img

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের রিলিফ ফান্ড বাসিন্দাদের কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে

প্রকাশিত :  ১৭:১৪, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের রিলিফ ফান্ড বাসিন্দাদের কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে

কস্ট অব লিভিং ক্রাইসিস বা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংকটে থাকা পরিবারগুলো, যাদের বার্ষিক ৬০ হাজার পাউন্ডের কম তাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত রিলিফ ফান্ড থেকে শত শত পরিবার উপকৃত হতে পারেন।

এই তহবিলটি সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত পরিবারগুলোকে কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধির ২.৯৯ শতাংশ পুষিয়ে দেবে। এটি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিম’ সিটিআরসি-এর পাশাপাশি কার্যকর হবে; এই স্কিমের আওতায় সর্বনিম্ন আয়ভুক্ত বাসিন্দারা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেয়ে থাকেন।

কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট অব লিভিং ফান্ডের আওতায় যেসব পরিবারের সম্মিলত আয় ৬০ হাজার পাউন্ডের নির্ধারিত সীমার নীচে  এবং যারা বর্তমানে কাউন্সিল ট্যাক্স সহায়তা পাচ্ছেন না, তাদের এই বর্ধিত কর দিতে হবে না; ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য তাদের হাতে বাড়তি অর্থ থাকবে।

চলমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে বাসিন্দাদের সহায়তা করা এবং পুরো বারাজুড়ে বৈষম্য মোকাবিলার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ হল এই উদ্যোগ।

এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “অসংখ্য পরিবার এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের উর্ধ্বগতির চাপে হিমশিম খাচ্ছে। এই তহবিলটি সেই চাপ কমাতে এবং যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উপায়।”

তিনি বলেন, “ওয়েস্ট কালেকশন (আবর্জনা সংগ্রহ) ও লাইব্রেরি থেকে শুরু করে স্কুল ও কমিউনিটি সার্ভিসের মতো যেসব সেবার ওপর বাসিন্দারা প্রতিদিন নির্ভর করেন, সেগুলোর অর্থায়নের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্সঅপরিহার্য; তা সত্ত্বেও স্থানীয় পরিবারগুলোর ওপর এর বোঝা যথাসম্ভব কম রাখার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেপুটি মেয়র এবং ট্যাকলিং ইনইকুয়ালিটি এন্ডস্ট-অব-লিভিং ক্রইসিস বিষয়ক লিড মেম্বার কাউন্সিলর মায়ুম তালুকদার বলেছেন, “বিল সামান্য বাড়লেও তা পরিবারের বাজেটের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

উপযুক্ত বাসিন্দাদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধির খরচ বহন করার মাধ্যমে আমরা পরিবারগুলোকে তাদের আয়ের একটি বড় অংশ হাতে রাখতে সহায়তা করতে পারি, এমন এক সময়ে যখন প্রতিটি পাউন্ডই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” 

বাসিন্দাদের জন্য উপযুক্ত অন্যান্য সহায়তা, যেমন গ্রীষ্মকালীন বিনামূল্যে বিভিন্ন কার্যক্রম, খাদ্যের খরচ মেটাতে সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্সারি বা অনুদানের মতো সুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ‘কস্ট অফ লিভিং হেল্প’  ওয়েবপেজটি www.towerhamlets.gov.uk/costofliving দেখুন।

আবেদন করতে \'কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট-ব-লিভিং রিলিফ ফান্ড\'- এর পেজটি www.towerhamlets.gov.uk/costoflivingrelieffund ভিজিট করুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

কমিউনিটির ৫৬ প্রবীণকে নিয়ে ইএলএম সিনিয়র সিটিজেন প্রজেক্টের দিনব্যাপী আনন্দ ভ্রমণ

প্রকাশিত :  ১৭:০১, ১৫ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:১৩, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

লন্ডন, ১৪ আগস্ট ২০২৬ : ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্টের উদ্যোগে ১২ মে বুধবার কমিউনিটির ৫৬ জন প্রবীণ সদস্যকে নিয়ে দিনব্যাপী এক আনন্দ-ভ্রমণের আয়োজন করা হয় । পুর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টার মধ্যে ইস্ট লন্ডন মসজিদের পেছনের ফিলডগেইট স্ট্রিটে এসে জড়ো হোন প্রবীণরা । এরপর তাঁরা সেখান থেকে ছাদখোলা বাসে চড়ে লন্ডন শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থান ঘুরে দেখেন । প্রবীণরা পর্যায়ক্রমে টাওয়ার অব লন্ডন, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল, রয়্যাল আলবার্ট হল মিউজিয়াম, হোয়াইট হল, ট্রাফালগার স্কয়ার ও বুশ হাউসসহ লন্ডনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখেন। এরপর তারা রিজেন্টস পার্ক মসজিদে সমবেত হয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে রিজেন্টস পার্কে মিলিত হয়ে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। কিছুটা সময় আনন্দঘন পরিবেশে কাটানোর পর তাঁরা হাইড পার্কের পাশ দিয়ে হোয়াইটচ্যাপেলের উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৪টার দিকে তাঁরা ইস্ট লন্ডন মসজিদের সামনে ফিরে আসেন।

