img

‘মাথায় প্রভাবশালী নেতার হাত থাকায়’ আগেও অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তুহিন

প্রকাশিত :  ০৮:১৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘মাথায় প্রভাবশালী নেতার হাত থাকায়’ আগেও অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তুহিন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকপুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে পুরোনো একটি মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগের দাবি, প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে থাকায় সে সময় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মামলা না নিয়ে শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল।

সোহাগের অভিযোগ, ওই ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরবর্তীতে আরও বড় অপরাধ করার সাহস পেয়েছেন তিনি। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর পুরোনো ওই অভিযোগটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তুহিনের আটকের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বের সেই অভিযোগপত্রের অনুলিপি পোস্ট করেন সোহাগ। ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তুহিন একই কৌশলে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের চাপের কথা উল্লেখ করে মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং কেবল একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে। ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহাগ লেখেন, ‘ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলেই অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।’

থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন সালমানপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছিল। সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে তুহিন হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পূর্বপরিচয়ের সুবাদে ২৬ এপ্রিল রাতে তুহিন গাড়িটি কিছুক্ষণের জন্য চালানোর কথা বলে নিয়ে যান। এরপর সোহাগকে জানানো হয় গাড়িটি আর তার কাছে নেই এবং পরবর্তীতে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, জিডির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রাথমিক তদন্তের ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি খতিয়ে দেখা সম্ভব না হলেও তদন্তের স্বার্থে অতীতের এই অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পেয়ে শনিবার বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

বাস ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে মুন্সীগঞ্জে নিহত চার

প্রকাশিত :  ১৪:০৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, যাত্রীবাহী বাস ও একটি প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও একজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন- মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা চৌধুরী (৪৩) এবং ড্রাইভার সোহেল।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ‘নিউ বলেশ্বর’ নামের বাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে প্রাইভেটকারটি মায়ামি রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার দিকে যাওয়ার কথা ছিল। জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত বিকেলে প্রাইভেটকারটি মহাসড়কে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাস সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার সংবাদ আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর