img

টাওয়ার হ্যামলেটসে ভলান্টিয়ারিং ফেয়ার অনুষ্ঠিত: স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে স্বেচ্ছাসেবকদের মিলনমেলা

প্রকাশিত :  ০৮:২৮, ১৫ জুন ২০২৫

টাওয়ার হ্যামলেটসে ভলান্টিয়ারিং ফেয়ার অনুষ্ঠিত: স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে স্বেচ্ছাসেবকদের মিলনমেলা

কমিউনিটির সেবায় অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্য ভলান্টিয়ারিং ফেয়ার বা স্বেচ্ছাসেবী মেলার আয়োজন করেছে  টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ৩ জুন মঙ্গলবার টাউন হলে অনুষ্ঠিত এই জমজমাট ফেয়ারে অংশ গ্রহণ করে ২৫টির বেশি চ্যারিটি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজ সেবা বিষয়ক বিভিন্ন সেক্টরে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে।

টাউন হলের গ্রোসার্স উইংয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ফেয়ার চলে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এতে বারার বিপুলসংখ্যক লোক অংশ নেন। অংশ নেন অনেক তরুণ—তরুণীরাও। তারা ষ্টল ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন। মেলায় আগত চ্যারিটি সংস্থাগুলোর সাথে যুক্ত হতে তাদের আগ্রহের কথা জানান। ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অনেকেই নিজেদের নাম নিবন্ধন করেন।

ভলান্টিয়ার ফেয়ারটি ছিল তিনটি সেশনে বিভক্ত। সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রথম সেশন ছিল নিউরোডাইভারজেন্ট, লার্নিং ডিসঅ্যাবিলিটি বা অটিজম স্পেকট্রাম ডায়াগনোসিসধারী ব্যক্তিদের জন্য। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত সেশন। দুপুর ১টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আরেকটি উন্মুক্ত সেশন।

ফেয়ার উদ্বোধন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের জবস, এন্টারপ্রাইজ, স্কিলস এন্ড গ্রোথ বিষয়ক লিড মেম্বার কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ। এ সময় তিনি বলেন, ভলান্টিয়ার ফেয়ারে প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন। বারার বাসিন্দাদের এই আগ্রহ প্রমান করে, দক্ষতা ও কাজের সক্ষমতা বাড়াতে সুযোগ খুঁজছেন তারা। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল সুযোগটি সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “স্থানীয় চ্যারিটি বা স্বেচ্ছাসেবক সংস্থাগুলোর সাথে যখন বাসিন্দারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন তখন তা তাদের দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি অর্থবহ সম্পর্ক তৈরীতে বিশেষ সহযোগিতা করে থাকে। বারার যে কোনো বয়সের যে কোনো বর্ণের মানুষের জন্যে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ খুঁজে নেওয়ার জন্য একটি উপযুক্ত স্থান হল আমাদের স্বেচ্ছাসেবক মেলা।”  

ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী ভলান্টিয়ার সংগঠনগুলো হলো, অ্যাকশন টিউটরিং, অ্যাডাল্ট লিটারেসি ট্রাস্ট, এইজ ইউকে ইস্ট লন্ডন, বার্নাডোস, ক্যানারি ওয়ার্ফ মাল্টিফেইথ চাপলাইনসি, সেন্টারপয়েন্ট, গ্রিনউইচ এন্ড ডকল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল, হেলথি আইল্যান্ড পার্টনারশীপ, লন্ডন এয়ার এম্বুলেন্স, মোড় লাইফ হোম, পপলার হারকা, পজেটিভ ইস্ট, প্রাক্সিস মাইগ্রান্ট এন্ড রেফুজিজ, প্রভিডেন্স রো, রিড ইজি টাওয়ার হ্যামলেটস, রিয়েল ডিপিও লিমিটেড, সিস্টার সার্কেল, সেন্ট এন চার্চ, সেন্ট জুসেফ হসপিস হেকনি, থাই বক্সিং ফাইটার একাডেমী, দ্যা ফেলিক্স প্রজেক্ট, দ্যা কিডস নেটওয়ার্ক, ট্রাফড ইন জুন ওয়ান, এক্সএলপি, ইয়াং এলিট ম্যানেজমেন্ট, ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটস, ইয়াং বিএনএ, আইডিয়া স্টোর, ওয়ার্কপাথ এবং ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটস।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন মেলায় আগত অনেক অংশগ্রহনকারী। এক ছাদের নিচে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান একসাথে আসায় তাদের পছন্দমত প্রতিষ্ঠান বাচাই করতে সক্ষম হয়েছেন। ভলান্টিয়ারিং সুবিধা সম্পর্কে জানা এবং বুঝা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন ভিজিটররা।

মেলায় অংশগ্রহনকারী চ্যারিটি সংস্থা মোড় লাইফ হোম—এর প্রতিনিধি ক্লারেন গরমেন জানান, “তাদের স্টলে অনেক বাসিন্দারা ভিজিট করেছেন। বেশ কয়েকজন ভলান্টিয়ার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তাদের সংস্থা সম্পর্কে অনেকে খেঁাজ খবর নিয়েছেন। মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলতে পেরে তারা খুবই সন্তষ্ট ও আনন্দিত।”

গত ২ জুন, সোমবার থেকে ৮ জুন রোববার পর্যন্ত সারাদেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় স্বেচ্ছাবেক সপ্তাহ। এ উপলক্ষে টাওয়ার হ্যামলেটস ভলান্টিয়ার সেন্টার এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওয়ার্কপাথ টিম যৌথভাবে স্বেচ্ছাসেবক মেলার আয়োজন করে।

এছাড়াও কাউন্সিল আগামী ১১ জুন ‘কনকোয়ারিং করপোরেট’ শিরোনামে কর্পোরেট স্তরে কাজে আগ্রহীদের জন্যে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। পেশাজীবী হিসেবে কর্পোরেট সেক্টরে কাজ খুঁজতে আগ্রহী বারার বাসিন্দারা তাতে অংশ নিতে পারবেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডন মেয়রের এফোর্ডেবল হাউজিংয়ের কোটা কমানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসসহ ৭ কাউন্সিলের আইনি চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত :  ১৭:১১, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২০, ২৪ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি এবং লুইশাম -লন্ডনের এই তিনটি কাউন্সিল একসাথে মেয়র অব লন্ডনের পরিকল্পিত সাশ্রয়ী আবাসনের (এফোর্ডেবল হাউজিং) কোটা ৩৫% থেকে ২০%-এ কমানোর সিদ্ধান্ত ঠেকাতে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু করেছে।

মোট সাতটি কাউন্সিল এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। এর মধ্যে ল্যাম্বেথ, সাউদার্ক, ওয়ালথাম ফরেস্ট এবং হ্যারিঙ্গে কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি চ্যালেঞ্জের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

হাইকোর্টে দাখিল করা এবং গ্রেটার লন্ডন অথরিটিকে প্রদান করা জুডিশিয়াল রিভিউ (বিচারিক পর্যালোচনা) আবেদনের সাথে সংযুক্ত প্রমাণাদিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, লন্ডনের মেয়রের এই নীতি স্থানীয় কাউন্সিলগুলির তাদের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রায় সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

লন্ডনের সাতটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমর্থনে করা এই আইনি চ্যালেঞ্জটি মূলত মেয়র অব লন্ডন-এর সেই প্রচেষ্টাকে ঘিরে, যেখানে তিনি প্রস্তাবিত লন্ডন প্ল্যানে থাকা বর্তমান ৩৫% সাশ্রয়ী (এফোর্ডেবল) বাসস্থানের কোটা কমাতে চেয়েছেন। কিন্তু এই পরিবর্তনটি করার জন্য যে আইনি বা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা দরকার, তা তিনি ঠিকভাবে অনুসরণ করেননি -এই অভিযোগই এখানে তোলা হয়েছে।

এছাড়াও, নীতিগত এই পরিবর্তনের আগে সঠিক ও ন্যায্য পরামর্শ (কনসালটেশন) করা হয়নি বলেও অভিযোগ আছে। বিশেষ করে, কেন পুরো লন্ডনের সব বরোতে একসাথে সাশ্রয়ী বাসস্থানের হার ২০%-এ নামিয়ে আনা হলো, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি।

এই আইনি চ্যালেঞ্জে যৌথভাবে আবেদনকারী তিনটি কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন নির্বাহী মেয়রগণ, যারা তাঁদের নিজ নিজ বরোতে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৬ সালে লন্ডনের মেয়র ঘোষণা করেছিলেন যে নতুন সব বাড়ির অর্ধেকের বেশি সাশ্রয়ী মূল্যের (এফোর্ডেবল হোম) হতে হবে। কিন্তু এখন সেই কোটা ৩৫% থেকে আরও কমিয়ে ২০% করার পরিকল্পনা লন্ডনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহ, এমপি এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফেডারেশন ও শেল্টারের মতো আবাসন সংস্থাগুলির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। লন্ডনে সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকা ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দশ লাখের বেশি লন্ডনবাসী অতিভীড়পূর্ণ (ওভারক্রাউডিং) বা পোকামাকড়, স্যাঁতসেঁতে ও ছাঁচের মতো অনুপযুক্ত পরিবেশে বসবাস করছেন। লন্ডন কাউন্সিলের অনুমান অনুযায়ী, মোট ১,৮৩,০০০ লন্ডনবাসী (অর্থাৎ শহরের প্রতি ৫০ জন বাসিন্দার মধ্যে একজন) গৃহহীন।

৯০,০০০ শিশু গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী আবাসনে বাস করছে, যা লন্ডনের প্রতি ২১ জন শিশুর মধ্যে ১ জন - অর্থাৎ লন্ডনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কমপক্ষে একজন গৃহহীন শিশু রয়েছে। আবাসন খরচ লন্ডনে শিশু দারিদ্র্যের মূল কারণ। লন্ডনে আবাসন খরচ বাদ দিলে দারিদ্রের হার ১৫% থাকলেও, খরচ অন্তর্ভুক্ত করলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ শতাংশে। ইতিমধ্যেই লন্ডন স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত সংকটের মুখোমুখি, কারণ পরিবারগুলি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমছে, ফলে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে যাচ্ছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেছেন, “সত্যিকারের এফোর্ডেবল হোমস্ বা সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়িঘরের প্রয়োজনীয়তা যখন আগের চেয়ে অনেক বেশি, তখন সেই আবাসনের কোটা কমানো একটি বড় ধরনের অন্যায়। আমাদের শহর দিন দিন সাধারণ লন্ডনবাসীর বসবাস, কাজ করা ও পরিবার গড়ার জায়গা হওয়ার বদলে অতি ধনী মানুষের বিনিয়োগের সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

“সিটি হল (লন্ডন মেয়রের কার্যালয়) দাবি করছে, এই নীতি নির্মাণ সংস্থাগুলোকে দ্রুত বাড়ি তৈরি করতে উৎসাহিত করবে। কিন্তু কার জন্য সেই বাড়ি? সাধারণ লন্ডনবাসী যদি তা কেনার বা ভাড়া নেয়ার সামর্থ্য না রাখে, তাহলে সেসব বাড়ি খালি পড়ে থাকবে। বাস্তবে, বাড়ি নির্মাণের গতি বাড়ানোর বদলে এই নীতিই তা ধীর করে দিচ্ছে। কিছু ডেভেলপার ইতোমধ্যেই তাদের প্রকল্প পিছিয়ে দিচ্ছে, যতক্ষণ না সাশ্রয়ী আবাসনের কোটা ২০%-এ নামানো হচ্ছে।”

মেয়র লুৎফুর রহমান আরও বলেন, “লন্ডন ক্রমেই দুই ভাগে বিভক্ত একটি শহরে পরিণত হচ্ছে। একদিকে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কিনে খালি ফেলে রাখছে, আর অন্যদিকে পরিবারগুলো বছরের পর বছর হাউজিংয়ের অপেক্ষার তালিকায় (ওয়েটিং লিস্ট) পড়ে আছে।

“আমাদের শহরে প্রতি ২০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন গৃহহীন, আর এক মিলিয়নেরও বেশি লন্ডনবাসী ওভারক্রাউডিং বা অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস করছে অথবা স্যাঁতসেঁতে, ছাঁচ ও পোকামাকড়ের মতো মানবিক আবাসনহীন পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “সাতটি কাউন্সিল এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে - এটাই প্রমাণ করে যে এই নীতি পুরো লন্ডনজুড়ে কত বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা লন্ডনের মেয়র এবং গ্রেটার লন্ডন অথরিটির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার জন্য সর্বদা প্রস্তুত, কিন্তু হাজার হাজার লন্ডনবাসীকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা থেকে উৎখাত করে দারিদ্র্য ও গৃহহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার এই পরিস্থিতিতে আমরা নীরব থাকতে পারি না।”

উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান মে মাসের শুরুতে লন্ডনের মেয়রকে চিঠি লিখে প্রস্তাবিত আইনি চ্যালেঞ্জের কথা জানান। পরে হ্যাকনির মেয়র ও লুইশামের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা যৌথভাবে লন্ডনের মেয়রের “সময়-সীমাবদ্ধ পথ” (টাইম লিমিটেড রুট - টিএলআর) নামক “জরুরি” ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচারিক পর্যালোচনার (জুডিশিয়াল রিভিউ) আবেদন করেন। এই ব্যবস্থার ফলে লন্ডনে নতুন নির্মাণ প্রকল্পে সাশ্রয়ী আবাসনের কোটা ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০% করা হয়েছে। এখন এই মামলা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে এবং ল্যাম্বেথ, সাউথওয়ার্ক, ওয়ালথাম ফরেস্ট ও হ্যারিঙ্গি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই চ্যালেঞ্জকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।

হ্যাকনি’র নির্বাহী মেয়র জো গারবেট বলেন, “হ্যাকনির মেয়র হিসেবে আমার লক্ষ্য খুবই স্পষ্টঃ এমন একটি হ্যাকনি গড়ে তোলা, যেখানে আমাদের কমিউনিটির লোকজন বসবাস করার সামর্থ্য রাখেন। কিন্তু যখন ৪০% বাসিন্দা দারিদে্র্যর মধ্যে বসবাস করছে এবং স্থানীয় পরিবারগুলো সোশ্যাল হাউজিং পাওয়ার জন্য সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে, তখন আমাদের জরুরি ভিত্তিতে আরও এফোর্ডেবল সোশ্যাল হোমস অর্থাৎ সামর্থাধীন সামাজিক আবাসন দরকার। 

“এটা নিশ্চিত করতে হলে ডেভেলপারদের অবশ্যই সত্যিকারের সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ করতে হবে, এবং যারা তা করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এর বদলে আমরা দেখছি মেয়র অব লন্ডন ঠিক উল্টো কাজ করছেন - টার্গেট বা লক্ষ্য কমিয়ে দিচ্ছেন, হ্যাকনি বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছেন, এবং ডেভেলপারদের দায়মুক্তি দিচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “লন্ডন মেয়রের চারপাশে এখন আর এমন কোন কাউন্সিল নেই যারা যেকোনো ডেভেলপার-প্রভাবিত সিদ্ধান্তে সায় দেবে। হ্যাকনিতে এখন এমন একজন মেয়র আছেন, যিনি সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য দৃঢ়ভাবে লড়বেন।”

লুইশামের নির্বাহী মেয়র লিয়াম শ্রীভাস্তভ বলেন, “লন্ডন এখন আবাসন সংকটের এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, এবং বেসরকারি ডেভেলপারদেরও এই শহরকে সহায়তা করার দায়িত্ব আছে। হাজার হাজার মানুষ যখন কাউন্সিলের হাউজিং অপেক্ষার তালিকায় রয়েছে, তখন তাদের (ডেভেলপারদের) মুনাফা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে দেওয়া একেবারেই ভুল হবে।

তিনি বলেন, “ডেভেলপারদের যতটা বেশি সম্ভব এফোর্ডেবল হোমস (সাশ্রয়ী ঘর) নির্মাণ করা উচিত; তাদের কম নির্মাণের সুযোগ দিলে পুরো শহর জুড়ে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ লন্ডনবাসীদের বাইরে ঠেলে দেবে।

“আমরা বুঝি যে মেয়র অব লন্ডন একটি স্থবির হাউজিং মার্কেট এবং ভঙ্গুর ডেভেলপার-নির্ভর মডেলের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, কিন্তু তিনি এই পরিবর্তনগুলোর পক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দেননি, যা নিঃসন্দেহে লন্ডনে নির্মিত সাশ্রয়ী ঘরের সংখ্যা কমিয়ে দেবে।

তিনি আরও বলেন, “লুইশামে আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই, বরং আমরা দায়িত্বশীল ডেভেলপারদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা আমাদের কমিউনিটির প্রতি সম্মান দেখায় এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এটি করতে হলে আমাদের পরিকল্পনা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এটি আমাদের কমিউনিটির জন্য প্রয়োজনীয় আরও বেশি সাশ্রয়ী আবাসন কম নয়, বরং আরও বেশি করে সরবরাহে সহায়তা করে।”

কমিউনিটি এর আরও খবর