img

টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন কমিউনিটি গ্র্যান্টস কর্মসূচি গঠনে মতামত আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৫:৩৪, ০৪ আগষ্ট ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন কমিউনিটি গ্র্যান্টস কর্মসূচি গঠনে মতামত আহ্বান

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আগামী প্রজন্মের ‘মেয়র’স কমিউনিটি গ্র্যান্টস প্রোগ্রাম’ গঠনের লক্ষ্যে বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি খাতের (ভিসিএস) সংগঠন, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় গ্রুপগুলোর কাছ থেকে মতামত আহ্বান করেছে।

২০২৩ সাল থেকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি সংগঠন দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও সহায়তা পেয়ে আসছে। বর্তমান অর্থায়ন চক্র ২০২৭ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের কর্মসূচি কীভাবে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কমিউনিটিকেন্দ্রিক করা যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছে কাউন্সিল।

কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করার আগে স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ এবং মতামত জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ তহবিলায়ন যেন প্রকৃত কমিউনিটি চাহিদার প্রতিফলন ঘটায়, সফল উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী করে এবং যেখানে উন্নতির সুযোগ রয়েছে সেসব ক্ষেত্রকে আরও কার্যকরভাবে সমর্থন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জন্য দারিদ্র্য মোকাবিলা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, যুব উন্নয়ন, বয়স্কদের সহায়তা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

কাউন্সিল মনে করছে, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন কমিউনিটি গ্র্যান্টস কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হলে সরাসরি কমিউনিটির কণ্ঠস্বর শোনা জরুরি। এ কারণেই বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

জনসম্পৃক্ততা কার্যক্রম শুরু হয়েছে  জুলাই ২০২৬-এর মধ্যভাগে এবং এই কার্ক্রম চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

আলোচনায় গুরুত্ব পাবে, স্থানীয় অগ্রাধিকার, কমিউনিটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা, বিদ্যমান কর্মসূচির সফল দিকগুলো এবং ভবিষ্যৎ অর্থায়নের মাধ্যমে কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী ও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

কীভাবে অংশগ্রহণ করবেন?

কাউন্সিল বাসিন্দাদের বিভিন্ন উপায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

স্থানীয় অগ্রাধিকার ও তহবিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণ

বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পপ-আপ এনগেজমেন্ট স্টলে সরাসরি মতামত প্রদান

অনলাইন জরিপ (সার্ভে) পূরণ করা

আসন্ন কর্মশালার সূচি

১৮ আগস্ট ২০২৬ (মঙ্গলবার), সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা: অনলাইন সেশন

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার), বিকেল ৫:৩০টা থেকে ৭:৩০টা, স্থানঃ বার্নি কেমেরুন সেন্টার, ৩২ মার্চেন্ট স্ট্রিট, লন্ডন ই৩ ৪এলএক্স

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার), সকাল ১০:৩০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা, স্থানঃ ব্রাডি আর্টস সেন্টার, ১৯২-১৯৬ হ্যানবারি স্ট্রিট, লন্ডন ই১ ৫এইচইউ

ছোট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর জন্য বিশেষ কর্মশালা

যেসব ভিসিএস সংগঠনের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের কম, তাদের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার), সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনলাইনে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

সবার মতামত গুরুত্বপূর্ণ

কাউন্সিলের মতে, নতুন কমিউনিটি গ্র্যান্টস প্রোগ্রাম এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে এটি স্থানীয় মানুষের বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন ঘটায় এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের বৈচিত্র্যময় কমিউনিটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনে।

তাই বাসিন্দা, কমিউনিটি কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় সংগঠন এবং অংশীদারদের এই পরামর্শ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে: [email protected]

কমিউনিটির ভবিষ্যৎ গঠনে আপনার মতামত গুরুত্বপূর্ণ। আজই অংশ নিন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের আগামী দিনের কমিউনিটি গ্র্যান্টস কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখুন।


 


 


 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

আরও সংস্কৃতি-অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদ্যালয় গড়ে তুলতে কেন স্কটল্যান্ডের উচিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা শোনা.

