img

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো স্টারলিংক

প্রকাশিত :  ১১:৫২, ১৮ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৪০, ১৮ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো স্টারলিংক

দুর্গম পাহাড়, চরের জনপদ কিংবা সীমান্তবর্তী ব্রডব্যান্ড-বঞ্চিত এলাকায় ডিজিটাল সংযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’।

আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত স্টারলিংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন স্টারলিংকের ব্যবসা পরিচালনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার এবং আন্তর্জাতিক কৌশল ও সরকারি সম্পর্ক পরিচালক রিচার্ড গ্রিফিথস।

সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও উদ্যোগে বাংলাদেশে স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা দিতে শুরু করেছে। এটি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং আমাদের দেশের ডিজিটাল কাঠামোর জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

প্রায় তিন মাস ধরে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চালানোর পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংক তার সেবা চালু করে। প্রতিষ্ঠানটি বিটিআরসি থেকে ‘স্যাটেলাইট অপারেটর লাইসেন্স’ এবং ‘রেডিও কমিউনিকেশন অ্যাপারেটার্স লাইসেন্স’ পায়, যার বৈধতা ১০ বছর।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্টারলিংকের সেবা নিতে হলে গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে ৪২ হাজার টাকা খরচে একটি সেটআপ কিট কিনতে হবে। এতে থাকবে স্যাটেলাইট রিসিভার ডিস, রাউটার, পাওয়ার সাপ্লাইসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। এরপর গ্রাহকরা মাসিক ভিত্তিতে দুটি প্যাকেজের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।

স্টারলিংকের ঘোষিত দুটি প্যাকেজ হলো— স্টারলিংক রেসিডেন্সিয়াল ও স্টারলিংক লাইট।

রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজের মাসিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার টাকা, যেখানে পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতির আনলিমিটেড ইন্টারনেট। অপরদিকে, স্টারলিংক লাইট প্যাকেজের মূল্য ৪ হাজার ২০০ টাকা, যা অপেক্ষাকৃত কম দামে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দেবে।


img

এনসিপিকে বাড়তি নারী আসন দিচ্ছে জামায়াত

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন

\r\n

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। সেই সাথে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি দাবি করেছে তারা। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির কোটায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি।

এনসিপির একাধিক সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুইজনকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিন। জামায়াতের কাছে আমরা একটি অতিরিক্ত আসন চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেব।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতার ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আমরা প্রার্থিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সময় হলে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি এনসিপি পাবে। জোটের কারণে এনসিপিকে আরও একটি বাড়তি নারী আসন দেওয়া হবে। জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই যুদ্ধে নিহত একজন শিশুর মাকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি।’


জাতীয় এর আরও খবর