img

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ইউকে’র উদ্যোগে বনভোজন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৬:৪৯, ১৫ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৫৮, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

সব ব্যস্ততা দূরে ঠেলে বনভোজনে মিলেছে সবাই সাগর পাড়ে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ইউকে’র উদ্যোগে বনভোজন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

প্রতিবারের ন‍্যায় গত ৯ই আগস্ট রবিবার ২০২৬ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির উদ্যোগে বাৎসরিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ক্লাক্টন অন সিই’র পাড়ে সকল সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংস্কৃতি, সংগীত, সাহিত্য এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। এটি সুরসম্রাট উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, মীর আলতাফ হোসেন এবং অদ্বৈত মল্লবর্মণের মতো গুণীজনদের জন্মস্থান। ঐতিহ্যবাহী ছানামুখী মিষ্টি, তিতাস নদীর তীরবর্তী সংস্কৃতি, নৌকা বাইচ এবং পুতুল নাচ এই জেলার বিশেষ পরিচিতি। প্রবাসে বসবাস করেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির সদস্যরা তাদের ঐতিহ্য ও শেকড় আঁকড়ে ধরে আছেন।

গত রোববার সংগঠনের  সদস্যদের পরিবার-পরিজনদের  অংশগ্রহণে পিকনিক বা বনভোজন পরিণত হয়েছিল এক আনন্দঘন ও অবিস্মরণীয় দিনে। পিকনিকের যাত্রীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছিল লন্ডনের রেড ব্রিজ স্টেশনের কার পার্ক। সকাল সাড়ে ৯ টার মধ্যে লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদস্যরা  যান্ত্রিকতা ছেড়ে ক্লান্তি ভুলে সমুদ্রের মিষ্টি বাতাসে প্রাণ জুড়ানোর আশায় সমবেত হয়েছিলেন।

যাত্রার প্রাক্কালে গাড়িতেই প্রাতঃরাশ দেয়া হয়। যাত্রাপথে স্মৃতিচারণ, গান, কৌতুক পরিবেশন করেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা। কোচে আসা যাবার পথে প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় ছিলেন সৈয়দ হামিদুল হক, মেসবাহ উদ্দিন ইকো ও ফারুক আহমদ। ফেরার পথে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল বাবা মায়ের সাথে আগত সন্তানেরা তাদের নিজের সম্পর্কে অর্থাৎ তারা কে কোথায় লেখাপড়া করছে, সবার সাথে পিকনিকে এসে তাদের কেমন লাগছে তা তুলে ধরেছে। 

নতুন ও পুরাতন সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল এই আয়োজনের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন  সিনিয়র আইনজীবী মেসবাহ উদ্দিন ইকো, সৈয়দ হামিদুল হক, ফারুক আহমদ,  ইন্জিনিয়ার সাদেকুল আলম, ব‍্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খুররম মতিন, উপদেষ্টা মোঃ আব্দুল হাদি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনিসুর রহমান বাদল, মোঃ বাহার উদ্দিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু মুসা হাসান ও আরো অনেকে। 

শাখাওয়াৎ খসরুর তত্ত্বাবধানে গোল্ডেন কারী রেস্টুরেন্টে দুপুরের সুস্বাদু খাবারের মধ‍্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেলে সাগর পাড়ে বাচ্চাদের নাচ গান কবিতা আবৃত্তি ছিল একটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।

যুক্তরাজ্যের এসেক্স কাউন্টিতে অবস্থিত ক্ল্যাকটন-অন-সী একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় সৈকত। এটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম বিনোদন পিয়ার। এখানে রয়েছে বিভিন্ন রাইড। এখানকার সোনালী বালুকাময় সৈকতটি পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দারুণ। বিশেষ করে পিয়ারের ডানদিকের সৈকতটি অগভীর, যা শিশুদের  জন্য নিরাপদ। তাইতো অনেকেই  সাঁতারের পোশাক পরে নীল জলে সাঁতার কেটেছে। সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস গায়ে মেখে হাঁটার জন্য এখানকার দীর্ঘ বাঁধ বা প্রমোনাড চমৎকার। সৈকতের পাশেই রয়েছে সুন্দর করে সাজানো ফুলের বাগান। ফুল বাগানে চাদর বিছিয়ে সবাই বসে গল্প আড্ডায় মেতেছিল।

নারী ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। সবাই অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দের সঙ্গে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। শিশু কিশোর ও মহিলাদের পিলো পাসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কন্যা’ এবং ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বধূ’ দুটি গ্রূপের মধ্যে চলে অন্তাক্ষরী গানের প্রতিযোগিতা।  তার মধ্যে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বধূ’ মিসেস ফেরদৌসীর মিষ্টি গানের সাথে ডঃ হাসনীন চৌধুরী এবং নিলুফা হাসানের নৃত্য পরিবেশনা ছিল উপভোগ্য। সাগর পাড়ের এই সংগীত সন্ধা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে।

