img

দেশের ৮টি বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়বে গরমও

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ৮টি বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়বে গরমও

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এদিকে দেশের আটটি বিভাগেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রাজধানী ঢাকায় ছিল ৩৪ দশমিক ৪। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রংপুরে ৬৬ মিলিমিটার, রাজধানী ঢাকায় যা ছিল ১৪ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আগামী ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

এদিকে আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে আকাশ মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে হালকা বৃষ্টিসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। 

এ সময় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, পদদলিত হয়ে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৮:১৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পদদলিত হয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় শিশুসহ ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের ওপরের অংশে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন—হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫)। নিহত অপর শিশুর বয়স ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে ভবনের আটতলায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রাণভয়ে সবাই একসঙ্গে অপ্রশস্ত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অনেকেই পা পিছলে পড়ে যান এবং নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ময়মনসিংহের পাঁচটি স্টেশনের মোট ১০টি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাড়তি ইউনিটগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য ঘটনাস্থলে চারটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা মেশিনের সঙ্গে সংযুক্ত বোর্ডে অতিরিক্ত উত্তাপ ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রচুর ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করে।

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের চিকিৎসা ওয়ার্ডগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।