img

দূরপাল্লায় ২০ পয়সা/কিমি ও শহরে ১৮ পয়সা/কিমি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত :  ১৪:৩৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দূরপাল্লায় ২০ পয়সা/কিমি ও শহরে ১৮ পয়সা/কিমি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের বাসে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভাড়া কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। এরপর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর করা হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাসভাড়া সমন্বয় নিয়ে বৈঠক হয়। এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দূরপাল্লার পথে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং শহরাঞ্চলে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর নীতিগত প্রস্তাব করা হয়।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে অন্যান্য খরচও বিবেচনায় নিয়ে সাধারণত বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তবে এবার শুধু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত রোববার সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, সাধারণ হিসাবে ডিজেলের দাম এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় এক পয়সা বাড়ে। সে হিসাবে এবার ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা এবং শহরের বাসে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন ভাড়া নির্ধারণে দেরি হলে বাড়তি দামে জ্বালানি কেনার কারণে মালিক-শ্রমিকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং মিনিবাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা। দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা।

তবে এসি বাস, মালবাহী যানবাহন ও কিছু অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। এসব ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকেরা ভাড়া নির্ধারণ করেন।

এদিকে বিআরটিএর প্রস্তাব করা ১৮ ও ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির হার চূড়ান্ত পর্যায়ে কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনে নতুন ভাড়া নির্ধারিত হবে।

img

কাঠগড়ায় মাথা নিচু করে ছিলেন গাজী নজরুল, কাঁদছিলেন প্রথম স্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৮:৪৩, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কড়া নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে (৬৫)। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তাদের কাঠগড়ায় তোলা হলে শুনানি শেষে গাজী নজরুলের চার দিন এবং স্ত্রী মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে বেলা ৩টা ৩১ মিনিটে এ আদেশ দেন।

এর আগে বেলা ২টা ২২ মিনিটে পুলিশের একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে বেলা ৩টা ৬ মিনিটে তাদের হাজতখানা থেকে বের করে পঞ্চমতলার ৮ নম্বর আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। তাদের হাতে হাতকড়া না থাকলেও ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট। নজরুলের মুখে মাস্ক ও বাঁহাতে সোনালি ঘড়ি দেখা যায়। এজলাসে তোলার পর ৩টা ১২ মিনিটে তাদের হেলমেট ও জ্যাকেট খোলা হয়। ৩টা ১৪ মিনিটে বিচারক এজলাসে পৌঁছান এবং ৩টা ১৫ মিনিটে শুনানির কার্যক্রম শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আসামিদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গাজী নজরুল মাথা নিচু করেন। এ সময় তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে কাঁদতে দেখা যায়। শুনানির অধিকাংশ সময়ই মাথা নিচু করে ছিলেন সংসদ সদস্য, আর স্ত্রী ছিলেন নিশ্চুপ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, মরিয়ম খাতুন যখন গলায় ফাঁস দেন, তখন আসামিরা একই বাসায় উপস্থিত ছিলেন। এই আত্মহত্যার পেছনে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা বিস্তারিত উদ্ঘাটনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আসামি একজন চারবারের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনেই বয়োবৃদ্ধ ও সম্মানিত ব্যক্তি। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আসামি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ভালোবাসতেন। অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে গেছে, যার তদন্তে তিনি সহযোগিতা করবেন। ফলে রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

এর তীব্র বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি আদালতকে বলেন, মামলার বাদীর শ্যালককে নানা প্রলোভন দেখিয়ে আসামি নজরুল তার মেয়েকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মিলে মরিয়মকে তীব্র মানসিক নির্যাতন করতেন, যার প্রমাণ মেলে মরহুমার রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে। মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন। ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে রিমান্ড আবশ্যক।

শুনানি চলাকালে পিপি জামায়াত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মন্তব্য করলে বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে মামলার মূল বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। ওই সময় গাজী নজরুল সামান্য মাথা তুলে আইনজীবীর দিকে তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করেন এবং স্ত্রীকে কাঁদতে নিষেধ করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশ শেষে কাঠগড়া থেকে নামানোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। মরিয়মের আত্মহত্যার কারণও তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে আবারও হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাদের হাজতখানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় আদালতের বারান্দা থেকে কয়েকজন আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। এর আগে গত জুলাই মাসে এক তরুণীর সঙ্গে তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তখন নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম।

রোববার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্য তার দুই স্ত্রীকে নিয়েই থাকতেন। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন নজরুল। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় মুদিদোকানি মাসুম বিল্লাহ শ্যালিকাকে নিয়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়ের লাশ দেখতে পান। সেখান থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে।

পরিবারের অভিযোগ, গত জুন মাসে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের পর থেকেই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মিলে বিভিন্ন বিষয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় রোববার গভীর রাতে মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রীর পাশাপাশি নজরুলের সাবেক গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।


জাতীয় এর আরও খবর