img

মায়ের মৃত্যুতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ

প্রকাশিত :  ১০:৪৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের মৃত্যুতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ

মায়ের মৃত্যুর কারণে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

প্রকাশিত :  ০৬:১১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।

সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।


বাংলাদেশ এর আরও খবর