প্রকাশিত :  ১৫:১৮, ০৪ আগষ্ট ২০২৬

ফয়ছল চৌধুরী এমবিই

স্কটল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে সমতা, ন্যায্যতা এবং শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি জাতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছে। এই মূল্যবোধগুলো আমাদের আইন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়। কেবল শিক্ষাগত সাফল্য অর্জনেই নয়, বরং তরুণেরা সারা জীবন ধরে যেসব মনোভাব, মূল্যবোধ এবং বোঝাপড়া বয়ে বেড়ায়, তা গঠনে বিদ্যালয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয় এমন এক জায়গা যেখানে শিশুরা নিজেদের সম্পর্কে, একে অপরের সম্পর্কে এবং তারা যে বৈচিত্র্যময় সমাজে বাস করে সে সম্পর্কে শেখে। স্কটল্যান্ড যেহেতু আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি জাতি হয়ে ওঠার পথে তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে, তাই আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক যেখানে প্রতিটি শিশু নিজেকে সম্মানিত, মূল্যায়িত এবং সত্যিই সেই পরিবেশের একটি অংশ বলে মনে করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, স্কটিশ শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে সমতা, বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি জোরদার করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। \'ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট ২০১০\' এবং \'পাবলিক সেক্টর ইকুয়ালিটি ডিউটি\' একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রদান করে, যা বিদ্যালয় এবং সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোকে বৈষম্য দূর করতে, সুযোগের সমতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন পটভূমির মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধ্য করে। জাতীয় পর্যায়ে, স্কটিশ সরকার বর্ণ বৈষম্য দূরীকরণ ও বর্ণবাদ-বিরোধী শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে; কারণ তারা স্বীকার করে যে কুসংস্কারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে শিক্ষার একটি মৌলিক ভূমিকা রয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে, \'সিটি অফ এডিনবরা কাউন্সিল\' তাদের \'ইকুয়ালিটি, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন অ্যাকশন প্ল্যান\'-এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিক্ষক ও স্কুল কর্মচারীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈচিত্র্যময় ও উপনিবেশমুক্ত পাঠ্যক্রম তৈরির দিকনির্দেশনা, দাসত্ব ও উপনিবেশবাদের সাথে স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক সম্পর্কের পাঠদান, সমগ্র বিদ্যালয়জুড়ে বর্ণবাদ-বিরোধী কর্মসূচিকে সমর্থন জানানো এবং নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ভাষার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই উদ্যোগগুলো বিপুল বিনিয়োগের পরিচয় দেয় এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য একটি আন্তরিক প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।

এই ধরনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো এবং স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়।

শিক্ষার্থী এবং স্কুলের কর্মীরা নিজেরা এই পরিবর্তনগুলোকে কীভাবে অনুভব বা প্রত্যক্ষ করছেন?

আজকের দিনে স্কটিশ শিক্ষার ক্ষেত্রে এটিই সম্ভবত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদিও বিভিন্ন নীতি, কৌশল এবং সম্পদ তৈরির দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে এই উদ্যোগগুলো শিক্ষার্থী ও কর্মীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় কোনো অর্থপূর্ণ উন্নতি এনেছে কি না, তা বোঝার দিকে অনেক কম মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

নীতি বা নিয়মাবলী গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কেবল নীতি আমাদের বলতে পারে না যে শিশুরা নিজেদের অন্তর্ভুক্ত মনে করছে কি না, শিক্ষকেরা বর্ণবাদ-বিরোধী শিক্ষা প্রদানে আত্মবিশ্বাসী কি না, কিংবা বিদ্যালয়ের পরিবেশগুলো সত্যিই সংস্কৃতি-অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠেছে কি না। কতগুলো নীতি চালু করা হলো, কতগুলো নির্দেশিকা প্রকাশ করা হলো বা কতগুলো প্রশিক্ষণ সেশন নেওয়া হলো—শুধুমাত্র তার ভিত্তিতে সফলতা মাপা যায় না। এটি পরিমাপ করতে হবে যারা প্রতিদিন আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে বাস করে ও কাজ করে, তাদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে।

স্কটিশ পার্লামেন্টের একজন সদস্য এবং সংস্কৃতি, ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক শ্যাডো মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি সবসময় সমতা, বর্ণবাদ-বিরোধী অবস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পক্ষে সোচ্চার ছিলাম। আমি বর্ণবাদ-বিরোধী শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ নিয়ে পার্লামেন্টে প্রশ্ন তুলেছি, শিক্ষায় বর্ণ সমতা ও বর্ণবাদ-বিরোধী কর্মসূচির বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় এনেছি, এবং স্কটল্যান্ডের পাঠ্যক্রমে আমাদের যৌথ ইতিহাস—যার মধ্যে দাসত্ব, উপনিবেশবাদ এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর অবদান অন্তর্ভুক্ত—তা যেন আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়, সেই দাবি জানিয়েছি।

সংসদের বাইরেও, কীভাবে স্কটল্যান্ড বর্ণবাদ-বিরোধী শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং কীভাবে জাতীয় নীতিগুলো শিশু ও তরুণদের জন্য অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে আমি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি এবং সরকারি মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করেছি। বর্ণবাদ মোকাবিলায় এবং অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে শিক্ষা কীভাবে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে তা অনুসন্ধানের জন্য আমি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক এবং সমতা বজায় রাখার আন্দোলনের কর্মীদের সাথে বৈঠক করেছি। এই আলোচনাগুলো আমার দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, নীতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও, তা অবশ্যই জোরালো প্রমাণ এবং যেসব মানুষের সহযোগিতার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

আমার সংসদীয় ক্যারিয়ার জুড়ে, আমি স্কটিশ সমাজজুড়ে অভিজ্ঞতা হওয়া বর্ণবাদের ব্যাপক রূপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছি—যার মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্রে বর্ণ বৈষম্য এবং বর্ণবাদী ঘটনার খবর বা রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আসা বাধাগুলো। \'এডিনবরা অ্যান্ড লোদিয়ানস রিজিয়নাল ইকুয়ালিটি কাউন্সিল\' (ELREC)-এর সাথে আমার কাজের মাধ্যমে—যেখানে আমি সমতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াতে বহু বছর ধরে কাজ করেছি—আমি স্বচক্ষে দেখেছি যে সম্প্রদায়গুলোর কথা শোনা এবং সরকারি নীতিতে কোনো অনুমানের ওপর ভিত্তি না করে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটানোর গুরুত্ব কতটা। এই একই নীতি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

আরও প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা \'ইকুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কমিশন\'-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন \'ইকুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস মনিটর: ইজ স্কটল্যান্ড ফেয়ারার? (২০২৩)\'-এর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়। অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি, এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যে বর্ণবাদী মনোভাব থেকে তৈরি হওয়া বুলিং এবং বর্ণবাদ-সংক্রান্ত বিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলো এখনও স্কটল্যান্ডজুড়ে শিশু ও তরুণদের প্রভাবিত করছে। এটি প্রমাণ করে যে যদিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়েছে, তবুও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

একইভাবে, \'সিটি অফ এডিনবরা কাউন্সিল\'-এর পূর্ববর্তী কাজের মাধ্যমে বর্ণবাদী ঘটনার রিপোর্ট করার প্রক্রিয়া উন্নত করা, পরবর্তী সহায়তা সুদৃঢ় করা, পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করা এবং বিদ্যালয়ের ভেতরে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে \'জিরো-টলারেন্স\' বা শূন্য-সহনশীলতা দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছিল। এই সুপারিশগুলো ভবিষ্যতের অগ্রগতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রদান করে। তবে, এই পরিবর্তনগুলো দৈনন্দিন স্কুল সংস্কৃতির ভেতরে কতটা কার্যকরভাবে মিশে গেছে বা প্রতিদিন যারা স্কুলের জীবন অভিজ্ঞতা করছেন—সেই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের কাছে তা কীভাবে অনুভূত হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও সীমিত প্রমাণ রয়েছে।

ঠিক এই জায়গাতেই নতুন গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিদ্যালয়গুলো কেবল নির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করেছে নাকি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে—শুধুমাত্র সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে, গবেষণার উচিত বিদ্যালয়গুলো মানসিকভাবে কতটা সংস্কৃতি-অন্তর্ভুক্তিমূলক তা বোঝার চেষ্টা করা। শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও সংস্কৃতি স্বীকৃত ও সম্মানিত হচ্ছে কি না, কর্মীরা অন্তর্ভুক্তি বজায় রাখতে ও বর্ণবাদকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম বোধ করছেন কি না, এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ সবার মধ্যে একটি প্রকৃত আত্মিক টান তৈরি করতে পারছে কি না—তা অন্বেষণ করা উচিত এই গবেষণার।

সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি কেবল আইন মেনে চলার চেয়েও বেশি কিছু। এটি নিশ্চিত করা যে প্রতিটি শিক্ষার্থী, তাদের বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, বিশ্বাস বা সাংস্কৃতিক পটভূমি নির্বিশেষে সম্মানিত বোধ করে, নিজেদের প্রতিনিধিত্ব দেখতে পায় এবং স্কুলের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারে। এটি স্বীকার করার বিষয় যে—নেতৃত্ব, পাঠ্যক্রম, পারস্পরিক সম্পর্ক, বিদ্যালয়ের নৈতিক পরিবেশ এবং দৈনন্দিন যোগাযোগের মাধ্যমেই এই অন্তর্ভুক্তি গড়ে ওঠে।

জ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দূর করতে, আমি বিশ্বাস করি এডিনবরার প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং বিশেষ বিদ্যালয়গুলোতে শহরজুড়ে একটি বিস্তৃত গবেষণা কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। প্রশ্নাবলী এবং ফোকাস গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও স্কুল কর্মীদের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে এই গবেষণা সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তির অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রমাণ সরবরাহ করবে এবং কোথায় আরও উন্নতির প্রয়োজন তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। গবেষণার ফলাফলগুলো বিদ্যালয়ের ভেতরের শক্তি এবং চ্যালেঞ্জ উভয়কেই চিহ্নিত করতে, ভবিষ্যতের নীতি ও প্রয়োগকে রূপ দিতে এবং সমগ্র স্কটল্যান্ডজুড়ে বর্ণ সমতা ও বর্ণবাদ-বিরোধী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখতে পারে।

এডিনবরার একটি বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী গবেষণার ওপর ভিত্তি করে, এখন শহরের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং বিশেষ বিদ্যালয়গুলোতে এই কাজ সম্প্রসারিত করার একটি সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের গবেষণা এডিনবরার শিক্ষা ব্যবস্থা জুড়ে সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রথম পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ণ প্রদান করবে। পাশাপাশি, যাদের উপকারের জন্য বর্ণবাদ-বিরোধী শিক্ষা এবং সমতার উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে, তারা এগুলোকে কীভাবে গ্রহণ করছেন সে বিষয়ে একটি মূল্যবান ধারণাও দেবে।

এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যালয়কে মূল্যায়ন বা র‍্যাঙ্কিং করা নয়; বরং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা আরও ভালোভাবে বোঝা, কার্যকর অনুশীলনের উদাহরণ চিহ্নিত করা, সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তির বাধাগুলো অন্বেষণ করা এবং ভবিষ্যতের নীতি ও প্রয়োগ নির্ধারণে শক্তিশালী প্রমাণ তৈরি করা।

স্কটল্যান্ডজুড়ে শিক্ষক, স্কুল প্রধান এবং সহায়ক কর্মীরা নিরাপদ, স্বাগত জানানোর মতো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অনেক বিদ্যালয় সমতা রক্ষা, বৈচিত্র্য উদযাপন এবং তাদের সংস্কৃতির ভেতরে বর্ণবাদ-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার ক্ষেত্রে অসামান্য নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছে। এই ভালো কাজের উদাহরণগুলোকে তুলে ধরা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা গুরুত্বপূর্ণ যেসব ক্ষেত্রে আরও সহায়তা বা উন্নতির প্রয়োজন সেগুলো চিহ্নিত করা।

শিক্ষার্থী ও স্কুল কর্মীদের কথা সরাসরি শোনার মাধ্যমে, এই গবেষণা নীতি-নির্ধারক, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যালয়গুলোকে কোনটি ভালো কাজ করছে, কোথায় চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে এবং কোন পদক্ষেপগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে—সে সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে। এই ফলাফলগুলো ভবিষ্যতের পাঠ্যক্রম উন্নয়নে, শিক্ষকদের পেশাগত শিক্ষা জোরদার করতে, বর্ণবাদী ঘটনার রিপোর্ট ও প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া জানানোর উপায় উন্নত করতে এবং স্কটিশ শিক্ষায় বর্ণ সমতা ও সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে প্রমাণ-ভিত্তিক নীতির ধারাবাহিক উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা নিশ্চিত করবে যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কণ্ঠস্বর এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে থাকবে। স্কটল্যান্ড যদি সমতা, শ্রদ্ধা এবং অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধকে সত্যিকারে প্রতিফলিত করে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে যারা আমাদের স্কুলে শেখে এবং কাজ করে, তাদের নীতি ও পদ্ধতি নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে যিনি বহু বছর ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করেছেন, স্কটিশ পার্লামেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমতার পক্ষে সওয়াল করেছেন—আমি মনে করি আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসে পৌঁছেছি। স্কটল্যান্ড আইন, নীতি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হলো একটি অর্থপূর্ণ গবেষণার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির প্রভাব মূল্যায়ন করা।

ভালো নীতি সবসময় ভালো প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া উচিত। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের কথা শোনা কেবল একটি একাডেমিক অনুশীলন নয়। কোনটি কাজ করছে, কোথায় আরও উন্নতির প্রয়োজন এবং কীভাবে আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অব্যাহত রাখতে পারি যেখানে প্রতিটি শিশু নিজেকে মূল্যায়িত, সম্মানিত এবং সফল হওয়ার জন্য ক্ষমতায়িত মনে করে—তা বোঝার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আমরা যদি সত্যিই সংস্কৃতি-অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদ্যালয় তৈরি করতে চাই, তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে শিক্ষার মূলে যারা রয়েছে, তাদের কণ্ঠস্বর যেন সমতার দিকে স্কটল্যান্ডের এই যাত্রার পরবর্তী অধ্যায়কে রূপ দেয়। কেবল শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের কথা শোনার মাধ্যমেই আমরা এমন নীতি তৈরি করতে পারি যা কেবল ভালো ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে কার্যকর; এবং এমন বিদ্যালয় তৈরি করতে পারি যেখানে বৈচিত্র্যকে উদযাপন করা হয়, অন্তর্ভুক্তি স্থায়ী রূপ নেয় এবং প্রতিটি তরুণের বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকে।

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়কেই ভালোভাবে শিক্ষিত করার মাধ্যমে, আমরা বর্ণবাদ, ঘৃণা ও বৈষম্য কমাতে এবং আরও শক্তিশালী ও সুসংহত সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারি। শিক্ষার কেবল ব্যক্তিগত জীবনকে নতুন রূপ দেওয়ার ক্ষমতাই নেই, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমাজকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। প্রতিটি পাঠ যা পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বাড়ায়, প্রতিটি আলোচনা যা কুসংস্কারকে চ্যালেঞ্জ করে এবং প্রতিটি বিদ্যালয় যা সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তিকে গ্রহণ করে—তা একটি আরও সমান এবং সহানুভূতিশীল স্কটল্যান্ড গঠনে অবদান রাখে।

আমার প্রিয় বন্ধু, প্রয়াত স্যার জিওফ পালমারের সেই কথাগুলো আমাদের প্রায়ই মনে করিয়ে দেয়, ‘আমরা অতীতকে পরিবর্তন করতে পারি না, তবে আমরা আমাদের সমাজের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে পরিবর্তন করতে পারি।’ সেই কথাগুলো আজকেও সমানভাবে প্রযোজ্য। আমরা ইতিহাসের অন্যায়গুলোকে মুছে ফেলতে পারি না, কিন্তু আমরা সেগুলো থেকে শিখতে পারি। আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বর্ণবাদকে প্রত্যাখ্যান করার, বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এবং আমাদের জাতিকে সমৃদ্ধকারী বৈচিত্র্যকে উদযাপন করার জ্ঞান, সহানুভূতি ও আত্মবিশ্বাসে 

বলীয়ান হয়ে ওঠে।

এই নিবন্ধে প্রস্তাবিত গবেষণাটি কেবল তথ্য সংগ্রহের জন্য নয়। এটি শোনার বিষয়। এটি শেখার বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি নিশ্চিত করা যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাবিদদের অভিজ্ঞতা যেন স্কটিশ শিক্ষার ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করে। প্রতিটি শিশু নিজেকে যার অংশ মনে করে—এমন বিদ্যালয় তৈরির বিষয়ে আমরা যদি সত্যিই আন্তরিক হই, তবে তাদের কণ্ঠস্বরকে আমাদের সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রাখতে হবে। তা করার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করব না, বরং এমন একটি স্কটল্যান্ড তৈরিতেও সাহায্য করব যা আরও ন্যায্য, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।


লেখক: ফয়ছল চৌধুরী এমবিই, প্রাক্তন সদস্য, স্কটিশ পার্লামেন্ট এবং প্রাক্তন শ্যাডো মিনিস্টার (সংস্কৃতি, ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন.

কমিউনিটি এর আরও খবর