img

দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত :  ০৭:৪০, ২৮ জুলাই ২০২৬

দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার রায়ে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আদেশও দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ সাজার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন কারাগার থকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানাসহ তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১৫ জুলাই রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, আসামি এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তার নিজের ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদ বিবরণী জারি করা হয়। 

তিনি ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এজন্য ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৫ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। পরে ৬ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিচার চলাকালে সাতজন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের একটি দল রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেফতার করে দুদক। ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

জামায়াতের এমপির বাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত :  ১৩:৪১, ২৮ জুলাই ২০২৬

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাড়িতে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদরাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে সোমবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে ওই নারীর মাথা ফেটে যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে মাদরাসা খুললে গোলাম রসুল তা বন্ধ রাখতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে তারা একত্রিত হয়ে এমপির বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট মাদরাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব সময়ই গোলাম রসুল ও তার মেয়ে খারাপ আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তার ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের বিচারের দাবিতে দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান করেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশনস) মমিনুল হক জানান, দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। 

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, বিক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করা হবে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব ও র‍্যাব যশোর ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্সসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটিতে কড়া নজরদারিতে রেখেছে।

এ বিষয়ে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা জানান, তার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদরাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুরা বিভিন্ন সময় এসে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করেছিলেন তার মেয়ে অনন্যা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়েছে। এখন অহেতুক তাদের বাড়িতে হামলা করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় জানান, এলাকার এই মাদরাসাটিতে আড়াইশ-তিনশ শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এলাকার সড়কটিতে সবসময় ভিড় থাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আমার মেয়েকে মারপিট করা হয়েছে। এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছাড়িয়ে আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি বলেছি, আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপরও তারা শোনেনি। তারপরও আমি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহবাস্থনের আহ্বান জানাই।



জাতীয় এর আরও খবর