৩ শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে মারিয়াম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো স্বাস্থ্য মেলা
লন্ডন, ২০ জুলাই ২০২৬: ইস্ট লন্ডন মসজিদের মারিয়াম সেন্টারে পাবলিক হেলথ ও লাইমহাউস প্রজেক্টের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ নারী স্বাস্থ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুসলিম নারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন পেশাজীবী ও অংশীদার প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সুস্থ জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে পাবলিক হেলথ কর্মকর্তা আবরার বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীরা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের শ্বেতাঙ্গ সমবয়সীদের তুলনায় গড়ে প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এ ধরনের সহজ জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই স্বাস্থ্য মেলায় ৩ শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ, তথ্যবিষয়ক স্টল এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মারিয়াম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম উপস্থিত নারীদেরকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন । তিনি বলেন, ইসলাম আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন: \"পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি বিষয়কে মূল্য দাও—১. বার্ধক্যের আগে তোমার যৌবনকে। ২. অসুস্থতার আগে তোমার সুস্থতাকে। ৩. দারিদ্র্যের আগে তোমার সম্পদকে। ৪. ব্যস্ততার আগে তোমার অবসর সময়কে। ৫. মৃত্যুর আগে তোমার জীবনকে।\"
তিনি বলেন, নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি ইসলামের শিক্ষা ও আমাদের ঈমানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাউন্সিলর সাবিনা আখতার, কাউন্সিলর শ্যানেলি মিয়া এবং কাউন্সিলর রৌজি খানম উপস্থিত ছিলেন । তাঁরা সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং স্বাস্থ্যকর কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কাউন্সিলর রৌজি খানম জাতীয় পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবেও সক্রিয়, যা নারীদের খেলাধুলা ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
আয়োজকদের মতে, কমিউনিটিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে । বিশেষ করে মুসলিম নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



















