img

২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১২:২৬, ০৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৭, ০৯ আগষ্ট ২০২৬

২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

দেশের মানুষের শ্রম ও কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা ও নতুন ঘরের চাবি বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের শ্রম ও কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, তা বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের শ্রম, মেধা ও কর্মদক্ষতাকে উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।’

কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষকদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’

শিল্প খাতের বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে। শিল্পের সম্প্রসারণ হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।’

তরুণদের কর্মসংস্থানকে সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। তাই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। মা-বোনদের পাশে দাঁড়ানো, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও সরকারের দায়িত্ব।’

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মায়েদের সহযোগিতা করা হবে। নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে জন্য ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং এর কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। চলতি বছর সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

জনগণের অংশগ্রহণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে হবে।’


জাতীয় এর আরও খবর

img

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৬:৩৫, ০৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:১১, ০৯ আগষ্ট ২০২৬

কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনিয়ম–জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন আমানত ফেরত দিতে না পারা চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে প্রশাসক বসিয়েছে । প্রতিষ্ঠানগুলো হলো–ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

সরকারি অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের শুরুতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। আর এ জন্য সরকার মোট ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দিচ্ছে। শুরুতে এখান থেকে অর্থ দেওয়ার পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় ও সম্পদ বিক্রি করে অর্থ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে রেশিও অনুযায়ী বাকি অর্থ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রশাসকদের সঙ্গে দুইজন করে সহযোগী প্রশাসক দেওয়া হয়েছে। অবসায়ন হতে যাওয়া আভিভা ফাইন্যান্সে দেওয়া হয়েছে মো. আলাউদ্দিন হোসেনকে। এফএএস ফাইন্যান্সে আবু সামা মো. আতাউর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে দেওয়া হয়েছে মো. সাদেকুর রহমানকে।

অবসায়নের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসেও প্রশাসক দেওয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে আদালত কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ থাকায় তা বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আদালতের আদেশের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে চার প্রতিষ্ঠানকে। এ তালিকায় রয়েছে– বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতি করতে না পারলে পরবর্তী ধাপে অবসায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য দুর্বল ২০টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কেন বন্ধ করা হবে জানতে চেয়ে গতবছর চিঠি দিয়েছিল। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সর্বশেষ ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়া হয়।

বিদ্যমান নিয়মে– কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর যতো টাকাই জমা থাকুক আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পান। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পত্তি বিক্রি করে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানত ৩ হাজার কোটি টাকা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি আমানত ছাড়াও অন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত ও ঋণ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বন্ধ হতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মোট আমানত রয়েছে ১৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা। আর অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে ২ হাজার ২০২ কোটি টাকা। পুরো এই দায়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে তিন হাজার ৩ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে– বন্ধ হতে যাওয়া পিপলস লিজিংয়ে তিন হাজার ৪১৫ কোটি টাকা আমানত এবং অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ রয়েছে ৪৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত এক হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের তিন হাজার ৫৬০ কোটি টাকা আমানত ও অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ রয়েছে এক হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে ৬৪৬ কোটি টাকা। আভিভা ফাইন্যান্সের ৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকা আমানত এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ রয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি থেকে নেওয়া আমানত ৮১০ কোটি টাকা। এফএএস ফাইন্যান্সের ৩৮৯ কোটি টাকা আমানতের মধ্যে ব্যক্তি আমানত ১০৫ কোটি টাকা। আর ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ এবং অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ রয়েছে ৩৪৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যক্তি আমানত মাত্র ৩৬ কোটি টাকা।