সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মৃত্যু শিশুদের মধ্যে ২ জনই চট্রগ্রাম বিভাগের। এরমধ্যে একজন চট্রগ্রাম ও অন্যজন নোয়াখালীর। আর একজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।
হালনাগাদ প্রতিবেদন আরও বলছে, নতুন আক্রান্ত নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনে।
এছাড়া এই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মাদ্রাসায় তিন মাস ধরে নিয়মিত শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার ছাত্র
প্রকাশিত :
১৩:৪৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে নিয়মিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্র নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে।
ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত আল আমিন মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্টি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে। তিনি প্রায় তিন বছর আগে ওই মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ওই শিশুকে নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে সে মাদ্রাসার আবাসিক ব্যবস্থায় থাকত।
পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন শিক্ষক আল আমিন। এতে তার পেটে ব্যথা এবং পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাতসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান।
বাড়িতে থাকার সময় একদিন সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান বাড়ির টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি তিনি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয়ে তখনও ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি শিশুটি।
পরে তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে শিশুটিকে আবার মাদরাসায় রেখে যান তার মা। পরিবারের দাবি, ওই ১১ দিনের মধ্যে আট দিনই তাকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে বিষয়টি মাকে জানায়। পরে মা তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে ধর্ষণের বিষয়টি জানান এবং তার স্বজনদের কাছে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এরপর শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় জড়ো হয়ে শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি তুলে নিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর নানা বলেন, এত ছোট একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটিও অভিযোগ করে, গত তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন তাকে ভয় দেখিয়ে ও বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সে মাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল বলেও জানায়।
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, ছেলে অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিতে গেলে শিক্ষক আল আমিন তাকে গ্যাস্ট্রোলিভারের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আল আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ আছেন, তিনি বিচার করবেন। ছাত্ররা তো মিথ্যা কথা বলেই, ওই ছাত্রও মিথ্যা বলছে।’
পেটব্যথার কারণে শিশুটিকে গ্যাস্ট্রোলিভারের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না। জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকজন তার গলা চেপে ধরেছিলেন, সে কারণেই তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।