস (রবিবার ৩০ আগস্ট)।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইস্ট লন্ডন মসজিদে আদমশুমারির তথ্য নিয়ে আলোচনা: ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখ

প্রকাশিত :  ২০:০০, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২১:২০, ২০ জুলাই ২০২৬

লন্ডন, ২০ জুলাই ২০২৬ :  ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের আদমশুমারির তথ্যের আলোকে ব্রিটিশ মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন- এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। আলোচনায় ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখে উন্নীত হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।  

১৪ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভায় “সংখ্যায় ব্রিটিশ মুসলিম : কমিউনিটির উন্নয়নে নেতৃত্বদানকারীদের জন্য আদমশুমারির তথ্য” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় । এতে গত দুই দশকে ব্রিটিশ মুসলিম সমাজের জনসংখ্যাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  আলোচনা সভাটি ইস্ট লন্ডন মসজিদের 'ইএলএম কনেক্স' প্রজেক্টের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনের রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন কমিটির দুই গবেষক ড. জামিল শরীফ এবং ফাতেমা সুন্দারজি।

প্রথম পর্বে ড. জামিল শরীফ ব্রিটেনের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তন তুলে ধরেন । তিনি জানান, এক দশকে ব্রিটেনে মুসলমানের সংখ্যা ২৮ লাখ থেকে বেড়ে ৪০ লাখে পৌঁছেছে । দশ বছরে বেড়েছে ১২ লাখ মুসলিম।

ড. শরীফ জামিল মুসলিম কমিউনিটির বয়স কাঠামো ও সামাজিক অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও পেশাজীবী পদে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ২০০১ সালে ছিলো ৬.৬ শতাংশ। কিন্তু এটা বেড়ে ২০২১ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তিনি মুসলমানদের সম্পর্কে প্রচলিত কিছু উগ্র ডানপন্থী প্রচারণারও তথ্যভিত্তিক জবাব দেন । উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মুসলিম। আবার মুসলমানরা ইংরেজি বলতে পারেন না—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। আদমশুমারী অনুযায়ী, ৯১ শতাংশ মুসলমানের ইংরেজি ভালো বা খুব ভালোভাবে বলতে পারেন, যেখানে জাতীয় গড় ৯৮ শতাংশ।

ফাতেমা সুন্দারজি টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যার বিস্তার এবং ইনডেক্স অব মাল্টিপল ডিপ্রাইভেশন-এর (বহুমাত্রিক বঞ্চনা সূচক) সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যা ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে । এসব এলাকায় মুসলিমদের প্রধান সমস্যা আবাসন । তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের সমস্যাগুলো কি শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী কমিউনিটির সঙ্গেও মিল রয়েছে?

ফাতেমা সুন্দারজি জানান, মুসলিম পরিবারের ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বিবাহিত দম্পতি ও নির্ভরশীল সন্তান নিয়ে গঠিত, যা যুক্তরাজ্যের সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং জাতীয় গড়ের আড়াই গুণ। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান একাকী বসবাস করেন, যা মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

চারটি বরোতে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ৫৬.৮ শতাংশ মুসলিম, যেখানে পুরো যুক্তরাজ্যে এ হার মাত্র প্রতি দশজনে একজন।

শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম তরুণদের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে। ২০০১ সালে সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও ২০২১ সালে তারা সেই অবস্থান অতিক্রম করেছে। বর্তমানে তরুণ মুসলিম নারীরা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মুসলিম পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন । টাওয়ার হ্যামলেটসে মুসলিম নারীদের ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী, যা ইংল্যান্ডের প্রধান মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রবীণ মুসলিমদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। টাওয়ার হ্যামলেটসে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলিম নারীদের ৪০.৫ শতাংশ নিজেদের স্বাস্থ্যকে খারাপ বা খুব খারাপ বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে একই বয়সী সব নারীর ক্ষেত্রে এ হার ২৬.৮ শতাংশ।

এছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলমান ইংরেজি বলতে পারেন না, যাদের অধিকাংশই নারী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আগামী দুই দশকে প্রবীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে—সেই বাস্তবতার জন্য কমিউনিটি কতটা প্রস্তুত?

সমাপনী উপস্থাপনায় ড. জামিল শরীফ ২০২৯ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়; বরং ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনী ইশতেহার বিশ্লেষণ এবং প্রার্থীদের জন্য জবাবদিহিমূলক প্রশ্নমালা তৈরির মাধ্যমে সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে।


কমিউনিটি এর আরও খবর