img

শিক্ষা খাতের সংকট নিয়ে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১,৭৪৭

প্রকাশিত :  ০৬:১৩, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা খাতের সংকট নিয়ে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১,৭৪৭

ফ্রান্সে শিক্ষা খাতের সংকটের প্রতিবাদে ৭ শতাধিক হাইস্কুলের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে নেমেছেন। শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশটির ৭৩৫টি স্কুলে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইয়ের মতো শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে টিএফ১ টেলিভিশনকে বলেন, আমরা দাঙ্গা ও শহুরে সহিংসতার দিকে ধাবিত হচ্ছি এবং এটি বন্ধ করতে আমরা সব ধরনের মধ্যবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন বলেন, পরিস্থিতি এখন কেবল হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে এই সহিংস বিক্ষোভের কবলে পড়েছে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে বলেছেন, আন্দোলনটি অ-শিক্ষার্থীদের দ্বারা কব্জা করে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভিকে তিনি বলেন, শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আমার সামনে যারা ছিল, তারা আমার ছাত্রছাত্রী ছিল না।

এর আগে শুক্রবার উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের বেলফোর্ট শহরে বিক্ষোভের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি ভেরিফাই দুটি ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ভিডিওগুলোতে এক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে একজন মন্ত্রী ওই ব্যক্তিকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে শনাক্ত করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ তাকে ধাওয়া করছে। ওই কর্মকর্তা মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তার মাথায় একাধিকবার ঘুষি ও লাথি মারা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অস্থিরতায় অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

প্যারিসের শহরতলি পান্তিনে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়। কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার পর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় স্ট্রাসবুর্গে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। রেন ও প্যারিসেও আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী লোলা শুক্রবার এএফপিকে বলে, আমাদের দিক থেকে আমরা জিতে গেছি—আজ সকালে আমাদের স্কুল বন্ধ রয়েছে।

সে জানায়, পুলিশের পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে। তার ভাষ্য, ‘এতে আমাদের ক্ষোভ আরও বাড়ছে—আমাদের মারধর করার বা আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করার কোনো অধিকার পুলিশের নেই।’

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা কিছু সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোল বোমা, একটি কুঠার এবং তথাকথিত ‘মর্টার’ বা শক্তিশালী আতশবাজি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্কুলের গেট, প্রবেশপথ ও বেষ্টনীতে হামলার ফলে স্কুলগুলোর স্থাপনায় ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।

আঞ্চলিক সরকারের তথ্যমতে, নান্টেসের নেলসন ম্যান্ডেলা হাইস্কুলে ২০ লাখ ইউরোর বেশি মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অগ্নিকাণ্ডে স্কুলের কাঁচের তৈরি প্রবেশপথ এবং ভেতরের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্কুলের সময়সীমা অনেক দীর্ঘ, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত গরম এবং অনেক কর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। শিক্ষায় বরাদ্দ অর্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন বাজেট ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাতেও তরুণ বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাস আগে এই বিক্ষোভ ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে।

সন্তানরা সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে জড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। দক্ষিণ প্যারিসের ক্লদ মনে স্কুলে ৫৩ বছর বয়সী আনিয়া তার ছেলেকে খুঁজছিলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, আমরা তাকে এখানে আসতে নিষেধ করেছিলাম। আশা করি সে এখানে নেই, তবে সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

দারমানিন জানিয়েছেন, সন্তানদের সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য অভিভাবকদের দায়ী করতে এবং ‘মেরামতের খরচ বহন’ করতে বাধ্য করার জন্য সরকারি কৌঁসুলিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের অনেক শ্রমিক সংগঠন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষা খাতের ইউনিয়ন এসএনইপি-এফএসইউ, সরকারি সেবা খাতের ইউনিয়ন এসএনইউইপি-এফএসইউ এবং সলিডেয়ারস তাদের সদস্যদের আন্দোলনকারীদের সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।

সলিডেয়ারস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের সন্তানদের ওপর গুলি চালাতে দেওয়া যাবে না।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, সংগঠন ও বিক্ষোভ করার স্বাধীনতা রয়েছে।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হুথিদের ওপর বিশাল হামলার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব, পাশে তুরস্ক-পাকিস্তানসহ ৩ দেশ

প্রকাশিত :  ০৬:১০, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপকূলীয় এলাকা দখলমুক্ত করা অথবা একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলা চালানো—এ দুটি কৌশলগত বিকল্প বিবেচনা করছে রিয়াদ।

আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সংশ্লিষ্ট সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত ছয়জন কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাব্য এই অভিযান শুরু হতে পারে। সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী পদাতিক যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবে এবং সৌদি বিমানবাহিনী তাদের সরাসরি বিমান হামলা চালিয়ে সহায়তা করবে। নিরাপত্তা ইস্যু সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ প্রধানত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিলেও সৌদির কোনো মিত্র রাষ্ট্রই সরাসরি যুদ্ধাভিযানে অংশ নেবে না।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে হুথিদের হাত থেকে রক্ষা করতে আরব জোটের প্রধান হিসেবে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়েছিল সৌদি আরব। ২০২২ সালে হওয়া অস্ত্রবিরতি মূলত চলতি বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে ইরান যুদ্ধের জের ধরে হুথিরা সৌদি আরবের পণ্যবাহী জাহাজ ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি আবার সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।

পরিকল্পিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো গত মাসে হুথিদের আকস্মিক অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। বৈশ্বিক ও ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানান, রিয়াদের সামনে দুটি সামরিক বিকল্প রয়েছে। প্রথমটি হলো কেবল বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ আক্রমণ; আর দ্বিতীয়টি হলো আরও বড় পরিসরে ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেটে যুগপৎ বহুমুখী হামলা চালানো। অভিযানের মাত্রা অনুযায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনাকে মোতায়েন করা হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে সৌদি ও ইয়েমেন সরকার, হুথি মুখপাত্র এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাব এল-মান্দেব মূলত লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রবেশদ্বার, যা ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যকার একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট। চলতি বছরে ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় এই নৌপথের গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিমা কূটনীতিকরা জানান, হুথিরা বাব এল-মান্দেবের মতো বৈশ্বিক কৌশলগত পথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলে কোনো শান্তি আলোচনায় না বসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াদ। তবে অভিযান শুরুর সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও নিশ্চিত নয়; এটি এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে কিংবা নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও গড়াতে পারে।

সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি মনে করেন, এবারের অভিযানটি সংকীর্ণ পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ২০১৫ সালের সর্বাত্মক অভিযানের মতো বড় হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, হুথিদের নির্মূল করার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও আপাতত মূল অগ্রাধিকার হবে বাব এল-মান্দেব অঞ্চলের পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা। লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ার পর বর্তমানে হুথিরাই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে নতুন এই অভিযান ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধকে আরও এক বিপজ্জনক ধাপে নিয়ে যেতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি বিমান হামলার মতো পদক্ষেপে জড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি বিমান হামলা পরিচালনায় সামরিক উপদেষ্টা ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে গত মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা তুরস্ক ও পাকিস্তান রিয়াদকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন-বিধ্বংসী প্রযুক্তি ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কেন্দ্র এডেনে পাঠিয়েছে। এছাড়া ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তা দিতে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও মাঠে কাজ করছেন। সৌদি আরবের কেনা তুর্কি ড্রোনও ইয়েমেনের আকাশে নজরদারিতে নামানো হয়েছে।

অভিযান শুরু হলে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিজস্ব তেলক্ষেত্র ও স্থাপনাগুলো রক্ষা করাই এখন রিয়াদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। সেই সুরক্ষায় পাকিস্তান গত বছর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা পর্যন্ত সৌদি আরবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে, যারা সৌদি স্থলসীমান্ত পাহারা দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতে কাজ করছে। তবে ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি কোনো যুদ্ধক্ষম সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত পাকিস্তান নেয়নি বলে একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী ইয়ানবুর সুরক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থলভাগে ইয়েমেনি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি রিয়াদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিভিন্ন উপদলের ওপর ভিত্তি করেই এই পদাতিক অভিযান চালাতে হবে। সামরিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশার মতে, হুথিদের মতো সুসংগঠিত বাহিনীকে পিছু হটাতে সরকারপন্থীদের প্রয়োজনীয় সংহতি এখনও গড়ে ওঠেনি।

গত শীতে আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনী পূর্বাঞ্চল দখলের চেষ্টা ও বিচ্ছিন্নতার ডাক দিলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তাদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়, যা তাদের ঐক্যে বড় ফাটল তৈরি করে। সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবি সতর্ক করে বলেন, এখন পর্যন্ত অবস্থান ধরে রাখাই মূল অগ্রাধিকার ছিল, তবে এবার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হবে এবং পুরো অভিযানের সাফল্য সম্পূর্ণ নির্ভর করবে স্থানীয় পদাতিক বাহিনীর সামরিক দক্ষতার ওপর।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর