img

৩ শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে মারিয়াম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো স্বাস্থ্য মেলা

প্রকাশিত :  ১৯:৫৯, ২০ জুলাই ২০২৬

৩ শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে মারিয়াম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো স্বাস্থ্য মেলা

লন্ডন, ২০ জুলাই ২০২৬: ইস্ট লন্ডন মসজিদের মারিয়াম সেন্টারে পাবলিক হেলথ ও লাইমহাউস প্রজেক্টের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ নারী স্বাস্থ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুসলিম নারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন পেশাজীবী ও অংশীদার প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সুস্থ জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে পাবলিক হেলথ কর্মকর্তা আবরার বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীরা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের শ্বেতাঙ্গ সমবয়সীদের তুলনায় গড়ে প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এ ধরনের সহজ জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই স্বাস্থ্য মেলায় ৩ শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ, তথ্যবিষয়ক স্টল এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

মারিয়াম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম উপস্থিত নারীদেরকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন । তিনি বলেন, ইসলাম আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন: \"পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি বিষয়কে মূল্য দাও—১. বার্ধক্যের আগে তোমার যৌবনকে। ২. অসুস্থতার আগে তোমার সুস্থতাকে। ৩. দারিদ্র্যের আগে তোমার সম্পদকে। ৪. ব্যস্ততার আগে তোমার অবসর সময়কে। ৫. মৃত্যুর আগে তোমার জীবনকে।\"

তিনি বলেন, নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি ইসলামের শিক্ষা ও আমাদের ঈমানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাউন্সিলর সাবিনা আখতার, কাউন্সিলর শ্যানেলি মিয়া এবং কাউন্সিলর রৌজি খানম উপস্থিত ছিলেন । তাঁরা সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং স্বাস্থ্যকর কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কাউন্সিলর রৌজি খানম জাতীয় পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবেও সক্রিয়, যা নারীদের খেলাধুলা ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

আয়োজকদের মতে, কমিউনিটিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে । বিশেষ করে মুসলিম নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইস্ট লন্ডন মসজিদে আদমশুমারির তথ্য নিয়ে আলোচনা: ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখ

প্রকাশিত :  ২০:০০, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২১:২০, ২০ জুলাই ২০২৬

লন্ডন, ২০ জুলাই ২০২৬ :  ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের আদমশুমারির তথ্যের আলোকে ব্রিটিশ মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন- এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। আলোচনায় ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখে উন্নীত হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।  

১৪ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভায় “সংখ্যায় ব্রিটিশ মুসলিম : কমিউনিটির উন্নয়নে নেতৃত্বদানকারীদের জন্য আদমশুমারির তথ্য” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় । এতে গত দুই দশকে ব্রিটিশ মুসলিম সমাজের জনসংখ্যাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  আলোচনা সভাটি ইস্ট লন্ডন মসজিদের 'ইএলএম কনেক্স' প্রজেক্টের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনের রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন কমিটির দুই গবেষক ড. জামিল শরীফ এবং ফাতেমা সুন্দারজি।

প্রথম পর্বে ড. জামিল শরীফ ব্রিটেনের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তন তুলে ধরেন । তিনি জানান, এক দশকে ব্রিটেনে মুসলমানের সংখ্যা ২৮ লাখ থেকে বেড়ে ৪০ লাখে পৌঁছেছে । দশ বছরে বেড়েছে ১২ লাখ মুসলিম।

ড. শরীফ জামিল মুসলিম কমিউনিটির বয়স কাঠামো ও সামাজিক অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও পেশাজীবী পদে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ২০০১ সালে ছিলো ৬.৬ শতাংশ। কিন্তু এটা বেড়ে ২০২১ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তিনি মুসলমানদের সম্পর্কে প্রচলিত কিছু উগ্র ডানপন্থী প্রচারণারও তথ্যভিত্তিক জবাব দেন । উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মুসলিম। আবার মুসলমানরা ইংরেজি বলতে পারেন না—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। আদমশুমারী অনুযায়ী, ৯১ শতাংশ মুসলমানের ইংরেজি ভালো বা খুব ভালোভাবে বলতে পারেন, যেখানে জাতীয় গড় ৯৮ শতাংশ।

ফাতেমা সুন্দারজি টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যার বিস্তার এবং ইনডেক্স অব মাল্টিপল ডিপ্রাইভেশন-এর (বহুমাত্রিক বঞ্চনা সূচক) সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যা ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে । এসব এলাকায় মুসলিমদের প্রধান সমস্যা আবাসন । তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের সমস্যাগুলো কি শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী কমিউনিটির সঙ্গেও মিল রয়েছে?

ফাতেমা সুন্দারজি জানান, মুসলিম পরিবারের ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বিবাহিত দম্পতি ও নির্ভরশীল সন্তান নিয়ে গঠিত, যা যুক্তরাজ্যের সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং জাতীয় গড়ের আড়াই গুণ। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান একাকী বসবাস করেন, যা মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

চারটি বরোতে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ৫৬.৮ শতাংশ মুসলিম, যেখানে পুরো যুক্তরাজ্যে এ হার মাত্র প্রতি দশজনে একজন।

শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম তরুণদের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে। ২০০১ সালে সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও ২০২১ সালে তারা সেই অবস্থান অতিক্রম করেছে। বর্তমানে তরুণ মুসলিম নারীরা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মুসলিম পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন । টাওয়ার হ্যামলেটসে মুসলিম নারীদের ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী, যা ইংল্যান্ডের প্রধান মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রবীণ মুসলিমদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। টাওয়ার হ্যামলেটসে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলিম নারীদের ৪০.৫ শতাংশ নিজেদের স্বাস্থ্যকে খারাপ বা খুব খারাপ বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে একই বয়সী সব নারীর ক্ষেত্রে এ হার ২৬.৮ শতাংশ।

এছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলমান ইংরেজি বলতে পারেন না, যাদের অধিকাংশই নারী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আগামী দুই দশকে প্রবীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে—সেই বাস্তবতার জন্য কমিউনিটি কতটা প্রস্তুত?

সমাপনী উপস্থাপনায় ড. জামিল শরীফ ২০২৯ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়; বরং ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনী ইশতেহার বিশ্লেষণ এবং প্রার্থীদের জন্য জবাবদিহিমূলক প্রশ্নমালা তৈরির মাধ্যমে সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে।


কমিউনিটি এর আরও খবর