img

তিতুমীর শিক্ষার্থীদের ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৯:২১, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

তিতুমীর শিক্ষার্থীদের ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ ঘোষণা

সরকারি তিতুমীর কলেজকে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার মধ্যে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাষ্ট্রীয় ঘোষণার দাবি পূরণের আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ (উত্তর সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন এলাকা) নামে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের অনশন চলমান থাকবে।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১১টার দিকে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘তিতুমীর ঐক্য’র পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, শনিবার বিকেল ৪টার মধ্যে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবি মেনে নিয়ে তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। না হলে ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য পালন করা হবে। রেল ও সড়কপথ কর্মসূচির আওতায় থাকবে। সেই সঙ্গে আমাদের আমরণ অনশনও চলমান থাকবে।

এ ছাড়া বিশ্ব ইজতেমার কথা বিবেচনা করে ভোর ৬টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত ব্যারিকেড শিথিল থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে, একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা গুলশান-১ নম্বর মোড় প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন তারা। ফলে পুরো সময়জুড়ে বন্ধ ছিল যানচলাচল। তৈরি হয় দীর্ঘ যানজটের। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবিতে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৭ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে — 

১. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।

২. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করে ২০২৪-২০২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

৩. শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ নতুবা অনতিবিলম্বে শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক খরচ বহন করতে হবে। 

৪. ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ন্যূনতম দুইটি বিষয় ‘আইন’ এবং ‘জার্নালিজম’ বিষয়

সংযোজন করতে হবে।

৫. একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন পিএইচডিধারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। 

৬. শিক্ষার গুণগতমান শতভাগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন সংখ্যা সীমিত করতে হবে।

৭. আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার বিনির্মাণের লক্ষ্যে জমি ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি কলেজ হচ্ছে সরকারি তিতুমীর কলেজ। অধিভুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত এই কলেজের একাডেমিক সব কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে।

এর আগে সরকারি তিতুমীর কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

ছাত্রীর আত্মহত্যা: ঢাবি শিক্ষক সুদীপকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

প্রকাশিত :  ০৯:৫৯, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগের সব ধরনের একাডেমিক দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মেহজাবিনের আত্মহত্যা এবং এ ঘটনায় ড. সুদীপের গ্রেপ্তারকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমার সই করা  এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভাগের ২০২৪ সালের এমএ ২য় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মেহজাবিন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমাদের সবাইকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। ওই ঘটনার পর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। মামলা হওয়ায় তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২৬ এপ্রিল তারিখ বিশেষ একাডেমিক কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় যে, আইন প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাস এবং সব পরীক্ষা কমিটি থেকে ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

এর আগে গত রোববার ভোরে উত্তর বাড্ডার একটি বাসা থেকে ঢাবি ছাত্রী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। মামলার পর ওই দিনই বিকেলে রাজধানীর উদয় ম্যানসন এলাকা থেকে সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মিমোর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিমো সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমাতেন। তবে ঘটনার দিন ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, রোববার সকাল ৯টার দিকে তারা খবর পেয়ে বাড্ডা এলাকায় তার বাসভবনে আসেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে সুদীপ চক্রবর্তী ও আরেক ছাত্রীর নাম থাকায় তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল— ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। ... (সহপাঠী) আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেয়া...।’