হিন্দু ধর্ম থেকে মুসলিম হওয়া প্রথম মুসলিম ট্যুর গাইড আব্দুল মালিক টেইলর প্রবীণদের ঘুরেদেখা স্থানগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

প্রবীণরা দিনব্যাপী আনন্দভ্রমণ বেশ উপভোগ করেন । আনন্দ-ভ্রমণে প্রবীণদের সঙ্গে ছিলেন ইস্ট লন্ডন মসজিদ এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমদ । আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিনিয়র সিটেজেন্স প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ মুহিত।

যাত্রার প্রাক্কালে মারিয়াম সেন্টারের সম্মুখে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিসভায় মসজিদের সিইও জুনায়ের আহমদ বলেন, আমাদের কমিউনিটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একাকীত্বও। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যা অনেক সময় মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে মসজিদের প্রবীণ মুসল্লিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্ট।

তিনি বলেন, পুরুষ প্রবীণদের জন্য যেমন আলাদা কার্যক্রম রয়েছে, তেমনি বয়স্ক নারীদের জন্যও পৃথক সেশন পরিচালিত হয় । প্রতি বুধবার নারী ও পুরুষের জন্য আলাদাভাবে এসব সেশন আয়োজন করা হয় । এখানে তারা শুধু সময় কাটান না, বরং একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হন, কথা বলেন, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন এবং একটি আন্তরিক সামাজিক পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠেন।

সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ মুহিত বলেন, ১২ আগষ্ট বুধবার ছিলো আমাদের প্রবীণ সদস্যদের জন্য ছিল সত্যিই একটি চমৎকার দিন। সারাদিন তারা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যে কাটিয়েছেন। একটি দিনের জন্য যেন তারা দুশ্চিন্তা,  একাকীত্ব ভুলে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন।

তিনি বলেন, সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্টে যারা অংশ নেন, তাদের সবার বয়সই ষাটের উপরে। আমাদের সঙ্গে ৯৩ বছর বয়সী একজন প্রবীণ সদস্যও রয়েছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা আমি খুব কাছ থেকে দেখতে পাই।

মোহাম্মদ মুহিত আরও বলেন, আমাদের সদস্যরা বুধবারের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তাদের মনে থাকে—কখন বুধবার আসবে, কখন তারা আবার সবার সঙ্গে মিলিত হবেন। এখানে এসে তারা বড় কোনো আয়োজনের জন্য অপেক্ষা করেন না; বরং একজন আরেকজনের সঙ্গে খোলা মনে কথা বলা, সুখ-দুঃখের গল্প ভাগ করে নেওয়া এবং কিছু সময় একসঙ্গে কাটানোই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ । অনেকের জন্য এই কয়েক ঘণ্টার সামাজিক যোগাযোগই পুরো সপ্তাহের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, কমিউনিটির প্রবীণ মানুষদের শারিরীক ও মানসিক সুস্বাস্থের কথা বিবেচনা করে ইস্ট লন্ডন মসজিদ ২০১৮ সালে সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্ট-এর সুচনা করে । সপ্তাহের প্রতি বুধবার পুরুষদের জন্য লন্ডন মুসলিম সেন্টারের তৃতীয় তলায় এবং মহিলাদের জন্য মারিয়াম সেন্টারে দুই ঘণ্টার সেশন পরিচালতি হয় । প্রবীণ পুরুষ ও নারীরা এই দুই দিন সেশনে অংশগ্রহণ করেন। তাদেরকে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন উপদেশ দেওয়া হয় । দুপুরে তাঁদের জন্য পরিবেশন করা হয় হালকা খাবার।

সপ্তাহের এই একটি দিন প্রবীণদের জন্য বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে । তারা পরিচিত বন্ধু ও সমবয়সীদের সঙ্গে প্রাণখোলা আড্ডা দেন, হাসি-আনন্দে সময় কাটান এবং কিছু সময়ের জন্য হলেও দৈনন্দিন জীবনের একাকীত্ব ও দুশ্চিন্তা ভুলে থাকেন । এই সেশনে অংশগ্রহণে আগ্রহীরা ইএলএম সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ মুহিত-এর সাথে 07960 259155 নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।


কমিউনিটি এর আরও খবর