আকর্ষণীয় পর্ব ছিল সাবেক প্রেস মিনিস্টার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু মুসা হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  আঞ্চলিক শব্দ ভান্ডারের কুইজ প্রতিযোগিতা করেছেন। সকলে আনন্দের সাথে কুইজে অংশগ্রহণ করে উত্তর দিয়েছেন।  সর্বশেষে ছিল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান।

সাগর পাড়ে উপস্থিত সকলে ছবি তোলেন, সমুদ্রের নির্মল বাতাস উপভোগ করে হাসি-আনন্দে সময় কাটান এবং একে অপরের সঙ্গে মূল্যবান সময় ভাগ করে নেন। সমুদ্রতীরের এই সময়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ব্রাহ্মণবাডিয়ার জেলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি  খুররম মতিন আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের  মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। আনন্দঘন পরিবেশে চমৎকার একটি উপভোগ্য পিকনিক অনুষ্ঠিত হলো।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের রিলিফ ফান্ড বাসিন্দাদের কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে

প্রকাশিত :  ১৭:১৪, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

কস্ট অব লিভিং ক্রাইসিস বা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংকটে থাকা পরিবারগুলো, যাদের বার্ষিক ৬০ হাজার পাউন্ডের কম তাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত রিলিফ ফান্ড থেকে শত শত পরিবার উপকৃত হতে পারেন।

এই তহবিলটি সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত পরিবারগুলোকে কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধির ২.৯৯ শতাংশ পুষিয়ে দেবে। এটি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিম’ সিটিআরসি-এর পাশাপাশি কার্যকর হবে; এই স্কিমের আওতায় সর্বনিম্ন আয়ভুক্ত বাসিন্দারা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেয়ে থাকেন।

কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট অব লিভিং ফান্ডের আওতায় যেসব পরিবারের সম্মিলত আয় ৬০ হাজার পাউন্ডের নির্ধারিত সীমার নীচে  এবং যারা বর্তমানে কাউন্সিল ট্যাক্স সহায়তা পাচ্ছেন না, তাদের এই বর্ধিত কর দিতে হবে না; ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য তাদের হাতে বাড়তি অর্থ থাকবে।

চলমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে বাসিন্দাদের সহায়তা করা এবং পুরো বারাজুড়ে বৈষম্য মোকাবিলার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ হল এই উদ্যোগ।

এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “অসংখ্য পরিবার এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের উর্ধ্বগতির চাপে হিমশিম খাচ্ছে। এই তহবিলটি সেই চাপ কমাতে এবং যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উপায়।”

তিনি বলেন, “ওয়েস্ট কালেকশন (আবর্জনা সংগ্রহ) ও লাইব্রেরি থেকে শুরু করে স্কুল ও কমিউনিটি সার্ভিসের মতো যেসব সেবার ওপর বাসিন্দারা প্রতিদিন নির্ভর করেন, সেগুলোর অর্থায়নের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্সঅপরিহার্য; তা সত্ত্বেও স্থানীয় পরিবারগুলোর ওপর এর বোঝা যথাসম্ভব কম রাখার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেপুটি মেয়র এবং ট্যাকলিং ইনইকুয়ালিটি এন্ডস্ট-অব-লিভিং ক্রইসিস বিষয়ক লিড মেম্বার কাউন্সিলর মায়ুম তালুকদার বলেছেন, “বিল সামান্য বাড়লেও তা পরিবারের বাজেটের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

উপযুক্ত বাসিন্দাদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধির খরচ বহন করার মাধ্যমে আমরা পরিবারগুলোকে তাদের আয়ের একটি বড় অংশ হাতে রাখতে সহায়তা করতে পারি, এমন এক সময়ে যখন প্রতিটি পাউন্ডই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” 

বাসিন্দাদের জন্য উপযুক্ত অন্যান্য সহায়তা, যেমন গ্রীষ্মকালীন বিনামূল্যে বিভিন্ন কার্যক্রম, খাদ্যের খরচ মেটাতে সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্সারি বা অনুদানের মতো সুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ‘কস্ট অফ লিভিং হেল্প’  ওয়েবপেজটি www.towerhamlets.gov.uk/costofliving দেখুন।

আবেদন করতে \'কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট-ব-লিভিং রিলিফ ফান্ড\'- এর পেজটি www.towerhamlets.gov.uk/costoflivingrelieffund ভিজিট করুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর