img

আরব দেশগুলোতে হামলা নিয়ে নতুন করে যে বার্তা দিল ইরান

প্রকাশিত :  ০৯:৩৮, ০৭ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৩, ০৭ মার্চ ২০২৬

আরব দেশগুলোতে হামলা নিয়ে নতুন করে যে বার্তা দিল ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশী আরব দেশগুলো থেকে হামলা না হলে, সেখানে আর পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইতোমধ্যে চালানো হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

আজ শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। গতকাল (৬ মার্চ) অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং সেসব দেশ থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ না হলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হবে না।’

তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না। তার ভাষায়, ‘ইরানি জনগণের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন যারা দেখছে, তাদের সেই ইচ্ছা কবরেই নিয়ে যেতে হবে।’

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

সূত্র: আল-জাজিরা। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজ নিয়ে নতুন জোটে যোগ দিতে বিদেশি সরকারদের চাপ দেবে মার্কিন দূতাবাস

প্রকাশিত :  ১১:১৯, ০১ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যেটিতে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং প্রতিরক্ষা সমন্বয় করবে পেন্টাগন।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেন, ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ বা এমএফসি নামের এই জোট প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে আছে রিয়েলটাইম তথ্য সরবরাহ, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সমন্বয়। 

মূলত একটি কূটনৈতিক বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান। এএফপি লিখেছে, ওই কূটনৈতিক বার্তায় মার্কিন দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যেন বিদেশি সরকারগুলোকে এই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

কূটনৈতিক বার্তাটির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশ ও জাহাজ শিল্পের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেন্টকমের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে। 

দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা শুক্রবারের মধ্যে অংশীদার দেশগুলোর কাছে মৌখিকভাবে কূটনৈতিক বার্তাটি পৌঁছে দেবে। তবে রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রতিপক্ষরা এর আওতায় থাকবে না। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন- কূটনৈতিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, নৌবাহিনীর উপস্থিতি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সহায়তা করা।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্যোগের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মোজতবা বলেন, ‘আজ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’ তিনি এর ধরন নিয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তবে এ জলপথ দিয়ে তেল রপ্তানি করা দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমেরিকাকে ছাড়াই এখন তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।’ একই সঙ্গে বলেছেন, জলপথের মতো তেহরান নিজেদের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতাও বজায় রাখবে।

মোজতবার এই বিবৃতির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক সরদার আতাস। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান এখনো তাদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং আলোচনায় এটিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগবে। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর