img

বিরোধী দল ছাড়াই শুরু হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাজ

প্রকাশিত :  ০৫:৫৩, ০৪ আগষ্ট ২০২৬

বিরোধী দল ছাড়াই শুরু হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাজ

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গঠিত সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজ প্রথম বৈঠকে বসছে। এদিকে গণভোট-পরবর্তী সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবিধান সংস্কারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, আর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর জোট কমিটি বৈঠকে অংশ নেয়নি।

গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দল থেকে এই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সরকারি দল।

সংশোধন নয়, গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবি করা বিরোধী দল কারও নাম দেয়নি। কমিটি গঠনের দিন ওয়াকআউটও করে। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তারা সংবিধান সংস্কার চান।

জামায়াত কমিটি বর্জন করলেও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবি জানানো চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন কমিটিতে অংশ নিতে যাচ্ছে। দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মো. অলি উল্লাহ কমিটির সদস্য। যদিও আগে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর অজ্ঞাতে সদস্য করা হয়েছে। তবে সোমবার রাতে দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ সমকালকে বলেছেন, সংস্কারের দাবি নিয়েই ইসলামী আন্দোলন কমিটিতে যাচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতেও অনড় রয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে ইসলামী আন্দোলনের এই মতামত যেন থাকে, সেজন্যই কমিটিতে যাওয়া। 

সংসদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিশেষ কমিটি সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এর আগে সাংবাদিকদের জানান, প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। এর বাইরেও বিএনপির নিজস্ব কিছু অঙ্গীকার আছে। সংবিধানে কী কী সংশোধন আনা যায়, তা নিয়ে বিশেষ কমিটি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সব স্তরের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবে।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সই করে। এতে সংবিধানসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এর ৯টিতে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে বিএনপি। স্বাক্ষরিত সনদে বলা হয়েছে, যে রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তারা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংস্কার করতে পারে। 

সনদ সইয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়নের সংলাপে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। গত ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে’ বলা হয়, কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। আবার কিছু সংস্কার দলগুলো নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী করতে পারবে। ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে এই আদেশ ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে অনুমোদিত হয়। জামায়াত আদেশ অনুযায়ী সংস্কার চাইছে। বিএনপি বলছে, আদেশটিই অবৈধ ছিল। 

আদেশে যে ৯ সংস্কারকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, এর মধ্যে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। 

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী এগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। জামায়াত জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা তা করেননি। এ কারণে জামায়াত বারবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুললেও তা আর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই। 

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। 

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে। 

এই উদাহরণ দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণভোটকে অস্বীকার করছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করার নজির দেখিয়েছে অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই কমিটিতে। তাই সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাওয়া অর্থহীন।



img

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে কথা বলতে দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত :  ১৮:৪৭, ০৫ আগষ্ট ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় এ ধরনের আয়োজন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ মর্মে বাংলাদেশ আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। সেই উদ্বেগ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

আজ বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থানের কথা জানায় সরকার। 

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার বিকেলে দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পলাতক ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি এবং তার কয়েকজন অনুসারী বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না। বাংলাদেশ কখনোই কোনো পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।  

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুদেরসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো তা-ই করছে। এতে বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

একই সঙ্গে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, যেকোনো অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং বাংলাদেশ–ভারতের সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।