img

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, মাদ্রাসা ভাঙচুর করে আগুন দিল জনতা

প্রকাশিত :  ১৩:২৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৮, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, মাদ্রাসা ভাঙচুর করে আগুন দিল জনতা

পাবনা সদর উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর রাতের দিকে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকার ‘নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসা’য় এই ঘটনা ঘটে।

আটক শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিক পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় ইউসুফ প্রামাণিক স্ত্রীসহ সেখানেই থাকতেন। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় রাতে তিনি একাই ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের এক আবাসিক ছাত্রী টয়লেটে যাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তার হাত ধরে টেনে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে ছাত্রীটি কৌশলে পালিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত একাধিক অপকর্মের অভিযোগ উঠেছিল।

এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরাপদে স্থানান্তরিত হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের জিম্মায় বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ইউসুফকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে পড়াশোনার কোনো পরিবেশ না থাকায় অন্য শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছে।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

২ কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন চা বাগানের শান্তা

প্রকাশিত :  ০৯:২০, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের শ্রমিক লাইনের ছোট্ট একটি ঘরে জন্ম শান্তা যাদবের। সেই শান্তা এখন পড়বেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে। সেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন তিনি।

শান্তার বাবা-মা দুজনই চা শ্রমিক। বাবা-মায়ের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকারও কম। সেই সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকেই উঠে এসে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্স ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই চা শ্রমিক। সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানোই তাঁদের জন্য কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না। তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী শান্তা নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।

পারিবারি সূত্রে জানা যায়, লংলা চা বাগানের স্থানীয় স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার জন্য শান্তা ভর্তি হন চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পাওয়ার আগে বিশ্বের আরও ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার প্রস্তাব পেয়েছিলেন শান্তা। নিজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রোগ্রামটি বেছে নেন। প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার সুযোগ তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মনে করেন শান্তা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলছে তাঁর সামনে।

শান্তার কাছে জনস্বাস্থ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়। চা বাগানের শ্রমিকেরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পেতে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, তা তিনি কাছ থেকেই দেখেছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেতে দূরে যেতে হওয়া এবং চিকিৎসা গ্রহণের নানা সীমাবদ্ধতা তাঁর নিজের কমিউনিটির মানুষের জীবনের অংশ।

এসব অভিজ্ঞতা থেকেই জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় শান্তার। নিজের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার সুযোগ তাই তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শুরুতে শান্তাকে শহরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ হয়নি। তবু মেয়ের মেধা, আগ্রহ ও অধ্যবসায় দেখে তিনি আশাবাদী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একদিন মেয়ে নিজের যোগ্যতায় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।

শান্তার বর্তমান অর্জন সেই আশা এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগের প্রতিফলন। মাসে ১০ হাজার টাকারও কম আয়ের একটি পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, সীমিত সামর্থ্য সব সময় শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা নিজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি চা বাগানের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়েও ভেবেছেন। চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেন তিনি।

চা বাগানের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অভাব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে শান্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানো তাঁদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তাঁর পথচলা অন্য শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের সামর্থ্য ও সুযোগ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।

হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে নিজের এলাকায় ফিরে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান শান্তা। তাঁর এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং বেড়ে ওঠা কমিউনিটির মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

যে চা বাগানের সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখে তাঁর জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, উচ্চশিক্ষার পর সেই এলাকার মানুষের জন্যই কাজ করতে চান তিনি। হার্ভার্ডের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবায় কীভাবে অবদান রাখা যায়, সেটিই এখন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা শুধু নিজের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময় চা বাগানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেন।


শিক্ষা এর আরও খবর