img

আগামীকাল শেয়ার মার্কেটে ঝড় নাকি শান্তি? বিনিয়োগকারীদের মনে উত্তেজনার ঢেউ!

প্রকাশিত :  ১৬:২০, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

আগামীকাল শেয়ার মার্কেটে ঝড় নাকি শান্তি? বিনিয়োগকারীদের মনে উত্তেজনার ঢেউ!

আগামীকাল, ৬ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার। শেয়ার বাজারের জন্য এই দিনটি কেমন হতে পারে—এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই ভাবছেন, \"কাল কি বাজারে লাভের সুযোগ আসবে, নাকি নেমে আসবে হতাশার ছায়া?\"

বাংলাদেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। যদিও রবিবার বাজার বন্ধ থাকে, তবে সোমবারের প্রবণতা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

আসুন, একটু গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করি—চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শেয়ার বাজার কোন দিকে মোড় নিতে পারে।

বাজারের বর্তমান চিত্র

গত সপ্তাহে ডিএসই-তে সূচক কিছুটা ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে একটি স্থিতিশীল অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। ডিএসইএক্স সূচক গত বৃহস্পতিবার ৫২১৯.১৬ পয়েন্টের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একদিকে আশা, অন্যদিকে উদ্বেগ কাজ করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাত এবং ওষুধ শিল্পের শেয়ারগুলো ভালো পারফর্ম করেছে। তবে জ্বালানি ও টেক্সটাইল খাতে কিছুটা মন্দাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার বাজার খুললে কী হবে—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মতামত ভিন্ন।

বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী

বাজার বিশ্লেষক মোহাম্মদ রহমান বলেন, \"আগামী সপ্তাহের শুরুতে বাজারে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এ আশার পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে।\"

তিনি আরও যোগ করেন, \"তবে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা ও ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।\"

অন্যদিকে, বিশ্লেষক ফারজানা আক্তার মনে করেন, \"সোমবার বাজারে সামান্য দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত সপ্তাহে অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিয়েছেন, যার ফলে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে।\"

তিনি পরামর্শ দেন, \"এই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে মনোযোগ দেওয়া উচিত।\"

কোন খাতে নজর রাখবেন?

এখন প্রশ্ন—কোন খাতে বিনিয়োগ করলে লাভের সম্ভাবনা বেশি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং খাত এখনও বেশ আকর্ষণীয়। ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংকের শেয়ার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভালো ফল করেছে।

এছাড়া, বেক্সিমকো ফার্মা ও স্কয়ার ফার্মার মতো ওষুধ শিল্পের শেয়ারও নজরে রাখা যেতে পারে।

তবে জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগের আগে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের মনের কথা

ঢাকার একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী রাকিব হোসেন বলেন, \"আমি গত মাসে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন পর্যন্ত ১০% লাভ হয়েছে। তবে সোমবার বাজার কীভাবে চলবে—তা নিয়ে কিছুটা চিন্তায় আছি।\"

তিনি আরও বলেন, \"বাজার যদি পড়ে, তাহলে আরও কিছু শেয়ার কিনব। কারণ আমি বিশ্বাস করি, দীর্ঘমেয়াদে লাভ হবেই।\"

অন্যদিকে, মিরপুরের বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, \"আমি শেয়ার বাজারে নতুন। গত সপ্তাহে কিছুটা লাভ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, এখন ভাবছি শেয়ারগুলো বেচে ফেলব কি না।\"

এই দুই বিনিয়োগকারীর কথায় উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে বিদ্যমান আশা-আশঙ্কার মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

আন্তর্জাতিক প্রভাব

শেয়ার বাজার কেবল দেশীয় ঘটনার ওপর নির্ভরশীল নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গত সপ্তাহে ভারতের শেয়ার বাজারে সূচকের পতন ঘটেছে। টানা আট দিন ধরে সূচক পড়েছে। গত শুক্রবার সেনসেক্স ১৯৯.৭৬ পয়েন্ট পড়ে ৭৬ হাজারের নিচে (৭৫,৯৩৯.২১) নেমে এসেছে। নিফটি সূচক ১০২.১৫ পয়েন্ট পড়ে ২২,৯২৯.২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বাজারে যদি সোমবারও বড় ধরনের পতন হয়, তবে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে।

এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তও বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের করণীয়

এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

img

৯৪.৭০ শতাংশ পোশাক কারখানায় বোনাস পরিশোধ : বিজিএমইএ

প্রকাশিত :  ০৮:১৬, ২৫ মে ২০২৬

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২ হাজার ১৩৩টি চালু কারখানার মধ্যে ২ হাজার ২১টি পোশাক কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (২৫ মে) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ’র দেয়া তথ্যে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু রয়েছে মোট ২ হাজার ১৩৩টি কারখানা। যার মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৭৯৪টি ও চট্টগ্রামে ৩৪০টি।

এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১১৭টি কারখানা, যা শতকরা ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭৮৩টি ও চট্টগ্রামের ৩৩৪টি কারখানা।

ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে মোট ২ হাজার ২১টি কারখানা, যা শতকরা ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭০৯টি ও চট্টগ্রামের ৩১২টি কারখানা।

এ ছাড়া মে মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করেছে মোট ৭৬৭টি কারখানা, যা শতকরা ৩৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এদিকে, ২৪ মে ঢাকা ছেড়েছে ১০৮টি পোশাক কারখানার কর্মীরা।

২৫ ও ২৬ মে ঢাকা ছাড়বে যথাক্রমে ৬৬৪টি ও ৭৭১টি পোশাক কারখানার কর্মী। আর আগামী ২৭ মে ২৫১টি পোশাক কারখানার কর্মীরা ঢাকা ছাড়বে।